ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

ধর্ষণের দায়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির ১১ বছরের সাজা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সিঙ্গাপুরে আসা এক চীনা নারীকে ধর্ষণের দায়ে এক বাংলাদেশিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিঙ্গাপুরের আদালত।আনোয়ার হোসেন নামের ৩২ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি যুবক সিঙ্গাপুরে একটি নির্মাণ প্রকল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন।একজন পর্যটকের ওপর হামলার সাজা হিসেবে সিঙ্গাপুরের হাই কোর্ট তাকে ৯ বার বেত্রাঘাতেরও আদেশ দিয়েছে বলে স্ট্রেইটস টাইমসের খবর।

৪৪ বছর বয়সী ওই চীনা নারী তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে সিঙ্গাপুরের গেইলাংয়ে আসেন। যে বাড়িতে তার স্বামী থাকতেন, তার পাশের ঘরেই ভাড়া থাকতেন আনোয়ার।মামলার বরাত দিয়ে স্ট্রেইটস টাইমস লিখেছে, ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার একটি টুথব্রাশ হাতে নিয়ে তার ওই প্রতিবেশীর দড়জায় নক করে। ওই নারীর স্বামী তখন বাসায় ছিলেন না।দড়জা খুলে ওই নারী টুথপেস্ট দিতে চাইলেও আনোয়ার দড়জা আটকে দুই দফা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।ওই রাতেই গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনোয়ার মামলার বিচারের সময় প্রাথমিকভাবে দাবি করেন, তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য টাকা দিয়েছেন। কিন্তু পরে জেরার মুখে তিনি ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নেন।

স্ট্রেইটস টাইমস লিখেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সবসময় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতির কারণে চীনে নিজের বাড়িতে ফিরে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কেও শীতলতা তৈরি হয়েছে।চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, আদালতের ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর কবিতা উথরাপাথি আসামির ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।

অন্যদিকে আনোয়ারের আইনজীবী প্রদীপ পিল্লাই শুনানিতে বলেন, তার মক্কেল নয় বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন এবং অতীতে এ ধরনের অপরাধ করেননি। যেহেতু তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেহেতু তার দশ বছরের বেশি সাজা হওয়া উচিৎ নয়।সিঙ্গাপুরের আইনে এ ধরনের অপরাধে ২০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান থাকলেও বিচারক শুনানি শেষে ১১ বছরের কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের রায় দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ধর্ষণের দায়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির ১১ বছরের সাজা

আপডেট সময় ০১:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সিঙ্গাপুরে আসা এক চীনা নারীকে ধর্ষণের দায়ে এক বাংলাদেশিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিঙ্গাপুরের আদালত।আনোয়ার হোসেন নামের ৩২ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি যুবক সিঙ্গাপুরে একটি নির্মাণ প্রকল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন।একজন পর্যটকের ওপর হামলার সাজা হিসেবে সিঙ্গাপুরের হাই কোর্ট তাকে ৯ বার বেত্রাঘাতেরও আদেশ দিয়েছে বলে স্ট্রেইটস টাইমসের খবর।

৪৪ বছর বয়সী ওই চীনা নারী তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে সিঙ্গাপুরের গেইলাংয়ে আসেন। যে বাড়িতে তার স্বামী থাকতেন, তার পাশের ঘরেই ভাড়া থাকতেন আনোয়ার।মামলার বরাত দিয়ে স্ট্রেইটস টাইমস লিখেছে, ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার একটি টুথব্রাশ হাতে নিয়ে তার ওই প্রতিবেশীর দড়জায় নক করে। ওই নারীর স্বামী তখন বাসায় ছিলেন না।দড়জা খুলে ওই নারী টুথপেস্ট দিতে চাইলেও আনোয়ার দড়জা আটকে দুই দফা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।ওই রাতেই গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনোয়ার মামলার বিচারের সময় প্রাথমিকভাবে দাবি করেন, তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য টাকা দিয়েছেন। কিন্তু পরে জেরার মুখে তিনি ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নেন।

স্ট্রেইটস টাইমস লিখেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সবসময় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতির কারণে চীনে নিজের বাড়িতে ফিরে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কেও শীতলতা তৈরি হয়েছে।চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, আদালতের ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর কবিতা উথরাপাথি আসামির ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।

অন্যদিকে আনোয়ারের আইনজীবী প্রদীপ পিল্লাই শুনানিতে বলেন, তার মক্কেল নয় বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন এবং অতীতে এ ধরনের অপরাধ করেননি। যেহেতু তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেহেতু তার দশ বছরের বেশি সাজা হওয়া উচিৎ নয়।সিঙ্গাপুরের আইনে এ ধরনের অপরাধে ২০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান থাকলেও বিচারক শুনানি শেষে ১১ বছরের কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের রায় দেন।