ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ঢাকা উত্তরে মেয়র নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। ফলে ৯০ দিনের মধ্যে মেয়র পদে ভোট হবে-বলছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেখানে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়ে গেছে। এই সমস্যাটি খুবই জটিল এবং অনেক প্রশ্নের সুরাহা করতে হবে।

সমস্যার মূলে বাড্ডা, বেরাইদ, সাতারকূল, হরিরামপুর, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এবং ডুমনি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানাভুক্ত করায়। এই ইউনিয়নগুলোকে চলতি বছরের জুলাইয়ে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।

মেয়র পদে নির্বাচন হলে এই ১৮ টি ওয়ার্ডে এখনই কাউন্সিলর পদে ভোট হবে কি না- এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন। তিনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ বিষয়টি জটিল। ভোটার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন সিডি নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি হলে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। পরে কমিশন এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়র পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ শতাংশ ওয়ার্ডের কাউন্সলর পদের নির্বাচন হলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নামে গেজেটে প্রকাশ হলে করপোরেশন যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

নতুন ওয়ার্ডগুলো বাদ দিলে ঢাকা উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৩৬টি এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের একজন নারী কাউন্সিলর হিসেবে সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২টি। এই এর সঙ্গে নতুন ১৮টি সাধারণ ও ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড যোগ হওয়ায় এখন ৭২টি ওয়ার্ডের ৭৫ শতাংশ পূরণ করতে হলে ন্যূনতম ৫৪টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা দরকার। বর্তমানে উত্তর সিটিতে ৪৮ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। কাজেই নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন না হলে শতকরা ৭৫ শতাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর থাকবে না।

এবার কাউন্সিলর পদ বাদ দিয়ে কেবল মেয়র পদে ভোট করা কি সম্ভব? যদি তা করা হয় তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে বাসিন্দারা কেন মেয়র নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কারণ এই ১৮টি ওয়ার্ড থেকে কেউ না কেউ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সেই ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে ভোটের আয়োজন করা আইনি বৈধতা পাবে কি না।

নির্বাচন কমিশন যদি ১৮টি ওয়ার্ডকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে তবে সেখানকার কোনো ভোটার উচ্চ আদালতে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করতেই পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার। তখন নির্বাচনটাই ঝুলে যেতে পারে।

এই ১৮ টি ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনের সীমানাভুক্ত হওয়ায় মেয়র পদে সেখানে নির্বাচন হবে কি না, জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এখনও আমরা কোন প্রজ্ঞাপন পাইনি। প্রজ্ঞাপন হাতে পেলে আমরা বুঝতে পারব সেখানে কী লেখা আছে। আমার মনে হয় এ বিষয় নিয়ে এখন মন্তব্য করার সময় আসেনি। আগে আমরা প্রজ্ঞাপনটা হাতে পাই তার পর বলি।’

আরেকটি প্রশ্ন আছে। যদি নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন হয়, তাহলে তাদের মেয়াদ কত দিনের হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ, কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য। কিন্তু মেয়রের মেয়াদ আছে আড়াই বছর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ১৮টি ওয়ার্ডে যে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে তারা পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত হবে। আর যিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হবে তিনি বাকি আড়াই বছরের জন্য। যেহেতু মেয়র পদে উপ নির্বাচন হবে।’

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টে ঢাকার দুই সিটির নবগঠিত ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচনের আয়োজন করতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কাউন্সিলর মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য নাকি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন, তা উল্লেখ নেই।

২০১৫ সালের একই দিনে দুই সিটির নির্বাচনে উত্তরে ৩৬টি ও দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের আশপাশের আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙে সিটি করপোরেশনভুক্ত করে চলতি বছরের ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেটে দেখা গেছে, সীমানা বাড়ানোর ফলে বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ফায়দাবাদ, নলভোগ, ডিয়াবাড়ী, কামারপাড়ার বিভিন্ন মৌজা ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং শ্যামপুর, কদমতলী, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, গজারিয়া, নন্দীপাড়ার বিভিন্ন মৌজা দক্ষিণ সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা উত্তরে মেয়র নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় ১২:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। ফলে ৯০ দিনের মধ্যে মেয়র পদে ভোট হবে-বলছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেখানে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়ে গেছে। এই সমস্যাটি খুবই জটিল এবং অনেক প্রশ্নের সুরাহা করতে হবে।

