ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

আকিজ আদ্-দ্বীনে অস্ত্রোপচারে বাঁচলো নবজাতকের প্রাণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যশোর-খুলনার সরকারি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ঘুরে মেয়ে শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সঠিক চিকিৎসা পেলো খুলনার আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জটিল সমস্যায় আক্রান্ত আট দিন বয়সী শিশুটি জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সে এখন অনেকটা শংকামুক্ত। শিশুর পরিবারের মধ্যেও এসেছে স্বস্তি।

গত রোববার (৫ নভেম্বর) খুলনার বয়রা আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকের বড় চাচা পুলিশ সদস্য জুয়েল রানা বলেন, যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরই শ্বাসকষ্ট হয়ে পেট ফুলে যাচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। পরে আদ্-দ্বীন আকিজ হাসপাতালে আনা হলে এখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন টেস্টে ধরা পড়ে তার পরিপাকতন্ত্রের নিচের অংশ বন্ধ। আর উপরের অংশ পচে গেছে। যে কারণে পেটটা ফোলা। ডাক্তাররা বললেন অপরারেশন করতে হবে। তারপর অপারেশন করা হয়। আমরা কখনও ভাবিনি চিকিৎসা করাতে পারবো। এখানে ডাক্তার-নার্সদের আন্তরিক সেবায় শিশুটি বেঁচে থাকায় আমরা খুবই খুশি।

খুলনার আদ্‌-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক (শিশুবিভাগ) মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, ২৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় শিশুটি জন্ম নেয়। দুই হাসপাতাল ঘুরে আমাদের কাছে আসে ৩০ অক্টোবর রাত ২টার দিকে। তখন থেকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বাচ্চার বাবার নাম বাহারুল ইসলাম। মায়ের নাম মিসেস সালমা। গ্রাম যশোরের রূপদিয়া।

তিনি বলেন, বাচ্চাটি ৩৪ সপ্তাহে জন্ম নিয়েছে। মাত্র ২.২ কেজি ওজন নিয়ে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয়। ওজন কম ও অপরিপক্বতার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে যশোর ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পর্যাপ্ত সাপোর্ট তারা দিতে পারছিল না। শেষে পরিবারের লোকজন খোঁজ নিয়ে আমাদের এখানে এলে তাকে ভর্তি করি। তখন প্রচুর শ্বাসকষ্ট ছিল। এক পর্যায় তাকে লাইফ সাপোর্ট (কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র) দেওয়া হয়। সেই অবস্থায় আমরা তার পেটের এক্স-রেতে দেখতে পাই আরও একটি সমস্যা রয়েছে।

‘শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এসেছিল, পরে আমরা দেখতে পাই তার পেট ঠিকমতো কাজ করছেনা। পরিপাকতন্ত্রের শেষের অংশটি জন্মগতভাবে বন্ধ রয়েছে। উপরের অংশটি ক্রমশ ফুলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা একজন শিশু বিশেষজ্ঞ সার্জন এইচ এম জাফর শরীফের শরণাপন্ন হই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জন তিনি। ডা. জাফর আসার পর দ্রুত নির্ণয় করা হয় নাড়ির একটি অংশ বন্ধ। লাইফ সাপোর্ট চলাকালেই তার অপারেশন করতে হবে। যদিও এটি খুব জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবু আর কোনো উপায় নেই।’

এই চিকিৎসক আরও জানান, বাচ্চাটির পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অপারেশন করে পরিপাকতন্ত্রের উপরের পচা অংশ কেটে ফেলা হয়। ভালো অংশটি রেখে নতুন পথ করে দেওয়া হয়েছে। অপারেশন শেষে যখন আমরা তাকে এনআইসিওতে নিয়ে এসেছি তখনও তার লাইফ সাপোর্ট দেওয়া ছিল। ২৪ ঘণ্টা আমরা ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখেছি। সেখান থেকে বের করে তাকে অন্য একটি কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র দেওয়া হয়। এখনও সেটিতে আছে। এখন সে নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারছে। আগের চেয়ে অনেক ভালো। আশা করছি অবস্থার এ রকম উন্নতি হলে আরও ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রেখে তাকে অন্য বাচ্চাদের মতো সাধারণ অক্সিজেন দিতে পারবো।

এ ধরনের অপরেশনের সফলতা বিরল দৃষ্টান্ত বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

