ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

স্পেনে ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ‘অভিবাসী ক্ষমা’ ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করেছে স্পেনের সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে যাওয়া বহু অভিবাসী এখন আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অভিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে পেদ্রো সানচেজের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এই সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের বিষয়। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ১৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ব্যবস্থাকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ একটি কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

সরকারের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করে সানচেজ বলেছেন, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতোমধ্যে বসবাস এবং কাজ করছেন, তাদের ‘সমান শর্তে’ বসবাস ও কর দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে সানচেজ লিখেছেন, ‘আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।’

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এমন মানুষের সংখ্যা আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বাংলাদেশিরাও একাধিক খাতে কাজ করেন দেশটিতে। অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইস বলেছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করবেন তারা এখন এক বছরের বাসস্থান এবং কাজের অনুমতি পাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

স্পেনে ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় ১১:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ‘অভিবাসী ক্ষমা’ ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করেছে স্পেনের সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে যাওয়া বহু অভিবাসী এখন আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অভিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে পেদ্রো সানচেজের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এই সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের বিষয়। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ১৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ব্যবস্থাকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ একটি কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

সরকারের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করে সানচেজ বলেছেন, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতোমধ্যে বসবাস এবং কাজ করছেন, তাদের ‘সমান শর্তে’ বসবাস ও কর দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে সানচেজ লিখেছেন, ‘আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।’

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এমন মানুষের সংখ্যা আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বাংলাদেশিরাও একাধিক খাতে কাজ করেন দেশটিতে। অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইস বলেছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করবেন তারা এখন এক বছরের বাসস্থান এবং কাজের অনুমতি পাবেন।