ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক শওকত আলী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

শওকত আলীর ছেলে আসিফ শওকত বলেন, বাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এতে তার জ্ঞান ফিরছিল না। চিকিৎসকরা আজ ভোর ৫টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলেন। সেখানে মারা যান তিনি।

গত ৪ জানুয়ারি ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শওকত আলীকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ৬ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) নেয়া হয়।

এদিকে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন তার স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং কবি-সাহিত্যিকরা।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সারাজীবন শিক্ষকতা করে পার করেছেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে রাজধানীর হাটখোলায় নিজ বাসভবনে নিভৃত জীবনযাপন করেন তিনি।

বাঙালি সমাজব্যবস্থার ক্রমপরিবর্তন নিয়ে যে কজন লেখক কাজ করেছেন, শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন দশকে বাঙালি মধ্যবিত্তের চিন্তাধারার পরিবর্তনও উঠে এসেছে তার লেখনীতে। একাধারে লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক শওকত আলী রেখে গেছেন প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন আর পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের মতো কালজয়ী উপন্যাস।

শওকত আলীর কর্মজীবন শুরু ১৯৫৫ সালে দৈনিক মিল্লাতে সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দিনজাপুরের একটি স্কুলে। ১৯৬২ সালে জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন শওকত আলী। এর আগে বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিনে লেখালেখি চালালেও ঢাকায় আসার পর লেখালেখির প্রসার ঘটে তার। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খ্যাতির চুড়ায় উঠেন শওকত আলী। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন। উপন্যাসত্রয়ী দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের জন্য শওকত আলী পেয়েছেন ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার। তার এসব উপন্যাসে মূলত ষাটের দশকে বাঙালি মধ্যবিত্ত এবং সমাজব্যবস্থায় ধ্যান-ধারণা, চিন্তা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ধারা উঠে এসেছে।

সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান শওকত আলী। ১৯৯০ সালে ভূষিত হন একুশে পদকে। বিংশ শতাব্দীতে বাংলা ভাষাভাষি লেখকদের মধ্যে শওকত আলী ছিলেন অন্যতম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক শওকত আলী

আপডেট সময় ০১:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

শওকত আলীর ছেলে আসিফ শওকত বলেন, বাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এতে তার জ্ঞান ফিরছিল না। চিকিৎসকরা আজ ভোর ৫টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলেন। সেখানে মারা যান তিনি।

গত ৪ জানুয়ারি ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শওকত আলীকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ৬ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) নেয়া হয়।

এদিকে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন তার স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং কবি-সাহিত্যিকরা।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সারাজীবন শিক্ষকতা করে পার করেছেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে রাজধানীর হাটখোলায় নিজ বাসভবনে নিভৃত জীবনযাপন করেন তিনি।

বাঙালি সমাজব্যবস্থার ক্রমপরিবর্তন নিয়ে যে কজন লেখক কাজ করেছেন, শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন দশকে বাঙালি মধ্যবিত্তের চিন্তাধারার পরিবর্তনও উঠে এসেছে তার লেখনীতে। একাধারে লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক শওকত আলী রেখে গেছেন প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন আর পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের মতো কালজয়ী উপন্যাস।

শওকত আলীর কর্মজীবন শুরু ১৯৫৫ সালে দৈনিক মিল্লাতে সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দিনজাপুরের একটি স্কুলে। ১৯৬২ সালে জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন শওকত আলী। এর আগে বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিনে লেখালেখি চালালেও ঢাকায় আসার পর লেখালেখির প্রসার ঘটে তার। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খ্যাতির চুড়ায় উঠেন শওকত আলী। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন। উপন্যাসত্রয়ী দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের জন্য শওকত আলী পেয়েছেন ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার। তার এসব উপন্যাসে মূলত ষাটের দশকে বাঙালি মধ্যবিত্ত এবং সমাজব্যবস্থায় ধ্যান-ধারণা, চিন্তা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ধারা উঠে এসেছে।

সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান শওকত আলী। ১৯৯০ সালে ভূষিত হন একুশে পদকে। বিংশ শতাব্দীতে বাংলা ভাষাভাষি লেখকদের মধ্যে শওকত আলী ছিলেন অন্যতম।