ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণে নীতিমালা হচ্ছে

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির কথা রয়েছে। তবে হটস্পট নির্মাণের আগেই এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ও কোনও ধরনের অপকর্ম করে যাতে কেউ পার পেয়ে যেতে না পারে সেজন্য একটি নীতিমালার অভাব বোধ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সেই অভাব থেকেই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইসিটি বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণের নীতিমালাগুলো দেখে এবং যাচাই-বাছাই করে একটি স্বতন্ত্র নীতিমালা তৈরি করা হবে। সেই নীতিমালা মেনে দেশে ওয়াইফাই হটস্পট তৈরি করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণের ঘোষণা যখন দেওয়া হয় সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের কথা চিন্তা করে অনেক কিছুই আমলে নেওয়া হয়নি। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেকোনও ধরনের জটিলতা এড়াতে নীতিমালা তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই বিবেচনায় এখন নীতিমালা তৈরির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াইফাই হটস্পটের জন্য খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরে আইসিটি বিভাগ সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট (জোন) তৈরির ঘোষণা দেয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লঞ্চঘাট, বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে এসব হটস্পট তৈরি করা হবে। সরকারি যেসব অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, সেখানে যদি রাউটার বসানো হয় তাহলে ওই অফিসে আসা লোকজনকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যাবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, সারাদেশের ১৮ হাজার ১৩১টি সরকারি অফিস ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানও হটস্পটের আওতায় আনা হবে। সচিবালয়ের ৫০৬টি স্পট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হটস্পট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হটস্পটে ইয়ুথ কর্নার তৈরি করা হবে। এ কর্নারকে আইটি কর্নার ও ইনফরমেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে স্থাপন করা হবে ইন্টারনেট কিয়স্ক ও একটি বড় এলইডি টিভি। ওয়াইফাই জোন হওয়ায় কিয়স্কে থাকবে উচ্চগতির ইন্টারনেট। তিনি বলেন, ‘ওয়াইফাইয়ের গতি কত হবে, কতটুকু এলাকা এর আওতাভুক্ত হবে, কোন ধরনের জায়গায় বসানো হবে, কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে ইত্যাদি বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের মূলে এখন এটা। তরুণ প্রজন্মকে আমরা এই ফ্রি হটস্পট নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাই।’

বেসরকারিভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানও দেশে ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণ করছে। এরমধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটর, মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। দেশের কয়েকটি দূরপাল্লার রুটের বাসে, ঢাকা শহরের কিছু বাসে এবং সরকারি উদ্যোগে বিআরটিসি বাসেও ওয়াইফাই সেবা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছ, বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হটস্পটগুলো এক লাখ ওয়াইফাই হটস্পটের মধ্যে পড়বে না।

আইসিটি বিভাগ সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির ঘোষণা দিলেও তা দীর্ঘদিন পরিকল্পনাতেই আটকে ছিল। কয়েকটি বিষয়ের সমাধান না হওয়ায় আলোর মুখ দেখতে দেরি হয় প্রকল্পটির। ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকায় সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারছিলেন না। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসি ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজটি করার কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণে নীতিমালা হচ্ছে

আপডেট সময় ০৩:১৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির কথা রয়েছে। তবে হটস্পট নির্মাণের আগেই এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ও কোনও ধরনের অপকর্ম করে যাতে কেউ পার পেয়ে যেতে না পারে সেজন্য একটি নীতিমালার অভাব বোধ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সেই অভাব থেকেই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইসিটি বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণের নীতিমালাগুলো দেখে এবং যাচাই-বাছাই করে একটি স্বতন্ত্র নীতিমালা তৈরি করা হবে। সেই নীতিমালা মেনে দেশে ওয়াইফাই হটস্পট তৈরি করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণের ঘোষণা যখন দেওয়া হয় সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের কথা চিন্তা করে অনেক কিছুই আমলে নেওয়া হয়নি। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেকোনও ধরনের জটিলতা এড়াতে নীতিমালা তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই বিবেচনায় এখন নীতিমালা তৈরির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াইফাই হটস্পটের জন্য খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরে আইসিটি বিভাগ সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট (জোন) তৈরির ঘোষণা দেয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লঞ্চঘাট, বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে এসব হটস্পট তৈরি করা হবে। সরকারি যেসব অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, সেখানে যদি রাউটার বসানো হয় তাহলে ওই অফিসে আসা লোকজনকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যাবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, সারাদেশের ১৮ হাজার ১৩১টি সরকারি অফিস ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানও হটস্পটের আওতায় আনা হবে। সচিবালয়ের ৫০৬টি স্পট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হটস্পট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হটস্পটে ইয়ুথ কর্নার তৈরি করা হবে। এ কর্নারকে আইটি কর্নার ও ইনফরমেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে স্থাপন করা হবে ইন্টারনেট কিয়স্ক ও একটি বড় এলইডি টিভি। ওয়াইফাই জোন হওয়ায় কিয়স্কে থাকবে উচ্চগতির ইন্টারনেট। তিনি বলেন, ‘ওয়াইফাইয়ের গতি কত হবে, কতটুকু এলাকা এর আওতাভুক্ত হবে, কোন ধরনের জায়গায় বসানো হবে, কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে ইত্যাদি বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের মূলে এখন এটা। তরুণ প্রজন্মকে আমরা এই ফ্রি হটস্পট নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাই।’

বেসরকারিভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানও দেশে ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণ করছে। এরমধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটর, মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। দেশের কয়েকটি দূরপাল্লার রুটের বাসে, ঢাকা শহরের কিছু বাসে এবং সরকারি উদ্যোগে বিআরটিসি বাসেও ওয়াইফাই সেবা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছ, বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হটস্পটগুলো এক লাখ ওয়াইফাই হটস্পটের মধ্যে পড়বে না।

আইসিটি বিভাগ সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির ঘোষণা দিলেও তা দীর্ঘদিন পরিকল্পনাতেই আটকে ছিল। কয়েকটি বিষয়ের সমাধান না হওয়ায় আলোর মুখ দেখতে দেরি হয় প্রকল্পটির। ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকায় সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারছিলেন না। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসি ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজটি করার কথা রয়েছে।