আকাশ ইতিহাস ডেস্ক:
আজ (সোমবার) ১৮ ডিসেম্বর’ ২০১৭
(বিশ্ব অভিবাসী দিবস)
ন্যায্য অধিকার, আবাসিক মর্যাদা, জাতীয়তাবাদের বৈষম্য অবসানে ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব অভিবাসী দিবস। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে অভিবাসন ইসু’।
প্রকৃতির ইশারাতেই এক এক অঞ্চল একেক ভাবে সম্পদের অধিকারী হয়েছে। কোনো কোনো দেশ হয়েছে ধনী-কোনো কোনো দেশ দরিদ্র। কোনো কোনো দেশের সম্পদ থাকে উদ্ধৃত্ত। কোনো কোনো দেশে ঘাটতি। কোথাও কর্মসংস্থানের অফুরন্ত সুযোগ। কোথাও বেকারত্বে মানুষ জর্জরিত। এটি স্বাভাবিক কর্মসংস্থানের খোজে এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে ছুটে যায়। গড়ে তুলে নতুন আবাসিক ঠিকানা। জীবনের তাগিদে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে অবস্থান করলেও সে এই পৃথিবীরই একজন মানুষ। মানুষ হিসেবে তার অধিকার জাতীয়তা বা আবাসিক মর্যাদার কারণে বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। আর তাই জাতিসংঘের আহবান হচ্ছে, অভিবাসী শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদেরও অধিকার আছে।
তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি সনদ গৃহীত হয়েছিলো। এই সনদ অনুযায়ী সব মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমমর্যাদা ও অধিকারের দাবিদার। ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা বা আবাসিক মর্যাদার ভিত্তিতে মানুষে মানুষে কোন মৌলিক বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে না। এই সনদের ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ৮ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সাধারণ পরিষদের ৫৫তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে বিশ্ব অভিবাসী দিবস ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ২০০০ সালে প্রথম বিশ্ব অভিবাসী দিবস পালন করে।
বর্তমানে সারা বিশ্বে ভালো কাজ এবং উন্নত জীবন ব্যবস্থার খোজে কোটি কোটি মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছে। এসব দেশে তারা নানাভাবে শিকার হচ্ছে বঞ্চনা, শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্যের । কোনো কোনো দেশের কারাগারে বহু বাংলাদেশী মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরাও মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লংঘনের শিকার। সুতরাং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর।
১৯৪০ সালের এ দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক এডলফ হিটলার রাশিয়া আক্রমণের গোপন নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। রাশিয়া আক্রমণের এই সামরিক পরিকল্পনার নাম ছিলো অপারেশন বারবারোসা। তবে এটা কার্যকর করা হয়েছিলো ১৯৪১ সালের ২২ জুন। হিটলার রুশ এই সেনা অভিযান সম্পর্কে বলেছিলেন, এই আক্রমণ এতোই ভয়াবহ হবে যে বিশ্ব শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তা প্রত্যক্ষ করবে। ১৯৪০ সালের আগষ্ট মাসে প্রথম রুশ আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিলো।
এই পরিকল্পনা মোতাবেক রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি হামলা চালানো হবে কিয়েভের উপর। জার্মানীর হামলা তালিকায় লেলিনগ্রাদ এবং মোলদাভিয়ার নামও রাখা হয়েছিলো। তবে পরে এই পরিকল্পনার নানা রদ-বদল করা হয়ে এবং হিটলার তা চূড়ান্ত করে।
হিটলার ও তার মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে চূড়ান্ত হামলা চালিয়েছিলো তাতে ত্রিশ লক্ষ সৈন্য, ৩৫৮০টি ট্যাংক, ৭১৮৪টি কামান, ১৮৩০টি বিমান এবং সাড়ে সাত লক্ষ ঘোড়া অংশ গ্রহণ করেছিলো। যুদ্ধের ইতিহাসে এর আগে এত বিশাল সামরিক অভিযান আর চালানো হয় নি। অন্যদিকে রাশিয়া নিজের প্রতিরক্ষার জন্য ১৩২টি ডিভিশন সৈন্য সহ ৩৪টি সাজোয়া ডিভিশন মোতায়েন করতে পেরেছিলো।
