ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

ইয়েমেন আগ্রাসনে মার্কিন ভূমিকা স্পষ্ট হলো: ইরান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরান বলেছে, ইয়েমেনে চালানো সৌদি অপরাধযজ্ঞে যে আমেরিকার হাত রয়েছে তা ওয়াশিংটন নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হোয়াইট হাউজ শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের সমালোচনা করে। তবে বিবৃতিতে একই সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক সংকট সৃষ্টির জন্য ইরানকেও অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ইরান বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। ইরানকে মিথ্যা অভিযুক্ত করে ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ও তার প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়টি লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে কাসেমি উল্লেখ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবকে ইয়েমেনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান না জানিয়ে আমেরিকা উল্টো এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে রিয়াদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। এ থেকে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে ওয়াশিংটনের হাত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ ও দেশটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে দমন এবং পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এই বর্বরোচিত পদক্ষেপ নেয় রিয়াদ।

এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার মানুষ নিহত ও ইয়েমেনের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশটির জনগণ বর্তমানে খাদ্য ও ওষুধসহ নানা নিত্যপণ্যের মারাত্মক ঘাটতির শিকার। ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ইয়েমেন আগ্রাসনে মার্কিন ভূমিকা স্পষ্ট হলো: ইরান

আপডেট সময় ১২:৫১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরান বলেছে, ইয়েমেনে চালানো সৌদি অপরাধযজ্ঞে যে আমেরিকার হাত রয়েছে তা ওয়াশিংটন নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হোয়াইট হাউজ শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের সমালোচনা করে। তবে বিবৃতিতে একই সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক সংকট সৃষ্টির জন্য ইরানকেও অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ইরান বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। ইরানকে মিথ্যা অভিযুক্ত করে ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ও তার প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়টি লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে কাসেমি উল্লেখ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবকে ইয়েমেনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান না জানিয়ে আমেরিকা উল্টো এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে রিয়াদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। এ থেকে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে ওয়াশিংটনের হাত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ ও দেশটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে দমন এবং পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এই বর্বরোচিত পদক্ষেপ নেয় রিয়াদ।

এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার মানুষ নিহত ও ইয়েমেনের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশটির জনগণ বর্তমানে খাদ্য ও ওষুধসহ নানা নিত্যপণ্যের মারাত্মক ঘাটতির শিকার। ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।