ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চারজন বিচারক প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, যেভাবে তিনি আদালত চালাচ্ছেন তা ভারতের গণতন্ত্রকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা এভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা ভারতীয় বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। খবর বিবিসি বাংলার।

সংবাদ সম্মেলনে বিচারকরা বলেছেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি এখন তার ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা পাঠাচ্ছেন। এটি আদালতের নিয়মকানুনের লংঘন। তারা আরও বলেছেন, আদালতের নিয়মকানুন যদি মানা না হয় তাহলে ভারতে গণতন্ত্র টিকবে না।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না। বিচারক যেভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেটিও এক নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে কখনোই বিচারকরা সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি যাতে করে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনায় তাদের নিরপেক্ষতা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। ভারতের বিচার বিভাগকে ঘিরে তৈরি এই অভূতপূর্ব সংকটের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই চার ক্ষুব্ধ বিচারক একটি চিঠিও বিলি করেছেন যেটি তারা এর আগে প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছিলেন। চিঠিতে তারা বেশকিছু বিচারিক নির্দেশের ব্যাপারে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, এর ফলে ভারতে বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।

তারা বলেন, যেসব মামলার ফল ভারতের রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, প্রধান বিচারপতি সেসব মামলা বেছে বেছে তার পছন্দসই কিছু বেঞ্চে পাঠান।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কাছে এসব বিষয়ে বারবার তাদের উদ্বেগ তুলে ধরার পরও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করে এই চারজন বলছেন, এরপর জাতির সামনে হাজির হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

কোন কোন মামলা এভাবে প্রধান বিচারপতি তার পছন্দসই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন সেটি তারা উল্লেখ করেননি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টি এর একটি। গত বছরের আগস্টে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতর চলতে থাকা এই টানাপোড়েন প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

আপডেট সময় ১২:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চারজন বিচারক প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, যেভাবে তিনি আদালত চালাচ্ছেন তা ভারতের গণতন্ত্রকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা এভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা ভারতীয় বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। খবর বিবিসি বাংলার।

সংবাদ সম্মেলনে বিচারকরা বলেছেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি এখন তার ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা পাঠাচ্ছেন। এটি আদালতের নিয়মকানুনের লংঘন। তারা আরও বলেছেন, আদালতের নিয়মকানুন যদি মানা না হয় তাহলে ভারতে গণতন্ত্র টিকবে না।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না। বিচারক যেভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেটিও এক নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে কখনোই বিচারকরা সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি যাতে করে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনায় তাদের নিরপেক্ষতা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। ভারতের বিচার বিভাগকে ঘিরে তৈরি এই অভূতপূর্ব সংকটের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই চার ক্ষুব্ধ বিচারক একটি চিঠিও বিলি করেছেন যেটি তারা এর আগে প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছিলেন। চিঠিতে তারা বেশকিছু বিচারিক নির্দেশের ব্যাপারে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, এর ফলে ভারতে বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।

তারা বলেন, যেসব মামলার ফল ভারতের রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, প্রধান বিচারপতি সেসব মামলা বেছে বেছে তার পছন্দসই কিছু বেঞ্চে পাঠান।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কাছে এসব বিষয়ে বারবার তাদের উদ্বেগ তুলে ধরার পরও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করে এই চারজন বলছেন, এরপর জাতির সামনে হাজির হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

কোন কোন মামলা এভাবে প্রধান বিচারপতি তার পছন্দসই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন সেটি তারা উল্লেখ করেননি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টি এর একটি। গত বছরের আগস্টে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতর চলতে থাকা এই টানাপোড়েন প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।