সমস্যার মূলে বাড্ডা, বেরাইদ, সাতারকূল, হরিরামপুর, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এবং ডুমনি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানাভুক্ত করায়। এই ইউনিয়নগুলোকে চলতি বছরের জুলাইয়ে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।

মেয়র পদে নির্বাচন হলে এই ১৮ টি ওয়ার্ডে এখনই কাউন্সিলর পদে ভোট হবে কি না- এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন। তিনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ বিষয়টি জটিল। ভোটার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন সিডি নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি হলে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। পরে কমিশন এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়র পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ শতাংশ ওয়ার্ডের কাউন্সলর পদের নির্বাচন হলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নামে গেজেটে প্রকাশ হলে করপোরেশন যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

নতুন ওয়ার্ডগুলো বাদ দিলে ঢাকা উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৩৬টি এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের একজন নারী কাউন্সিলর হিসেবে সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২টি। এই এর সঙ্গে নতুন ১৮টি সাধারণ ও ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড যোগ হওয়ায় এখন ৭২টি ওয়ার্ডের ৭৫ শতাংশ পূরণ করতে হলে ন্যূনতম ৫৪টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা দরকার। বর্তমানে উত্তর সিটিতে ৪৮ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। কাজেই নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন না হলে শতকরা ৭৫ শতাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর থাকবে না।

এবার কাউন্সিলর পদ বাদ দিয়ে কেবল মেয়র পদে ভোট করা কি সম্ভব? যদি তা করা হয় তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে বাসিন্দারা কেন মেয়র নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কারণ এই ১৮টি ওয়ার্ড থেকে কেউ না কেউ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সেই ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে ভোটের আয়োজন করা আইনি বৈধতা পাবে কি না।

নির্বাচন কমিশন যদি ১৮টি ওয়ার্ডকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে তবে সেখানকার কোনো ভোটার উচ্চ আদালতে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করতেই পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার। তখন নির্বাচনটাই ঝুলে যেতে পারে।

এই ১৮ টি ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনের সীমানাভুক্ত হওয়ায় মেয়র পদে সেখানে নির্বাচন হবে কি না, জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এখনও আমরা কোন প্রজ্ঞাপন পাইনি। প্রজ্ঞাপন হাতে পেলে আমরা বুঝতে পারব সেখানে কী লেখা আছে। আমার মনে হয় এ বিষয় নিয়ে এখন মন্তব্য করার সময় আসেনি। আগে আমরা প্রজ্ঞাপনটা হাতে পাই তার পর বলি।’

আরেকটি প্রশ্ন আছে। যদি নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন হয়, তাহলে তাদের মেয়াদ কত দিনের হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ, কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য। কিন্তু মেয়রের মেয়াদ আছে আড়াই বছর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ১৮টি ওয়ার্ডে যে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে তারা পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত হবে। আর যিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হবে তিনি বাকি আড়াই বছরের জন্য। যেহেতু মেয়র পদে উপ নির্বাচন হবে।’

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টে ঢাকার দুই সিটির নবগঠিত ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচনের আয়োজন করতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কাউন্সিলর মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য নাকি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন, তা উল্লেখ নেই।

২০১৫ সালের একই দিনে দুই সিটির নির্বাচনে উত্তরে ৩৬টি ও দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের আশপাশের আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙে সিটি করপোরেশনভুক্ত করে চলতি বছরের ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেটে দেখা গেছে, সীমানা বাড়ানোর ফলে বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ফায়দাবাদ, নলভোগ, ডিয়াবাড়ী, কামারপাড়ার বিভিন্ন মৌজা ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং শ্যামপুর, কদমতলী, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, গজারিয়া, নন্দীপাড়ার বিভিন্ন মৌজা দক্ষিণ সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।