অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইফতেখারুল ইসলামসহ ১৪ জনকে চাঁদাবাজির মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি দরখাস্তের শুনানি আগামী ২৯ নভেম্বর বুধবার ধার্য করেছে আদালত। রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম এ তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই বাদী এ মামলা দায়ের করলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) আনিসুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদ, এসআই জাকির হোসেন, ওমর ফারুক, কবির হোসেন উকিল, শাহীন পারভেজ, লক্ষীকান্ত রায়, শহীদুল্লাহ, কেএম এনায়েত হোসেন, এএসআই আতোয়ার রহমান, কনস্টেবল সাইফুল, পুলিশের সোর্স খোকন ও সুমন।
মামলায় বাদিনীর অভিযোগ, তার স্বামী ফরমান উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেন। কিন্তু তিনি যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ, পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিরীহ মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে দেখতে পান। এরপর গত ৫ মে, গত ৮ জুন ও গত ১৬ জুন ডাকযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে ওই সংক্রান্তে পৃথক তিনটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে আসামিরা তাকে ফোন করে থানায় নিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলেন। তা না তুলে নিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এরপর গত ২১ জুন বাদীর স্বামীকে ওয়ারী থানাধীন রাজধানী সুপার মার্কেট থেকে আসামিরা তাকে টেনে ছেঁচড়ে যাত্রাবাড়ি থানায় নিয়ে যায়। বাদী ওয়ারি জোনের ডিসি ফরিদকে বিষয়টি জানালে তিনি আসামি ইফতেখারুলকে ফোন করে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন এবং বাদীকে থানায় গিয়ে তার স্বামীকে নিয়ে আসতে বলেন।
বাদিনী থানায় গেলে আসামি ইফতেখারুলকে ডিসি ফরিদকে গালিগালাস করে নিজেকে নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের মেয়ের জামাই পরিচয় দেন এবং বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও চর-থাপ্পড় মারেন। ওই সময় বাদী তার স্বামীকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে আসামি ইফতেখারুল তার স্বামীকে ছেড়ে দিতে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর বাদী তাদের দুই লাখ টাকা দেন।
এর আগেই আসামিরা বাদীর স্বামীকে মারধর করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাদী সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামীকে মাদকের তিনটি মিথ্যা মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাদীর স্বামী কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর মুখোমুখি। বাদী মামলার বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ করেন, তারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বাদী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























