ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ইতিহাসের এই দিনে, ১৬ ডিসেম্বর

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

আজ (শনিবার) ১৬ ডিসেম্বর’২০১৭

(মহান বিজয় দিবস)
১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে একটি উজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এ মহান দিনটিতে আমরা হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করি। এ কারণেই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। বাংলাদেশের মাটি থেকে হানাদার বাহিনীকে নির্মুল করার জন্য এ দিবসটির গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে এ দেশটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। আর এ দেশের শাসকরা ছিলো অবাঙালি । ১৯৪৭ সালে পূর্ববাংলা স্বাধীনতা লাভ করলেও এ অঞ্চলের মানুষ ছিলো নিগৃহীত ও নির্যাতিত। পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ববাংলার মানুষকে ভালো চোখে দেখতো না এমনকি তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে কেড়ে নেবার ফন্দি এঁটেছিলো। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা যথাযথ মর্যাদা লাভ করে। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির বিপুল বিজয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ আরো সুগম হয়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির কাছে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। এ অবস্থায় ’৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়াদী উদ্যানের এক মহাসমাবেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান জানান। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানিরাও তাদের দমননীতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গোটা দেশে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে যায়। আর পাকিস্তানি স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতির ওপর । তাদের এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিকে হত্যা ও নির্যাতন করে তাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে বিনষ্ট করা। পাকিস্তান বাহিনীর সৈন্যরা প্রথম আঘাত হানে ছাত্র-শিক্ষক, রাজনীতিক, শ্রমিক, পুলিশ, আনসার, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙালি জোয়ানসহ সর্বসাধারণের ওপর। প্রথম দিনের হামলায় তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত বাঙালিকে হত্যা করে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। সে এক অমানবিক বর্বরতার কাহিনী । এ পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান। তার এ ঘোষণায় বাঙালি প্রাণ ফিরে পায় । সংগঠিত হয় বাঙালি সৈনিকরা।

দেশকে স্বাধীন করা এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্যে কর্নেল (অবঃ) আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়। শত্রুকবলিত এলাকাকে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে, নৌ অঞ্চল বাদে বাকি ১০টি অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয় এক একজন অধিনায়কের ওপর। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী ও গোপালগঞ্জের হেমায়েত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারাও এ যুদ্ধে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। পুরো ৯টি মাস যুদ্ধ চলে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি নরঘাতকেরা সোহরাওয়াদী উদ্যানে সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান জেনারেল আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করে পরাজয়বরণ করে নেয়। আমরা হই বিজয়ী । এই মহান বিজয়ের পেছনে ছিল ভারত, রাশিয়া, পোল্যান্ডসহ বিশ্বের মানবতাবাদী দেশসমূহের সমর্থন ও সহযোগিতা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়, আনন্দ ও উল্লাসের দিন হলেও স্বজনহারা মানুষের কাছে এ দিনটি শোকেরও বটে।

১৯৫০ সালের ১৬ ই ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের জনগণ তাদের দেশর ওপর ব্রিটিশ আধিপত্যের পরিসমাপ্তির লক্ষ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। সাইপ্রাস পূর্ব ভূ-মধ্যসাগরীয় একটি দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন হলো ৯ হাজার ২শ’ ৫১ বর্গ কিলোমিটার। খ্রিষ্টিয় ১৬ শতাব্দীতে সাইপ্রাস ওসমানী সা¤্রাজ্যভুক্ত ছিল। ১৮ শ’ ৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ওসমানী এবং রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাতের সময় বৃটেন ওসমানীদের হেরে যাবার আশঙ্কা করছিল। বিশেষ করে জারবাদী রাশিয়া ইস্তাম্বুল দখল করে নিতে পারে-এই আশঙ্কায় বৃটেন ওসমানীদের বোঝাতে সক্ষম হয়। তারপর তারা সাইপ্রাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সেনাবাহিনী পাঠায় এবং সেখানকার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। বৃটেন ১৯ শ’ ১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার সময় জার্মানীর সাথে ওসমানীদের ঐক্যের কারণে ঐ ভূখ-ের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইপ্রাসকে বৃটিশ উপনিবেশ বলে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে সাইপ্রাসের অধিবাসী দুই জাতি অর্থাৎ তুর্কি এবং গ্রিসের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যায়। গ্রিকরা ছিল সংখ্যাগুরু। সেজণ্যে তারা সবসময় চেয়েছে সাইপ্রাসকে গ্রিসের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে। অপরপক্ষে তুর্কিরা চেয়েছিলো স্বাধীন সরকার গঠন করতে। অবশেষে ১৯৬০ সালের ১৪ ই আগস্টে সাইপ্রাস স্বাধীনতা লাভ করে এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এরিমধ্যে তুর্কি এবং গ্রিকদের মাঝে সংঘাত চলতেই থাকে। ১৯৭৪ সালে গ্রিক সেনা অভ্যুত্থানের পর তুর্কিরাও তাদের অধ্যুষিত সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চল দখল করে নেয়। সাইপ্রাস বিভক্তির সেই সংকটের সুরাহা আজ পর্যন্তও হয় নি।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ই ডিসেম্বরে কাজাকিস্তান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অবকাশে কাজাকিরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কাজাখিরা ছিলেন কাজাকিস্তানের বেশিরভাগ ভূক-ের অধিবাসী। এরা হলেন তুর্কি এবং মোঙ্গলীয় বংশধারার উত্তরাধিকার। খ্রিষ্টিয় ১৭ শতকে তিন খান অধ্যুষিত এলাকায় বিভক্ত হয় কাজাকিস্তান। তবে আঠারো শতকের শুরু থেকে আস্তে আস্তে রাশিয়ার অধীনে চলে যেতে থাকে। বিশেষ করে উনবিংশ শতকে মধ্য এশিয়ার অন্যান্য এলাকার জনগণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর কাজাকিস্তান ১৯২০ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫ টি প্রজাতন্ত্রের একটি হিসেব পরিচিতি পায়। অবশেষে প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যকার ঐক্যে দুর্বলতা দেখা দিলে কাজাকিস্তানও এই দিন তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং নূর-সুলতান নজরবায়েফকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কাজাকিস্তানের আয়তন প্রায় ২৭ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রয়েছে চীন,রাশিয়া,উজবেকিস্তান, কিরগিজিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উপমহাদেশের একেবারে পূর্ব প্রান্তসীমা ঘেঁষে অবস্থিত বাংলা অঞ্চল প্রথম পরাধীন হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন উপনিবেশবাদী বৃটিশ বাহিনীর হাতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে। নবাবের ঘনিষ্ঠজন ও পারিষদবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পলাশির আ¤্রকাননের যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের বৃটিশ শাসন কাটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে। হিন্দু অধ্যূষিত এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় হিন্দুস্তান বা ভারত এবং মুসলিম অধ্যূষিত এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র ছিল ভারতের দুই প্রান্তে অবস্থিত দুটি অংশে বিভক্ত। আজকের বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান পাকিস্তানের নাম ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। দেশের শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ শুরু থেকেই সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থাণের রেশ ধরে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম। ৭১ সালের ২৬শে মার্চ চুড়ান্তভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং দেশের আপামর জনতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে আজকের দিনে- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১ লক্ষ ৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর অংশে রয়েছে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব দিকের কিয়দংশ জুড়ে রয়েছে মিয়ানমার।

১৯৯৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্যারিসের একটি আপীল আদালত ফ্রান্সের বিশিষ্ট মুসলিম দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও লেখক রজার গারুদিকে হোলোকাস্টের কথিত গণহত্যার কল্পকাহিনী অস্বীকার করার অপরাধে জেল ও জরিমানা করে। জনাব গারুদি একটি বই লিখে প্রয়োজনীয় দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখিয়ে দেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদীবাদীরা জার্মান নাৎসি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। তিনি আরো প্রমাণ করেন, ইহুদীবাদীরা ফিলিস্তিন জবরদখল করে ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে হিটলারের নেতৃত্বাধীন নাৎসী বাহিনীর হাতে কিছু ইহুদীর হত্যাকান্ডকে বড় করে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, দখলদার ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদী নিধনের যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কারণ, সেই সময় সারাবিশ্বের ইহুদীদের সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছিল না। কিন্তু এই সত্য কথা বলার অপরাধে ফ্রান্সের আদালত রজার গারুদিকে শাস্তি দেয় এবং এর ফলে প্রমাণিত হয়, বাক স্বাধীনতার যে দাবি করে তার কোন ভিত্তি নেই।

  • বাংলা নাটকের কণ্ঠরোধকল্পে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন চালু (১৮৭৬)
  • কলকাতায় প্রথম সান্ধ্য দৈনিক সন্ধ্যা’ প্রকাশিত (১৯০৪)
  • কবি মাহমুদা খাতুনের জন্ম (১৯০৬)
  • চীনের কানসুতে ভূমিধসে পৌনে ২ লাখ লোকের মৃত্যু (১৯২০)
  • ঢাকা থেকে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার (১৯৩৯)
  • বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম ভারতের স্বীকৃতি (১৯৭১)
  • সাভারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (১৯৭২)
  • কাজাখস্তানের স্বাধীনতা লাভ (১৯৯১)
  • কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ সাইর মৃত্যু (১৯৯৫)
  • ব্রিটেনে বাংলা টিভি চালু (১৯৯৮)
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ইতিহাসের এই দিনে, ১৬ ডিসেম্বর

আপডেট সময় ১২:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

আজ (শনিবার) ১৬ ডিসেম্বর’২০১৭

(মহান বিজয় দিবস)
১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে একটি উজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এ মহান দিনটিতে আমরা হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করি। এ কারণেই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। বাংলাদেশের মাটি থেকে হানাদার বাহিনীকে নির্মুল করার জন্য এ দিবসটির গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে এ দেশটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। আর এ দেশের শাসকরা ছিলো অবাঙালি । ১৯৪৭ সালে পূর্ববাংলা স্বাধীনতা লাভ করলেও এ অঞ্চলের মানুষ ছিলো নিগৃহীত ও নির্যাতিত। পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ববাংলার মানুষকে ভালো চোখে দেখতো না এমনকি তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে কেড়ে নেবার ফন্দি এঁটেছিলো। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা যথাযথ মর্যাদা লাভ করে। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির বিপুল বিজয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ আরো সুগম হয়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির কাছে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। এ অবস্থায় ’৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়াদী উদ্যানের এক মহাসমাবেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান জানান। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানিরাও তাদের দমননীতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গোটা দেশে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে যায়। আর পাকিস্তানি স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতির ওপর । তাদের এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিকে হত্যা ও নির্যাতন করে তাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে বিনষ্ট করা। পাকিস্তান বাহিনীর সৈন্যরা প্রথম আঘাত হানে ছাত্র-শিক্ষক, রাজনীতিক, শ্রমিক, পুলিশ, আনসার, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙালি জোয়ানসহ সর্বসাধারণের ওপর। প্রথম দিনের হামলায় তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত বাঙালিকে হত্যা করে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। সে এক অমানবিক বর্বরতার কাহিনী । এ পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান। তার এ ঘোষণায় বাঙালি প্রাণ ফিরে পায় । সংগঠিত হয় বাঙালি সৈনিকরা।

দেশকে স্বাধীন করা এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্যে কর্নেল (অবঃ) আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়। শত্রুকবলিত এলাকাকে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে, নৌ অঞ্চল বাদে বাকি ১০টি অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয় এক একজন অধিনায়কের ওপর। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী ও গোপালগঞ্জের হেমায়েত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারাও এ যুদ্ধে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। পুরো ৯টি মাস যুদ্ধ চলে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি নরঘাতকেরা সোহরাওয়াদী উদ্যানে সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান জেনারেল আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করে পরাজয়বরণ করে নেয়। আমরা হই বিজয়ী । এই মহান বিজয়ের পেছনে ছিল ভারত, রাশিয়া, পোল্যান্ডসহ বিশ্বের মানবতাবাদী দেশসমূহের সমর্থন ও সহযোগিতা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়, আনন্দ ও উল্লাসের দিন হলেও স্বজনহারা মানুষের কাছে এ দিনটি শোকেরও বটে।

