অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মিয়ানমারের সেনা অভিযানে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্য, প্রজননসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উইমেন্স হিউম্যানিটেরিয়ান প্লাটফর্ম (বিডব্লিউএইচপি)। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মানবিক বিপর্যয় ও রোহিঙ্গা’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলন এ সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে গত ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ উইমেন্স হিউম্যানিটেরিয়ান প্লাটফর্ম কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী ১ ও ২ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় সংগৃহীত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন আয়েশা ফাউন্ডেশনের মমতাজ খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে মমতাজ খাতুন বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে সাধারণ মানুষের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন ও সহিংসতার কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই নারী ও শিশু। বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার গর্ভবতী নারী এরই মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন এবং বর্তমানে অনেকে গর্ভবতী।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় যে কজন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগই গর্ভবতী বলে জানান মমতাজ খাতুন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অন্যান্য মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রায় ১১৮টি সংগঠন এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা কত দিন এই সেবা দিতে পারবে কিংবা কতটুকু সক্ষমতা আছে সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী নারী ও কিশোরীদের শারীরিক, মানসিকসহ সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ উইমেন্স হিউম্যানিটেরিয়ান প্লাটফর্ম’ রোহিঙ্গা ত্রাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কিছু সুপারিশ উপস্থান করে সংবাদ সম্মেলনে।
বিডব্লিউএইচপির সুপারিশ
আশ্রয় শিবিরে অবস্থানরত একটি বড় অংশ নারী হলেও তাদের তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঝিগণ পুরুষ। তাই নারী মাঝি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি, পয়োনিষ্কাশন, শিশুর খাদ্য, প্রজননস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন।
ঝুঁকিপূর্ণ রোগসমূহ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহসহ টিকাদান কর্মসূচি জোরদারকরণ। আশ্রয়শিবিরে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা। জরুরি পরিস্থিতিতে মানবসক্ষমতা উন্নয়নে জীবন দক্ষতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক দূরত্ব ও প্রবেশগম্যতা বিবেচনায় নারীবান্ধব সেবাকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
মনোসামাজিক পরামর্শ প্রদানের কার্যক্রমের ওপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করা। ত্রাণকাজে অধিক সংখ্যক নারীকর্মী অন্তর্ভুক্ত করা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















