ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত গুলি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই: ‎জামায়াত এমপির ভাগ্নে কারাগারে এক মাস বয়সি শিশুকে টিকার পরিবর্তে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান খান পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংকট কাটলে টিকার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিলিপাইনের সিনেটে গোলাগুলি, সিনেটরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

জাহান্নামের জীবন ছিল সৌদিতে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চার লাখ টাকা বেতনে যখন মালয়েশিয়ার একটি কারখানায় গুরবক কৌরের চাকরির কথা হয় তখন ভেবেছিলেন এবার হয়ত স্বপ্নগুলো সব পূরণ হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তার সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।

এর কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসকে তিনি বলেন, ট্রাভেল এজেন্টের প্রতারণায় মালয়েশিয়া না পাঠিয়ে আমাকে পাঠানো হয় সৌদি আরবে। সেখানে ২০ সদস্যের এক পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকি আমি। সেখানে জাহান্নামের মধ্যে বেঁচে ছিলাম আমি। কারণ তাদের সকল কিছু পরিষ্কার করে আমাকে প্রতিদিন রাত ২টার পর ঘুমাতে যেতে হত। তারা আমাকে খাবারও দিত না। তাদের এঁটো প্লেটে যা পড়ে থাকত আমাকে তাই খেতে হত।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করার পরও তারা আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করত এবং অনেক সময় লাঠি দিয়ে মারধরও করত। তিনি দাবি করেন, আমাকে কখনোই বাসার বাইরে যেতে দিত না। তবে আড়াই মাস পরে তারা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দয়ে। বৈধ কাজগপত্র না থাকায় ওই সময়ে পুলিশ আমাকে আটক করে।

ভারতীয় নারী বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারাও খুবই নিষ্ঠুর ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে আমার সঙ্গে আরও আটজন বাংলাদেশি তরুণী ছিলেন যাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৫ বছর। পুলিশ আমাদের প্রত্যেককেই পিটিয়েছে। কারও মেয়ে কিংবা বোনকে সৌদি আরবে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে কৌর বলেন, দেশটি নারীদের জন্য জাহান্নাম।

মুক্তি পাওয়া সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করি। এরপর সৌদির একটি পরিবার আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তারা আমাকে জামিনে জেল থেকে বের করে এনে তাদের কাছে দুদিনের জন্য রাখে। ভারতীয় দূতাবাস এবং সেখানে থাকা পাঞ্জাবী যুবকের সহায়তায় আমি দেশে ফিরতে পেরেছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত

জাহান্নামের জীবন ছিল সৌদিতে

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চার লাখ টাকা বেতনে যখন মালয়েশিয়ার একটি কারখানায় গুরবক কৌরের চাকরির কথা হয় তখন ভেবেছিলেন এবার হয়ত স্বপ্নগুলো সব পূরণ হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তার সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।

এর কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসকে তিনি বলেন, ট্রাভেল এজেন্টের প্রতারণায় মালয়েশিয়া না পাঠিয়ে আমাকে পাঠানো হয় সৌদি আরবে। সেখানে ২০ সদস্যের এক পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকি আমি। সেখানে জাহান্নামের মধ্যে বেঁচে ছিলাম আমি। কারণ তাদের সকল কিছু পরিষ্কার করে আমাকে প্রতিদিন রাত ২টার পর ঘুমাতে যেতে হত। তারা আমাকে খাবারও দিত না। তাদের এঁটো প্লেটে যা পড়ে থাকত আমাকে তাই খেতে হত।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করার পরও তারা আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করত এবং অনেক সময় লাঠি দিয়ে মারধরও করত। তিনি দাবি করেন, আমাকে কখনোই বাসার বাইরে যেতে দিত না। তবে আড়াই মাস পরে তারা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দয়ে। বৈধ কাজগপত্র না থাকায় ওই সময়ে পুলিশ আমাকে আটক করে।

ভারতীয় নারী বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারাও খুবই নিষ্ঠুর ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে আমার সঙ্গে আরও আটজন বাংলাদেশি তরুণী ছিলেন যাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৫ বছর। পুলিশ আমাদের প্রত্যেককেই পিটিয়েছে। কারও মেয়ে কিংবা বোনকে সৌদি আরবে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে কৌর বলেন, দেশটি নারীদের জন্য জাহান্নাম।

মুক্তি পাওয়া সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করি। এরপর সৌদির একটি পরিবার আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তারা আমাকে জামিনে জেল থেকে বের করে এনে তাদের কাছে দুদিনের জন্য রাখে। ভারতীয় দূতাবাস এবং সেখানে থাকা পাঞ্জাবী যুবকের সহায়তায় আমি দেশে ফিরতে পেরেছি।