১৯৪১ সালের এ দিনে জাপান হংকংয়ে আগ্রাসন চালিয়েছিলো। হংকং সে সময় বৃটেনের একটি উপনিবেশ ছিলো। এই আগ্রাসন চালানোর জন্য হংকংয়ের উপর এক সপ্তা ধরে বিমান হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া চূড়ান্ত হামলা চালানোর আগের দিন অর্থাৎ ১৭ই ডিসেম্বর জাপানের দূত হংকংয়ের তৎকালীন বৃটিশ গর্ভনরের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং হংকংয়ে অবস্থিত বৃটিশ বাহিনীকে আত্মসমর্পনের আহবান জানান। তিনি বলেন, জাপানি বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে জানান। হংকংয়ের উপর হামলা শুরু করার পরপরই জাপানি হংকংয়ের গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো দখল করে নেয় এবং এরপর বৃটিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বৃটিশ বাহিনী শেষ পর্যন্ত খৃষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের দিনটিতে আত্মসমর্পণ করে।
১৯১৬ সালের এ দিনে দীর্ঘ দশ মাস লড়াইয়ের পর ভার্দুন যুদ্ধের অবসান ঘটেছিলো। প্রথম মহাযুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিখা বা ট্রেঞ্চ যুদ্ধ হয়েছিলো ফ্রান্সের ভার্দুন রণাঙ্গণে। এই যু্দ্েধ সম্মিলিত ভাবে জার্মান এবং ফরাসি উভয় পক্ষের প্রায় দশ লক্ষ হতাহত হয়েছিলো। জার্মান বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিলো।
যুদ্ধের প্রথম থেকেই দু’পক্ষের হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। লড়াইয়ের প্রথম দিকে জার্মান বাহিনী খানিক জয় লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে একটি অচলাবস্থা দেখা দেয়। জার্মান এবং ফরাসি উভয় পক্ষের ব্যাপক রক্তক্ষয় হলেও কোনো পক্ষই যুদ্ধে আর বিজয় অর্জন করতে পারে নি। তবে যুদ্ধ যতই প্রলম্বিত হতে থাকে ততই জার্মানির জন্য তা ক্ষতিকারক হিসেবে প্রমাণিত হতে থাকে।
যুদ্ধের শেষের দিকে অবশ্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ফরাসি বাহিনী তাদের হারানো স্থানের সবই প্রায় আবার দখল করতে পারে। ভার্দুন ফ্রন্টে যুদ্ধের শেষ তিন দিনে তারা ১১ হাজার জার্মান সৈন্যকে বন্দি করতে পেরেছিলো। আর এ পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানী শেষ পর্যন্ত ভার্দুনে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়।
১৮৬৫ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দাস প্রথার বিলোপ করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তিন চুতুর্থাংশ অঙ্গরাজ্য দাস প্রথা বিলোপের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছিলো। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ১৩ তম সংশোধনী আনা হয় এবং দাস প্রথাকে বিলোপ করা হয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে মার্কিন গৃহযুদ্ধের আগে আব্রাহাম লিংকন সহ তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের অনান্য নেতারা দাস প্রথার পূর্ণ বিলোপ ঘটাতে চাননি। বরং তারা চেয়েছিলেন, নতুন কোনো অঙ্গরাজ্যে যেনো এই প্রথার বিস্তার না ঘটে। দাস প্রথা মার্কিন গৃহযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিলো এবং গৃহযুদ্ধের শুরু হওয়ার পর লিংকনের এই দৃষ্টিভংগির পরিবর্তন ঘটেছিলো।
১৯১৪ সালের এ দিনে বৃটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে মিসরকে নিজেদের উপনিবেশের অর্ন্তভুক্ত করে নেয়। এখানে বলা যেতে পারে প্রথম মহাযুদ্ধের সময় ওসমানিয় খেলাফত বৃটিশ বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ জার্মানি এবং অষ্ট্রিয়ার সাথে জোট বেঁধেছিলো। মিসর সে সময় ওসমানিয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। বৃটিশরা এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মিসর দখল করে নেয় এবং নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করে। তবে স্বাধীনতাকামী মিসরের জনগণের সংগ্রামের মুখে ১৯২২ সালে বৃটিশরা মিসরকে স্বাধীনতা প্রদান করতে বাধ্য হয়।
- তৈমুর লং এর দিল্লী জয় (১৩৯৮)
- বাংলার লোককাহিনীর প্রথম সংগ্রাহক রেভারেন্ড লালবিহারীদের জন্ম (১৮২৪)
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথার বিলোপ সাধন (১৮৬৫)
- মার্কিন কংগ্রেসে অশিক্ষিত অভিবাসী প্রবেশ নিষিদ্ধ আইন পাস (১৯১২)
- ব্রিটেনে খুনের জন্যে মৃত্যুদন্ডে বিধান রহিত (১৯৬৯)
- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উদ্বোধন (১৯৭২)
- লোক সাহিত্যের গবেষক সিরাজুদ্দিন কাসিমপুরীর মৃত্যু (১৯৭৯)
- পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের মৃত্যু (১৯৮৩)
- স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন (১৯৯৯)
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















