অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির বহু প্রিন্স এবং বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছেন। তবে তিনি নিজেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ইয়াক্ট কিনেছেন, যা সমুদ্রে অবকাশযাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অন্য প্রিন্সদের বিদেশের ব্যাংকে ৮০ হাজার কোটি ডলারের (৬৫ লাখ কোটি টাকার) সম্পদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে এখন অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছেন। তাদেরকে বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয়েছে আর সম্পত্তি জব্দ করা হচ্ছে। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যিনি সদ্য গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিরও প্রধান।
কিন্তু এতকিছু কেন ঘটছে? এর কারণ কি শুধুই দুর্নীতি? নাকি যুবরাজের ক্ষমতা করায়ত্তের কৌশল? উত্তরটা হল- দুটোই। দুর্নীতি সৌদি আরবে প্রচলিত একটি ব্যাপার। তেলসমৃদ্ধ এই দেশটিতে ব্যবসা করতে গেলে ঘুষ বা উপঢৌকন দেয়া যেন ব্যবসারই একটি অংশ। সেখানে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসে আছেন, তাদের অনেকেই অকল্পনীয় সম্পদের মালিক। কিন্তু সরকারি বেতনে এত অর্থ উপার্জন সম্ভব নয়। তাদের বেশিরভাগ সম্পদই এসেছে বিভিন্ন অফ শোর অ্যাকাউন্ট থেকে।
সৌদি আরবের ধনাঢ্য কিছু ব্যক্তির পেছনেই লেগেছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, আর তাকে সমর্থন দিচ্ছেন তার বাবা ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান। তিনি একটি বার্তা দিতে চান যে, ব্যবসার পুরনো রীতিনীতি আর চলবে না। সৌদি আরবের এখন সংস্কার দরকার এবং একুশ শতকের সঙ্গে তাল মেলাতে একটি আধুনিক জাতি হয়ে ওঠা দরকার।
এসব গোপন বা অফ শোর হিসাবের অর্থও পেতে চাইছে সৌদি সরকার। অর্থের হিসাবে যা হবে আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এর শেষ কোথায়? দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এর মধ্যেই জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের মাত্র সমাপ্তি হয়েছে। তার মানে সামনে আরও অনেকে গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন।
যদিও ক্ষমতাসীন আল সৌদ পরিবার কখনই প্রকাশ করেনি, দেশটির তেল বিক্রির কি পরিমাণ অর্থ রাজপুত্র বা রাজপরিবারের সদস্যদের পেছনে খরচ হয়, যাদের সংখ্যা কয়েক হাজার। ২০১৫ সালে যুবরাজ নিজেই ৫৮০ মিলিন ডলার (৪৭৫৬ কোটি টাকা) খরচ করে রাশিয়ান এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি বিলাসবহুল ইয়াক্ট কিনেছেন বলে শোনা যায়। এখন অনেক সৌদি সাধারণ নাগরিকের আশা, বিত্তশালীদের এসব সম্পদ সাধারণ মানুষের পেছনেই খরচ করা হবে। যদিও এই তদন্তের শেষ ঠিক কোথায় হবে, তা পরিষ্কার নয়।
৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, যিনি সংক্ষেপে এমবিএস নামেও পরিচিত, এর মধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোয় ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দেশে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করেছেন, যার উদ্দেশ্য দেশের তেলনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।
বাবার প্রিয় পুত্র হিসেবে তিনি দেশটির সর্বময় ক্ষমতাশালী রাজকীয় আদালতও পরিচালনা করেন। তার ঘনিষ্ঠ মিত্রও রয়েছে। ওয়াশিংটন সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর হোয়াইট হাউসের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে একটি লড়াই এবং কাতারের সঙ্গে ব্যর্থ বয়কটের সিদ্ধান্তের পরেও তিনি দেশের তরুণদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়।
যুবরাজ জানেন, তিনি যেসব সংস্কার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছেন, অনেকেই তার বিরোধিতা করবে। তবে তিনি এখন কিছু উদাহরণ দেখাতে চান যে, তার পরিকল্পনায় যেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের তিনি সরিয়ে দেবেন। রাজকীয় পরিবারের অনেক সদস্য চিন্তিত যে, তিনি খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
অভিযানে গ্রেফতার ২০৮: দুর্নীতি দমন অভিযানে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ২০৮ জনকে আটক করা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রের অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আটকদের মধ্যে ৭ জনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়েছে। খবর এএফপির।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে একটি দুর্নীতি দমন কমিটি গঠনের পর গত শনিবার থেকে দেশটিতে দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু হয়। ওই দিন ১৭ জন প্রিন্স, চারজন মন্ত্রী এবং ডজনখানেক সাবেক মন্ত্রীকে আটক করা হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























