ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ঢাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে না

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমতা ও সমন্বয়ের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়েছিল রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন, তা থেকে সরে এসেছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দুটি। পুনর্মূল্যায়িত হোল্ডিং ট্যাক্স স্থগিত করে দেশের সব সিটি করপোরেশনকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই চিঠি হাতে পাওয়ার পর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো বা সমতা আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফলে বর্তমানে রাজধানীর বাড়ির মালিকদের আর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে না। আগের হিসাবেই হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারবেন তারা। তবে এতে সিটি করপোরেশন দুটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কেননা, পুনর্মূল্যায়িত হোল্ডিং ট্যাক্স বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সিটি করপোরেশনগুলো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা খান মোহম্মাদ বিলাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র কর্মকার দৈনিক আকাশকে চিঠির তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য কিছুদিন আগে বাড়ির মালিকদের চিঠি দিয়েছিল উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর পর থেকেই বাড়িওয়ালারা বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের আগে ঢাকা চট্টগ্রাম মহানগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোয় জাতীয় সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা।

ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যরা হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন সংসদে। তাদের মতে, হঠাৎ করে হোল্ডিং ট্যাক্স এত বেশি বাড়ালে তা মানুষ গ্রহণ করবে না। নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ভোটের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ মকরেন সংসদে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ এ কার্যক্রম চালু করতে পারবে না।

ভবিষ্যতে অনলাইনভিত্তিক অটোমেশন পদ্ধতিতে কর আদায় করা হবে বলে জানানো হয় চিঠিতে। সব সিটি করপোরেশনের মেয়র যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। গৃহকর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় সরকার এ কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেক করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা খান মোহম্মাদ বিলাল দৈনিক আকাশকে চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চিঠি হাতে পাওয়ার পর হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছি। ফলে বাসা মালিকেরা আগের নিয়ম অনুয়ায়ীই হোল্ডিং ট্যাক্স জমা করতে পারবেন।’

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র শ্রী কর্মকার দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু না হওয়া পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। আসলে অনলাইনে বা অটোমেশন পদ্ধতিতে ট্যাক্স আদায় করলে ব্যাপক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তাই নির্দেশনা অনুযায়ী আপাতত হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনছি না।’

হোল্ডিং ট্যাক্স সমন্বয়ের সময় দুই সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, গত ২৭ বছর ধরে রাজধানীর বাড়ির মালিকেরা অসমভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতেন। মূলত অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন ১৯৮৯-৯০ সালে সাধারণ করহার নির্ধারণ করে। এরপর ২০০৩ এবং ২০০৮ সালের পর নিবন্ধিত নতুন বাড়ির মালিকদের সেই সময়ের ভাড়ার মূল্য অনুযায়ী বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু ২০০৩ সালের আগে নিবন্ধন পাওয়া বাড়ির মালিকেরা ১৯৮৯ সালের বাড়ি ভাড়ার মূল্য অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিলেন। সিটি করপোরেশন বর্তমান বাড়ি ভাড়া বিবেচনায় নিয়ে সব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনতে চেয়েছিল।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৫০০ কোটি টাকা এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৪৮০ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বর্তমান বাসা ভাড়া বিবেচনায় নিয়ে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স পূনর্মূ্ল্যায়ন স্থগিত হওয়ায় রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে এখন সংশয়ে দুই সিটি করপোরেশন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে না

আপডেট সময় ১০:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমতা ও সমন্বয়ের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়েছিল রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন, তা থেকে সরে এসেছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দুটি। পুনর্মূল্যায়িত হোল্ডিং ট্যাক্স স্থগিত করে দেশের সব সিটি করপোরেশনকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই চিঠি হাতে পাওয়ার পর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো বা সমতা আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফলে বর্তমানে রাজধানীর বাড়ির মালিকদের আর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে না। আগের হিসাবেই হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারবেন তারা। তবে এতে সিটি করপোরেশন দুটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কেননা, পুনর্মূল্যায়িত হোল্ডিং ট্যাক্স বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সিটি করপোরেশনগুলো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা খান মোহম্মাদ বিলাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র কর্মকার দৈনিক আকাশকে চিঠির তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য কিছুদিন আগে বাড়ির মালিকদের চিঠি দিয়েছিল উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর পর থেকেই বাড়িওয়ালারা বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের আগে ঢাকা চট্টগ্রাম মহানগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোয় জাতীয় সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা।

ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যরা হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন সংসদে। তাদের মতে, হঠাৎ করে হোল্ডিং ট্যাক্স এত বেশি বাড়ালে তা মানুষ গ্রহণ করবে না। নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ভোটের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ মকরেন সংসদে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ এ কার্যক্রম চালু করতে পারবে না।

ভবিষ্যতে অনলাইনভিত্তিক অটোমেশন পদ্ধতিতে কর আদায় করা হবে বলে জানানো হয় চিঠিতে। সব সিটি করপোরেশনের মেয়র যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। গৃহকর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় সরকার এ কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেক করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা খান মোহম্মাদ বিলাল দৈনিক আকাশকে চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চিঠি হাতে পাওয়ার পর হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছি। ফলে বাসা মালিকেরা আগের নিয়ম অনুয়ায়ীই হোল্ডিং ট্যাক্স জমা করতে পারবেন।’

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র শ্রী কর্মকার দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু না হওয়া পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। আসলে অনলাইনে বা অটোমেশন পদ্ধতিতে ট্যাক্স আদায় করলে ব্যাপক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তাই নির্দেশনা অনুযায়ী আপাতত হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনছি না।’

হোল্ডিং ট্যাক্স সমন্বয়ের সময় দুই সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, গত ২৭ বছর ধরে রাজধানীর বাড়ির মালিকেরা অসমভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতেন। মূলত অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন ১৯৮৯-৯০ সালে সাধারণ করহার নির্ধারণ করে। এরপর ২০০৩ এবং ২০০৮ সালের পর নিবন্ধিত নতুন বাড়ির মালিকদের সেই সময়ের ভাড়ার মূল্য অনুযায়ী বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু ২০০৩ সালের আগে নিবন্ধন পাওয়া বাড়ির মালিকেরা ১৯৮৯ সালের বাড়ি ভাড়ার মূল্য অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিলেন। সিটি করপোরেশন বর্তমান বাড়ি ভাড়া বিবেচনায় নিয়ে সব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্সে সমতা আনতে চেয়েছিল।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৫০০ কোটি টাকা এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৪৮০ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বর্তমান বাসা ভাড়া বিবেচনায় নিয়ে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স পূনর্মূ্ল্যায়ন স্থগিত হওয়ায় রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে এখন সংশয়ে দুই সিটি করপোরেশন।