অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গণসমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন’ সম্পর্কে ‘গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ দেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপি নেত্রী ‘যথাসময়ে’ সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন বলেও বলে আসছেন দলটির নেতার।
এর মধ্যে ৭ নভেম্বরকে ‘বিপ্লব ও জাতীয় সংহতি দিবস’ দিবস হিসেবে পালন করা বিএনপি দিনটি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীতে এই সমাবেশ ডাকলেও এটিই সমাবেশের মূল লক্ষ্য নয় বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “শুধু জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনই এই গণসমাবেশের মূল লক্ষ্য নয়; সেই সঙ্গে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবার জন্যে চলমান যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনকে সুসংহত করবার ক্ষেত্রে, জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে মেসেজ… বা তিনি যে বাণী দেবেন- সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সমগ্র দেশের সচেতন মানুষ মনে করে।
“আমরা মনে করি, এই গণসমাবেশ থেকে দেশেনত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে জাতি যা পাবে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ হবে।”
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববারের সমাবেশ করতে মহানগর পুলিশের সম্মতিপত্র পাওয়ার বিষয়টি জানাতে দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।
রোববার বেলা ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ শুরু হবে, যাকে ‘গণসমাবেশ’ হিসেবে অভিহিত করছে বিএনপি। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। মহানগর পুলিশের ২৩ দফা শর্তে বিকাল ৫টার মধ্যেই সমাবেশ শেষ করতে হবে। সম্মতিপত্রে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমায় জনসমাবেশ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় দেরির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার যেসব উদাহরণ দেন তাকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বিএনপি যেহেতু সকল সমাবেশে নিজেদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে সেহেতু তাদেরকে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়’। যেটা আমি বলি যে, সর্বৈব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। বিএনপির এই ধরনের সমাবেশেই কোনো বিশৃঙ্খলা বা এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
“দুঃখজনকভাবে প্রতিদিন আমরা খবরের কাগজে খবর পাচ্ছি যে, তাদের নিজেদের মধ্যে কোন্দল হচ্ছে, গোলমাল হচ্ছে, মারামারি হচ্ছে; এমনকি একে অপরকে হত্যা পর্যন্ত করছে।”
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ করব, অনুগ্রহপূর্বক এই ধরনের ভিত্তিহীন, মিথ্যা তথ্য না দিয়ে… একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা যে চেষ্টা করছি, উদ্যোগ গ্রহণ করছি, সরকারি দলকে এই প্রক্রিয়ায় আনার জন্য চেষ্টা করছি- সেই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে পজেটিভ কথা বলুন।
“প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে নেগেটিভ কথা বলে উসকানিমূলক কথা বলে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অনুগ্রহ করে ব্যাহত করবেন না।”
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















