ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে: ড. বদিউল আলম ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ‘ভারতে গিয়ে খেলার পরিবেশ নেই বাংলাদেশের :আসিফ নজরুল ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’: আব্বাস আরাঘচি চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য কাইয়ুম হত্যা মামলায়, ১০ জনের যাবজ্জীবন ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ, দুই ভাইসহ নিহত ৩ দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান

জলবিদ্যুৎ নিয়ে ৩ দেশের মধ্যে সমঝোতা শিগগিরই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানে মধ্যে জলবিদ্যুৎ নিয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ভারতের সহযোগিতায় ভুটানে এক হাজার ২২৫ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমবিনিয়োগের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমত, তিন দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর তিন দেশ নির্ধারণ করবে তাদের কোন কোন কোম্পানি এখানে কাজ করবে। সেই তিনটি কোম্পানি মিলে যৌথ মূলধনি কোম্পানি গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ভারতের আইন নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে ভারতকে তাদের গাইডলাইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এতে নতুন বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভুটানে ২৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা সম্ভব। কারণ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋতুতে পার্থক্য রয়েছে। গ্রীষ্মে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ভুটানে শীতকাল থাকায় সেখানে চাহিদা কম থাকে। আবার বাংলাদেশে শীতকালে যখন চাহিদা কমে যায়, ভুটানে তখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ। তাই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের চাহিদা বেশি থাকার সময় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই ভুটান থেকে আনা যাবে। আবার শীতকালে আমাদের চাহিদা কম থাকলে তখন এই বিদ্যুৎ ভুটানই ব্যবহার করতে পারবে।

এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত চুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকেই হতে পারে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই এই চুক্তির সম্ভাবনা আছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই এই চুক্তি হতে পারে।’

জানা গেছে, ভুটান বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে এই উৎপাদন কমে যায় ২৮৮ মেগাওয়াট। ভুটানের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ভারতীয় অনুদান ও ঋণে নির্মিত। এ কারণে ভারত কম দামে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভুটান। এর সবটাই আমদানি করবে ভারত। এরই মধ্যে ভারতের সহযোগিতায় ছয় হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভুটানে। ২০১৯ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে আরও তিনটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর বাইরে আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জলশক্তি রয়েছে দেশটির।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

জলবিদ্যুৎ নিয়ে ৩ দেশের মধ্যে সমঝোতা শিগগিরই

আপডেট সময় ১২:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানে মধ্যে জলবিদ্যুৎ নিয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ভারতের সহযোগিতায় ভুটানে এক হাজার ২২৫ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমবিনিয়োগের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমত, তিন দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর তিন দেশ নির্ধারণ করবে তাদের কোন কোন কোম্পানি এখানে কাজ করবে। সেই তিনটি কোম্পানি মিলে যৌথ মূলধনি কোম্পানি গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ভারতের আইন নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে ভারতকে তাদের গাইডলাইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এতে নতুন বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভুটানে ২৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা সম্ভব। কারণ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋতুতে পার্থক্য রয়েছে। গ্রীষ্মে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ভুটানে শীতকাল থাকায় সেখানে চাহিদা কম থাকে। আবার বাংলাদেশে শীতকালে যখন চাহিদা কমে যায়, ভুটানে তখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ। তাই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের চাহিদা বেশি থাকার সময় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই ভুটান থেকে আনা যাবে। আবার শীতকালে আমাদের চাহিদা কম থাকলে তখন এই বিদ্যুৎ ভুটানই ব্যবহার করতে পারবে।

এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত চুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকেই হতে পারে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই এই চুক্তির সম্ভাবনা আছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই এই চুক্তি হতে পারে।’

জানা গেছে, ভুটান বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে এই উৎপাদন কমে যায় ২৮৮ মেগাওয়াট। ভুটানের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ভারতীয় অনুদান ও ঋণে নির্মিত। এ কারণে ভারত কম দামে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভুটান। এর সবটাই আমদানি করবে ভারত। এরই মধ্যে ভারতের সহযোগিতায় ছয় হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভুটানে। ২০১৯ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে আরও তিনটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর বাইরে আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জলশক্তি রয়েছে দেশটির।