ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

কাজী ফারুকের দণ্ড স্থগিত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আদালতের আদেশ অমান্য করায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুক আহমদকে দেয়া হাইকোর্টের এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। বুধবার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার আদালতের আদেশ অমান্য করায় ড. কাজী ফারুক আহমদকে এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। দেওয়ানি কারাদণ্ড দেয়ার ফলে মামলার বিজয়ী পক্ষকে ড. কাজী ফারুক আহমদের জেলে থাকাকালীন সব খরচ বহন করতে বলা হয়। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বারেক চৌধুরী, নুরুল আমীন, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর ও মো. সোলায়মান। কাজী ফারুকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম (অ্যাটর্নি জেনারেল), জেড আই খান পান্না, মাহবুব আলী এমপি, এ এম আমিনউদ্দিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৪ মে সংস্থাটির গভর্নিং বডির এক সভায় চেয়ারম্যান পদ থেকে কাজী ফারুককে অপসারণ করে এম এ ওয়াদুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পরের দিনই অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন কাজী ফারুক।

একই সঙ্গে এম এ ওয়াদুদের কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। এ আবেদন ওই বছরের ৩১ মে খারিজ করে দেন আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে জজ আদালতে আবেদন করেন তিনি। এ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দিলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ১১ আগস্ট রায় দেন। রায়ে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়া হয়।

রায়ে প্রশিকা ভবনে কোনো সমাবেশ বা র‌্যালি না করতে কাজী ফারুকের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে কাজী ফারুক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ এ আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপর ২০১২ সালে আবার প্রশিকা ভবনে অবস্থান নেন কাজী ফারুক। পরে কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত অবমাননার মামলা করেন এম এ ওয়াদুদ। কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে প্রশিকা ভবনে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানের কার্যালয় দখল করে নেয়ার অভিযোগ করা হয়।

এ অবস্থায় আদালত কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে কাজী ফারুককে কেন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে না এবং কেন তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রায় দেন। রায়ে সাত দিনের মধ্যে এম এ ওয়াদুদকে কার্যালয় বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে কাজী ফারুককে সাত দিনের দেওয়ানি কারাদণ্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পাশাপাশি এ আদেশ কার্যকর করে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান কাজী ফারুক। আপিল বিভাগ মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার পুনরায় শুনানি শেষে হাইকোর্ট কাজী ফারুককে এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজী ফারুকের দণ্ড স্থগিত

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আদালতের আদেশ অমান্য করায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুক আহমদকে দেয়া হাইকোর্টের এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। বুধবার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার আদালতের আদেশ অমান্য করায় ড. কাজী ফারুক আহমদকে এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। দেওয়ানি কারাদণ্ড দেয়ার ফলে মামলার বিজয়ী পক্ষকে ড. কাজী ফারুক আহমদের জেলে থাকাকালীন সব খরচ বহন করতে বলা হয়। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বারেক চৌধুরী, নুরুল আমীন, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর ও মো. সোলায়মান। কাজী ফারুকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম (অ্যাটর্নি জেনারেল), জেড আই খান পান্না, মাহবুব আলী এমপি, এ এম আমিনউদ্দিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৪ মে সংস্থাটির গভর্নিং বডির এক সভায় চেয়ারম্যান পদ থেকে কাজী ফারুককে অপসারণ করে এম এ ওয়াদুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পরের দিনই অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন কাজী ফারুক।

একই সঙ্গে এম এ ওয়াদুদের কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। এ আবেদন ওই বছরের ৩১ মে খারিজ করে দেন আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে জজ আদালতে আবেদন করেন তিনি। এ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দিলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ১১ আগস্ট রায় দেন। রায়ে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়া হয়।

রায়ে প্রশিকা ভবনে কোনো সমাবেশ বা র‌্যালি না করতে কাজী ফারুকের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে কাজী ফারুক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ এ আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপর ২০১২ সালে আবার প্রশিকা ভবনে অবস্থান নেন কাজী ফারুক। পরে কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত অবমাননার মামলা করেন এম এ ওয়াদুদ। কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে প্রশিকা ভবনে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানের কার্যালয় দখল করে নেয়ার অভিযোগ করা হয়।

এ অবস্থায় আদালত কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে কাজী ফারুককে কেন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে না এবং কেন তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রায় দেন। রায়ে সাত দিনের মধ্যে এম এ ওয়াদুদকে কার্যালয় বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে কাজী ফারুককে সাত দিনের দেওয়ানি কারাদণ্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পাশাপাশি এ আদেশ কার্যকর করে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান কাজী ফারুক। আপিল বিভাগ মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার পুনরায় শুনানি শেষে হাইকোর্ট কাজী ফারুককে এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন।