ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা দেবে ফ্রান্স

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তা বাস্তবায়ন সহজ হবে। ফ্রান্স সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্টে এই আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

প্ল্যানেট ওয়ান সামিটে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। এলিসি প্যালেসে সামিটে যোগ দেয়া ছাড়াও সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

বৈঠকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার দশক পর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও দেশটির সহযোগিতা চান তিনি। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে ফ্রান্সের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। আর ফরাসি প্রেসিডেন্ট তাকে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ম্যাক্রো শেখ হাসিনাকে জানান, তিনি রোহিঙ্গা সমস্যাটি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফরাসি নেতাকে জানান, এখন দেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের বোঝা। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া পাঁচ দফার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের মধ্যেই সমস্যার সমাধানের সূত্র রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তিনি চান মিয়ানমারের ওপর আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় তার চাপ চালিয়ে যাক। তাহলেই সমঝোতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, মানবিক সহযোগিতা অব্যহত রাখার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তিনি তুলে ধরবেন।

সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এই বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব সম্পদ দিয়ে ফান্ড তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতার আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা উঠে আসে। বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ফরাসি প্রেডিসেন্ট জানতে চান, কোন কোন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ চাইছে এবং ফ্রান্সের জন্য সম্ভাবনাময় খাত কোনগুলো।

জবাবে জ্বালানি, অবকাঠামো, ওষুধ, তথ্য প্রযুক্তি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ পর্যায়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ কমিশন করার প্রস্তাব দেন। আর প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে তার সম্মতির কথা জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা দেবে ফ্রান্স

আপডেট সময় ১১:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তা বাস্তবায়ন সহজ হবে। ফ্রান্স সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্টে এই আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

প্ল্যানেট ওয়ান সামিটে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। এলিসি প্যালেসে সামিটে যোগ দেয়া ছাড়াও সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

বৈঠকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার দশক পর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও দেশটির সহযোগিতা চান তিনি। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে ফ্রান্সের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। আর ফরাসি প্রেসিডেন্ট তাকে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ম্যাক্রো শেখ হাসিনাকে জানান, তিনি রোহিঙ্গা সমস্যাটি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফরাসি নেতাকে জানান, এখন দেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের বোঝা। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া পাঁচ দফার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের মধ্যেই সমস্যার সমাধানের সূত্র রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তিনি চান মিয়ানমারের ওপর আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় তার চাপ চালিয়ে যাক। তাহলেই সমঝোতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, মানবিক সহযোগিতা অব্যহত রাখার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তিনি তুলে ধরবেন।

সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এই বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব সম্পদ দিয়ে ফান্ড তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতার আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা উঠে আসে। বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ফরাসি প্রেডিসেন্ট জানতে চান, কোন কোন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ চাইছে এবং ফ্রান্সের জন্য সম্ভাবনাময় খাত কোনগুলো।

জবাবে জ্বালানি, অবকাঠামো, ওষুধ, তথ্য প্রযুক্তি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ পর্যায়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ কমিশন করার প্রস্তাব দেন। আর প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে তার সম্মতির কথা জানান।