১৯৫০ সালের ১৬ ই ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের জনগণ তাদের দেশর ওপর ব্রিটিশ আধিপত্যের পরিসমাপ্তির লক্ষ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। সাইপ্রাস পূর্ব ভূ-মধ্যসাগরীয় একটি দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন হলো ৯ হাজার ২শ’ ৫১ বর্গ কিলোমিটার। খ্রিষ্টিয় ১৬ শতাব্দীতে সাইপ্রাস ওসমানী সা¤্রাজ্যভুক্ত ছিল। ১৮ শ’ ৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ওসমানী এবং রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাতের সময় বৃটেন ওসমানীদের হেরে যাবার আশঙ্কা করছিল। বিশেষ করে জারবাদী রাশিয়া ইস্তাম্বুল দখল করে নিতে পারে-এই আশঙ্কায় বৃটেন ওসমানীদের বোঝাতে সক্ষম হয়। তারপর তারা সাইপ্রাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সেনাবাহিনী পাঠায় এবং সেখানকার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। বৃটেন ১৯ শ’ ১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার সময় জার্মানীর সাথে ওসমানীদের ঐক্যের কারণে ঐ ভূখ-ের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইপ্রাসকে বৃটিশ উপনিবেশ বলে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে সাইপ্রাসের অধিবাসী দুই জাতি অর্থাৎ তুর্কি এবং গ্রিসের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যায়। গ্রিকরা ছিল সংখ্যাগুরু। সেজণ্যে তারা সবসময় চেয়েছে সাইপ্রাসকে গ্রিসের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে। অপরপক্ষে তুর্কিরা চেয়েছিলো স্বাধীন সরকার গঠন করতে। অবশেষে ১৯৬০ সালের ১৪ ই আগস্টে সাইপ্রাস স্বাধীনতা লাভ করে এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এরিমধ্যে তুর্কি এবং গ্রিকদের মাঝে সংঘাত চলতেই থাকে। ১৯৭৪ সালে গ্রিক সেনা অভ্যুত্থানের পর তুর্কিরাও তাদের অধ্যুষিত সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চল দখল করে নেয়। সাইপ্রাস বিভক্তির সেই সংকটের সুরাহা আজ পর্যন্তও হয় নি।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ই ডিসেম্বরে কাজাকিস্তান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অবকাশে কাজাকিরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কাজাখিরা ছিলেন কাজাকিস্তানের বেশিরভাগ ভূক-ের অধিবাসী। এরা হলেন তুর্কি এবং মোঙ্গলীয় বংশধারার উত্তরাধিকার। খ্রিষ্টিয় ১৭ শতকে তিন খান অধ্যুষিত এলাকায় বিভক্ত হয় কাজাকিস্তান। তবে আঠারো শতকের শুরু থেকে আস্তে আস্তে রাশিয়ার অধীনে চলে যেতে থাকে। বিশেষ করে উনবিংশ শতকে মধ্য এশিয়ার অন্যান্য এলাকার জনগণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর কাজাকিস্তান ১৯২০ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫ টি প্রজাতন্ত্রের একটি হিসেব পরিচিতি পায়। অবশেষে প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যকার ঐক্যে দুর্বলতা দেখা দিলে কাজাকিস্তানও এই দিন তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং নূর-সুলতান নজরবায়েফকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কাজাকিস্তানের আয়তন প্রায় ২৭ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রয়েছে চীন,রাশিয়া,উজবেকিস্তান, কিরগিজিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উপমহাদেশের একেবারে পূর্ব প্রান্তসীমা ঘেঁষে অবস্থিত বাংলা অঞ্চল প্রথম পরাধীন হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন উপনিবেশবাদী বৃটিশ বাহিনীর হাতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে। নবাবের ঘনিষ্ঠজন ও পারিষদবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পলাশির আ¤্রকাননের যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের বৃটিশ শাসন কাটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে। হিন্দু অধ্যূষিত এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় হিন্দুস্তান বা ভারত এবং মুসলিম অধ্যূষিত এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র ছিল ভারতের দুই প্রান্তে অবস্থিত দুটি অংশে বিভক্ত। আজকের বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান পাকিস্তানের নাম ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। দেশের শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ শুরু থেকেই সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থাণের রেশ ধরে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম। ৭১ সালের ২৬শে মার্চ চুড়ান্তভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং দেশের আপামর জনতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে আজকের দিনে- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১ লক্ষ ৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর অংশে রয়েছে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব দিকের কিয়দংশ জুড়ে রয়েছে মিয়ানমার।

১৯৯৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্যারিসের একটি আপীল আদালত ফ্রান্সের বিশিষ্ট মুসলিম দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও লেখক রজার গারুদিকে হোলোকাস্টের কথিত গণহত্যার কল্পকাহিনী অস্বীকার করার অপরাধে জেল ও জরিমানা করে। জনাব গারুদি একটি বই লিখে প্রয়োজনীয় দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখিয়ে দেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদীবাদীরা জার্মান নাৎসি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। তিনি আরো প্রমাণ করেন, ইহুদীবাদীরা ফিলিস্তিন জবরদখল করে ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে হিটলারের নেতৃত্বাধীন নাৎসী বাহিনীর হাতে কিছু ইহুদীর হত্যাকান্ডকে বড় করে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, দখলদার ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদী নিধনের যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কারণ, সেই সময় সারাবিশ্বের ইহুদীদের সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছিল না। কিন্তু এই সত্য কথা বলার অপরাধে ফ্রান্সের আদালত রজার গারুদিকে শাস্তি দেয় এবং এর ফলে প্রমাণিত হয়, বাক স্বাধীনতার যে দাবি করে তার কোন ভিত্তি নেই।

  • বাংলা নাটকের কণ্ঠরোধকল্পে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন চালু (১৮৭৬)
  • কলকাতায় প্রথম সান্ধ্য দৈনিক সন্ধ্যা’ প্রকাশিত (১৯০৪)
  • কবি মাহমুদা খাতুনের জন্ম (১৯০৬)
  • চীনের কানসুতে ভূমিধসে পৌনে ২ লাখ লোকের মৃত্যু (১৯২০)
  • ঢাকা থেকে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার (১৯৩৯)
  • বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম ভারতের স্বীকৃতি (১৯৭১)
  • সাভারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (১৯৭২)
  • কাজাখস্তানের স্বাধীনতা লাভ (১৯৯১)
  • কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ সাইর মৃত্যু (১৯৯৫)
  • ব্রিটেনে বাংলা টিভি চালু (১৯৯৮)