আকিজ আদ্-দ্বীনে অস্ত্রোপচারে বাঁচলো নবজাতকের প্রাণ

আপডেট সময় ১১:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যশোর-খুলনার সরকারি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ঘুরে মেয়ে শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সঠিক চিকিৎসা পেলো খুলনার আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জটিল সমস্যায় আক্রান্ত আট দিন বয়সী শিশুটি জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সে এখন অনেকটা শংকামুক্ত। শিশুর পরিবারের মধ্যেও এসেছে স্বস্তি।

গত রোববার (৫ নভেম্বর) খুলনার বয়রা আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকের বড় চাচা পুলিশ সদস্য জুয়েল রানা বলেন, যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরই শ্বাসকষ্ট হয়ে পেট ফুলে যাচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। পরে আদ্-দ্বীন আকিজ হাসপাতালে আনা হলে এখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন টেস্টে ধরা পড়ে তার পরিপাকতন্ত্রের নিচের অংশ বন্ধ। আর উপরের অংশ পচে গেছে। যে কারণে পেটটা ফোলা। ডাক্তাররা বললেন অপরারেশন করতে হবে। তারপর অপারেশন করা হয়। আমরা কখনও ভাবিনি চিকিৎসা করাতে পারবো। এখানে ডাক্তার-নার্সদের আন্তরিক সেবায় শিশুটি বেঁচে থাকায় আমরা খুবই খুশি।

খুলনার আদ্‌-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক (শিশুবিভাগ) মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, ২৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় শিশুটি জন্ম নেয়। দুই হাসপাতাল ঘুরে আমাদের কাছে আসে ৩০ অক্টোবর রাত ২টার দিকে। তখন থেকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বাচ্চার বাবার নাম বাহারুল ইসলাম। মায়ের নাম মিসেস সালমা। গ্রাম যশোরের রূপদিয়া।

তিনি বলেন, বাচ্চাটি ৩৪ সপ্তাহে জন্ম নিয়েছে। মাত্র ২.২ কেজি ওজন নিয়ে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয়। ওজন কম ও অপরিপক্বতার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে যশোর ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পর্যাপ্ত সাপোর্ট তারা দিতে পারছিল না। শেষে পরিবারের লোকজন খোঁজ নিয়ে আমাদের এখানে এলে তাকে ভর্তি করি। তখন প্রচুর শ্বাসকষ্ট ছিল। এক পর্যায় তাকে লাইফ সাপোর্ট (কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র) দেওয়া হয়। সেই অবস্থায় আমরা তার পেটের এক্স-রেতে দেখতে পাই আরও একটি সমস্যা রয়েছে।

‘শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এসেছিল, পরে আমরা দেখতে পাই তার পেট ঠিকমতো কাজ করছেনা। পরিপাকতন্ত্রের শেষের অংশটি জন্মগতভাবে বন্ধ রয়েছে। উপরের অংশটি ক্রমশ ফুলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা একজন শিশু বিশেষজ্ঞ সার্জন এইচ এম জাফর শরীফের শরণাপন্ন হই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জন তিনি। ডা. জাফর আসার পর দ্রুত নির্ণয় করা হয় নাড়ির একটি অংশ বন্ধ। লাইফ সাপোর্ট চলাকালেই তার অপারেশন করতে হবে। যদিও এটি খুব জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবু আর কোনো উপায় নেই।’

এই চিকিৎসক আরও জানান, বাচ্চাটির পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অপারেশন করে পরিপাকতন্ত্রের উপরের পচা অংশ কেটে ফেলা হয়। ভালো অংশটি রেখে নতুন পথ করে দেওয়া হয়েছে। অপারেশন শেষে যখন আমরা তাকে এনআইসিওতে নিয়ে এসেছি তখনও তার লাইফ সাপোর্ট দেওয়া ছিল। ২৪ ঘণ্টা আমরা ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখেছি। সেখান থেকে বের করে তাকে অন্য একটি কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র দেওয়া হয়। এখনও সেটিতে আছে। এখন সে নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারছে। আগের চেয়ে অনেক ভালো। আশা করছি অবস্থার এ রকম উন্নতি হলে আরও ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রেখে তাকে অন্য বাচ্চাদের মতো সাধারণ অক্সিজেন দিতে পারবো।

এ ধরনের অপরেশনের সফলতা বিরল দৃষ্টান্ত বলেও জানান তিনি।