ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাণিজ্যিক কূটনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রদূত আদ্-দ্বীনে সেবা বন্ধ: ডায়ালাইসিস না পেয়ে রোগীর মৃত্যু অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইরানের সাথে নতুন সম্ভাব্য চুক্তি আমার চুক্তির চেয়ে ভালো হবে না : ওবামা পুশইন ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাল বাংলাদেশ ব্যাংক বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে: দুদক ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হলেন ড. মজিবুল হক সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে এনে শাস্তি দেয়াই হবে প্রকৃত অর্জন : শফিকুর রহমান অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান

ইয়েমেন আগ্রাসনে মার্কিন ভূমিকা স্পষ্ট হলো: ইরান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরান বলেছে, ইয়েমেনে চালানো সৌদি অপরাধযজ্ঞে যে আমেরিকার হাত রয়েছে তা ওয়াশিংটন নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হোয়াইট হাউজ শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের সমালোচনা করে। তবে বিবৃতিতে একই সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক সংকট সৃষ্টির জন্য ইরানকেও অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ইরান বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। ইরানকে মিথ্যা অভিযুক্ত করে ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ও তার প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়টি লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে কাসেমি উল্লেখ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবকে ইয়েমেনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান না জানিয়ে আমেরিকা উল্টো এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে রিয়াদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। এ থেকে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে ওয়াশিংটনের হাত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ ও দেশটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে দমন এবং পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এই বর্বরোচিত পদক্ষেপ নেয় রিয়াদ।

এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার মানুষ নিহত ও ইয়েমেনের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশটির জনগণ বর্তমানে খাদ্য ও ওষুধসহ নানা নিত্যপণ্যের মারাত্মক ঘাটতির শিকার। ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক কূটনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রদূত

ইয়েমেন আগ্রাসনে মার্কিন ভূমিকা স্পষ্ট হলো: ইরান

আপডেট সময় ১২:৫১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরান বলেছে, ইয়েমেনে চালানো সৌদি অপরাধযজ্ঞে যে আমেরিকার হাত রয়েছে তা ওয়াশিংটন নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হোয়াইট হাউজ শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের সমালোচনা করে। তবে বিবৃতিতে একই সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক সংকট সৃষ্টির জন্য ইরানকেও অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ইরান বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। ইরানকে মিথ্যা অভিযুক্ত করে ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ও তার প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়টি লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে কাসেমি উল্লেখ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবকে ইয়েমেনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান না জানিয়ে আমেরিকা উল্টো এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে রিয়াদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। এ থেকে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে ওয়াশিংটনের হাত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ ও দেশটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে দমন এবং পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এই বর্বরোচিত পদক্ষেপ নেয় রিয়াদ।

এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার মানুষ নিহত ও ইয়েমেনের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশটির জনগণ বর্তমানে খাদ্য ও ওষুধসহ নানা নিত্যপণ্যের মারাত্মক ঘাটতির শিকার। ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।