ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মৃত্যুদন্ডের বিল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান সহ একাধিক রাজনীতিবিদ দেশটির পার্লামেন্টে সন্ত্রাসীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- দিয়ে একটি বিল উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ইসরায়েলে সর্বশেষ মৃত্যুদ- দেওয়া হয় ১৯৬১ সালে নাজি যুদ্ধাপরাধী এডলফ আইখম্যানকে এবং এক বছর পর তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বাড়ছে তা দমন করতেই এধরনের বিল আনা হচ্ছে দেশটির পার্লামেন্টে। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরো উস্কে দেবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। টাইমস অব ইসরায়েল/মিডিল ইস্ট আই

গত রোববার ইসরায়েলের রাজনীতিবিদরা পার্লামেন্টে এধরনের বিল উপস্থাপনের জন্যে একমত হন। এ বিলে সন্ত্রাসীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- প্রদানের কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের ভূমি জবরদখল ও তার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করলে তা ইসরায়েলের সরকার ও প্রশাসন সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান তার দল ইসরায়েল বেইতেনু’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ বিলের কথা জানান। যদিও আভিদগরের বিবৃতিতে শব্দগুচ্ছ স্পষ্ট ছিল না তবে তার অতীতের বক্তব্য থেকে এটা পরিস্কার সন্ত্রাস বলতে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভকেই বুঝাচ্ছেন।

হিব্রু ভাষায় দেওয়া ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলের কোয়ালিশন সরকারের নেতারা সন্ত্রাসের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-কেই চূড়ান্ত করে বিল সংসদে উপস্থাপনে একমত হয়েছেন। ইসরায়েলের সরকারে ৬টি রাজনৈতিক দলের কোয়ালিশন শাসনভার পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, এ আইনটি খুবই পরিস্কার এবং তা হচ্ছে যে সব সন্ত্রাসী সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তাদের মৃত্যুদ-ই হওয়া উচিত।

লিবারম্যানের এ বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মৃত্যুদ-ের বিলটি পাশ হলে তা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের জন্যে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে আটক শত শত শিশু ও তরুণদের রাজনৈতিক সমঝোতা বা বন্দী বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে ইসরায়েলী সেনা গিলাদ শালিতকে ১ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। গাজায় গিলাদকে অপহরণের ৫ বছর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুদ- বিল ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পাশ হলে এধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলী প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের কারাগারে বসে পরিস্থিতি ভোগ করার পর তাদের মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ দিতে পারি না।

তবে ইসরায়েলী সাংসদ ন্যাকম্যান শাই যিনি জায়োনিস্ট ইউনিয়ন ও পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য তিনি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের পক্ষে নন। তিনি বলেন, মৃত্যুদ- বরং সন্ত্রাসীকে মহানায়কে পরিণত করে। মৃত্যুদ- দেওয়ার মত অনেক সন্ত্রাসী ইতিহাসে ছিল যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে তা কার্যকর করা হয়নি। সভ্যজগতে যাবজ্জীবন কারাদ- দিলেও কারো মৃত্যুদ- আমরা দিতে পারি না। বরং মৃত্যুদ- দিলে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। কোয়ালিশন সরকার তার অস্তিত্বের জন্যেই এধরনের মৃত্যুদন্ডের বিল আনছে।

মৃত্যুদ-ের বিধি কবে ইসরায়েরের সংসদে উত্থাপন হবে সে তারিখ জানা যায়নি তবে এ বিল পাশ হলেও সুপ্রিম কোর্ট তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা শাসনে মৃতুদ-ের বিধি থাকলেও খুব কমই তা কার্যকর হয়ে থাকে। মানবতা ও দেশদ্রোহের জন্যে এধরনের মৃদ্যুদ- দেওয়ার বিধান থাকলেও তা ১৯৬১ সালে নাজি যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকরের পর আর কখনো কার্যকর হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মৃত্যুদন্ডের বিল

আপডেট সময় ১১:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান সহ একাধিক রাজনীতিবিদ দেশটির পার্লামেন্টে সন্ত্রাসীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- দিয়ে একটি বিল উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ইসরায়েলে সর্বশেষ মৃত্যুদ- দেওয়া হয় ১৯৬১ সালে নাজি যুদ্ধাপরাধী এডলফ আইখম্যানকে এবং এক বছর পর তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বাড়ছে তা দমন করতেই এধরনের বিল আনা হচ্ছে দেশটির পার্লামেন্টে। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরো উস্কে দেবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। টাইমস অব ইসরায়েল/মিডিল ইস্ট আই

গত রোববার ইসরায়েলের রাজনীতিবিদরা পার্লামেন্টে এধরনের বিল উপস্থাপনের জন্যে একমত হন। এ বিলে সন্ত্রাসীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- প্রদানের কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের ভূমি জবরদখল ও তার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করলে তা ইসরায়েলের সরকার ও প্রশাসন সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান তার দল ইসরায়েল বেইতেনু’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ বিলের কথা জানান। যদিও আভিদগরের বিবৃতিতে শব্দগুচ্ছ স্পষ্ট ছিল না তবে তার অতীতের বক্তব্য থেকে এটা পরিস্কার সন্ত্রাস বলতে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভকেই বুঝাচ্ছেন।

হিব্রু ভাষায় দেওয়া ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলের কোয়ালিশন সরকারের নেতারা সন্ত্রাসের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-কেই চূড়ান্ত করে বিল সংসদে উপস্থাপনে একমত হয়েছেন। ইসরায়েলের সরকারে ৬টি রাজনৈতিক দলের কোয়ালিশন শাসনভার পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, এ আইনটি খুবই পরিস্কার এবং তা হচ্ছে যে সব সন্ত্রাসী সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তাদের মৃত্যুদ-ই হওয়া উচিত।

লিবারম্যানের এ বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মৃত্যুদ-ের বিলটি পাশ হলে তা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের জন্যে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে আটক শত শত শিশু ও তরুণদের রাজনৈতিক সমঝোতা বা বন্দী বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে ইসরায়েলী সেনা গিলাদ শালিতকে ১ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। গাজায় গিলাদকে অপহরণের ৫ বছর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুদ- বিল ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পাশ হলে এধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলী প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের কারাগারে বসে পরিস্থিতি ভোগ করার পর তাদের মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ দিতে পারি না।

তবে ইসরায়েলী সাংসদ ন্যাকম্যান শাই যিনি জায়োনিস্ট ইউনিয়ন ও পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য তিনি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের পক্ষে নন। তিনি বলেন, মৃত্যুদ- বরং সন্ত্রাসীকে মহানায়কে পরিণত করে। মৃত্যুদ- দেওয়ার মত অনেক সন্ত্রাসী ইতিহাসে ছিল যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে তা কার্যকর করা হয়নি। সভ্যজগতে যাবজ্জীবন কারাদ- দিলেও কারো মৃত্যুদ- আমরা দিতে পারি না। বরং মৃত্যুদ- দিলে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। কোয়ালিশন সরকার তার অস্তিত্বের জন্যেই এধরনের মৃত্যুদন্ডের বিল আনছে।

মৃত্যুদ-ের বিধি কবে ইসরায়েরের সংসদে উত্থাপন হবে সে তারিখ জানা যায়নি তবে এ বিল পাশ হলেও সুপ্রিম কোর্ট তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা শাসনে মৃতুদ-ের বিধি থাকলেও খুব কমই তা কার্যকর হয়ে থাকে। মানবতা ও দেশদ্রোহের জন্যে এধরনের মৃদ্যুদ- দেওয়ার বিধান থাকলেও তা ১৯৬১ সালে নাজি যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকরের পর আর কখনো কার্যকর হয়নি।