ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৩ শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে। তবে ২৩টি শর্ত জুড়ে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ফলে রোববার বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। এতে দলটির নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার এক ব্রিফিংয়ে এসব শর্তের কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ডিএমপির একটি সম্মতিপত্র আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেখানে ২৩টি শর্ত দিয়ে তারা আমাদের এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের সম্মতি দিয়েছে। যেকোনো শর্তেই হোক বা শর্ত ছাড়াই হোক আমরা সমাবেশ করবোই।

তিনি বলেন, এই গণসমাবেশ সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোপূর্বে আমরা ১২ ঘণ্টা নোটিশেও সমাবেশের সফল প্রস্তুতি নিয়েছি। অতীতের চেয়ে এবার ‘একটু আগে’ সম্মতি দিয়েছে সেই জন্য ডিএমপি ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

শর্তে গুলো হচ্ছে:

> বিকাল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।

> ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে- এমন কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য দেওয়া বা প্রচার করা যাবে না।

> লাঠি-সোঁটা, ব্যানার, ফেস্টুনের আড়ালে লাঠি-রড বহন করা যাবে না।

> মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসা যাবে না।

> উস্কানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।

> রাষ্ট্রবিরোধী, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি বা জননিরাপত্তা বিরোধী কার্যকলাপ চালানো যাবে না।

> সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন সংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

> সমাবেশের নির্ধারিত সময়ের আগে উদ্যান বা তার আশপাশের রাস্তা-ফুটপাটে সমবেত হওয়া যাবে না।

> যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়- এমন কিছু করা যাবে না।

> নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

> নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

> অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দীতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ সমাবেশ হয় ২০১৪ সালের ২০শে জানুয়ারি। এদিকে গতকাল বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করে সমাবেশ মঞ্চের স্থান নির্ধারণসহ সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।

এ অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং অনুষ্ঠানে আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে আগত সব যানবাহন তল্লাশি ব্যবস্থা করতে হবে। অনুমোদিত স্থানের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন স্থাপন করা যাবে না। আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক-শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত অনুষ্ঠান ব্যতীত মঞ্চকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অনুষ্ঠান শুরুর ২ ঘণ্টা পূর্বে লোকজন সভাস্থলে আসতে পারবে। উল্লিখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এ অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৩ শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি

আপডেট সময় ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে। তবে ২৩টি শর্ত জুড়ে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ফলে রোববার বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। এতে দলটির নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার এক ব্রিফিংয়ে এসব শর্তের কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ডিএমপির একটি সম্মতিপত্র আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেখানে ২৩টি শর্ত দিয়ে তারা আমাদের এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের সম্মতি দিয়েছে। যেকোনো শর্তেই হোক বা শর্ত ছাড়াই হোক আমরা সমাবেশ করবোই।

তিনি বলেন, এই গণসমাবেশ সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোপূর্বে আমরা ১২ ঘণ্টা নোটিশেও সমাবেশের সফল প্রস্তুতি নিয়েছি। অতীতের চেয়ে এবার ‘একটু আগে’ সম্মতি দিয়েছে সেই জন্য ডিএমপি ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

শর্তে গুলো হচ্ছে:

> বিকাল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।

> ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে- এমন কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য দেওয়া বা প্রচার করা যাবে না।

> লাঠি-সোঁটা, ব্যানার, ফেস্টুনের আড়ালে লাঠি-রড বহন করা যাবে না।

> মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসা যাবে না।

> উস্কানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।

> রাষ্ট্রবিরোধী, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি বা জননিরাপত্তা বিরোধী কার্যকলাপ চালানো যাবে না।

> সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন সংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

> সমাবেশের নির্ধারিত সময়ের আগে উদ্যান বা তার আশপাশের রাস্তা-ফুটপাটে সমবেত হওয়া যাবে না।

> যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়- এমন কিছু করা যাবে না।

> নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

> নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

> অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দীতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ সমাবেশ হয় ২০১৪ সালের ২০শে জানুয়ারি। এদিকে গতকাল বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করে সমাবেশ মঞ্চের স্থান নির্ধারণসহ সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।

এ অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং অনুষ্ঠানে আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে আগত সব যানবাহন তল্লাশি ব্যবস্থা করতে হবে। অনুমোদিত স্থানের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন স্থাপন করা যাবে না। আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক-শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত অনুষ্ঠান ব্যতীত মঞ্চকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অনুষ্ঠান শুরুর ২ ঘণ্টা পূর্বে লোকজন সভাস্থলে আসতে পারবে। উল্লিখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এ অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।