অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীতে জমে উঠেছে পার্বত্য মেলা। পাবর্ত্য জেলাগুলোর জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত ও তৈরি শত শত পণ্যসামগ্রীতে মেলার স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। নানা পণ্যের সমারোহে একখন্ড পার্বত্যভূমির রূপায়ন ঘটেছে এই মেলায়।
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির অভ্যন্তরের মাঠে বসেছে এই মেলা। নানা বয়সের বিপুলসংখ্যক দর্শণার্থী-ক্রেতার সমাগম হচ্ছে মেলায়। পার্বত্য জেলাগুলোর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় নানা পণ্য মেলায় পেয়ে রাজধানীর ক্রেতারা স্টলে স্টলে ঘুরে কিনছেন তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী।
আজ মেলা পরিদর্শনকালে দেখা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা সত্বেও ক্রেতা -দর্শনার্থীর বিপুল সমাগম ঘটেছে। মেলায় পার্বত্য অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের ৫৫টি স্টল রয়েছে। এ সব স্টলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ও তৈরি পণ্যের মধ্যে রয়েছে, কৃষিজাত নানা পণ্য, বস্ত্র, মৎস্য, কুটির শিল্প, খাদ্যসামগ্রী, নারী-পুরুষ, শিশুদের পোশাক, কসমেটিকস, অলংকার, গৃহস্থালী পণ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পঞ্চম বারের মতো এই মেলার আয়োজন করেছে। আন্তজার্তিক পর্বত দিবস উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে সহযোগী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউএনডিপি, ব্র্যাক, ইউএসএইড, পদক্ষেপ, কারিতাস, হেলেন কিলার, মানুষের জন্য এবং ফাও।
পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইতোপূর্বে চারটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকার বেইলি রোডে। এবারই প্রথম বড় আকারে শিল্পকলা একডেমির মাঠে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন মেলাঙ্গণে একাডেমির উন্মুক্ত নন্দন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সব অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের শিল্প, সংস্কৃতি, কৃষিসহ নানা বিষয়ে গান, নৃত্য, নাটক।
‘রাঙামাটি বুটিক ঘর ’স্টলের স্বত্তাধিকারী ক্যালি চাকমা জানান, এর আগে মেলাগুলো হয়েছে ছোট্ট পরিসরে বেইলী রোডে। এই প্রথম বৃহত্তর পরিবেশে হচ্ছে। পন্য বিক্রিও ভাল হচ্ছে। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে পাইকারী ক্রেতারাও তাদের পন্যসামগ্রী কিনছেন। এই স্টলে পাবর্ত্য এলাকার মানুষের তৈরি নানা বয়সী মানুষের পোশাকসহ কুটির শিল্পজাত ৫৫টি আইটেম বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, আবহাওয়া খারাপ হলেও ক্রেতা ও দর্শণার্থীর কমতি নেই।
‘নন্দিতা ’ স্টলের মালিক নন্দিতা দেওয়ান এই প্রতিনিধিকে বলেন, রাঙামাটিতে ১৯৯৩ সালে ছোট আকারে তার বুটিক ব্যবসা শুরু করেন। গত তিনটি মেলায় তারা অংশ নেন। কিন্তু এবারের মেলায় ভিন্ন ধরনের আমেজ। বড় পরিসরে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটছে। বিক্রি বাড়ছে ক্রমেই।
খাগড়াছড়ি থেকে এসে মেলায় অংশ নিয়েছেন খোমা চাকমা। তার স্টলের নাম ‘ পাখড়া কৃষি পণ্য। এলাকার চাল, লাউ, কুমরা, বেগুন, পেঁপে, কমলা, বিভিন্ন ধরণের শবজিসহ নানা জাতের কৃষিপণ্য তিনি বিক্রি করছেন। রয়েছে এ সব পণ্যের বীজ। খোমা জানান, বীজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাদের এলাকার চালও নিচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিন শবজিও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
‘হিল বাজার’ স্টল থেকে অনুপম চাকমা জানান,প্রতিদিন তাদের এলাকা থেকে কমলা,কলাসহ বিভিন্ন ফল আনা হচ্ছে মেলায়। সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কমলা মিস্টি হওয়ায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য ফলও ভাল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানাান।
মেলায় অংশ নেয়া স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে- চাংপাং তাঁত, টংঘর, স্বাদ, তুজি মংপ্রো, বান্দরবান পণ্য, মোমো কুলিং সেন্টার, সুর ডিজাইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, হিল বাজার, মনজুরি জুমঘর, রান্নে জুমঘর, জেসি হ্যান্ডিক্র্যাপ্টস, মাউনটেন হ্যান্ডিক্র্যাপ্টস, বান্দরবান হ্যান্ডিক্র্যাপ্টস, পিঠাঘর, রাঙামাটি খাবার ঘর, খোয়াং ট্রেডিশনাল ক্র্যাপ্টস,কর্ণফুলি গোল্ডেন পামওয়েল,ঘরকন্যা, ত্রিপুরা স্টোর,মহিসা হ্যান্ডিক্যাপ্টস, জুম্ম স্টোর, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বেইন টেক্সটাইল, পান্ডো কৃষিপণ্য, জুনারস কুটির,তুজিমং স্টোর,স্মৃতি হ্যান্ডিক্র্যাপ্টস, উইনিং হ্যান্ডিক্র্যাপ্টস’সহ ৬২টি স্টল।
মেলা চলবে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শুরু হয়েছে গত সাত তারিখে। মেলা সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























