ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ দেশ বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল: আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ভোটের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী

নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপলের সন্ধান পাওয়ার খবর সঠিক নয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে অপহৃত সাংবাদিক উৎপল দাস চিকিৎসাধীন আছেন। এমন খবরের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন হাসপাতালে নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের সন্ধান করেও তার সন্ধান পায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সদর এবং আশপাশের কমপক্ষে ১০টি ক্লিনিকে তল্লাশি করেন। এছাড়া থানা পুলিশও সন্ধান চালিয়ে তার কোন অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

রোববার পুলিশের এসআই মনির পরিচয় দিয়ে (০১৭৯৪৮৮২৯৮৬) নম্বর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানান, উৎপল মির্জাপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। টাকা নিয়ে এসে তার উন্নত চিকিৎসার করানোর কথা বলেন। রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা কলে তিনি নিজেকে রিপন পরিচয় দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে উৎপল তার বাবা চিত্তরঞ্জন দাসকে মোবাইলে মির্জাপুরের একটি হাসপতালে তার অবস্থানের কথা জানালে তা তিনি মতিঝিল থানায় জানান বলে মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, উৎপলের বাবা মতিঝিল থানাকে জানিয়েছেন- উৎপল ফোন করে তাদের জানিয়েছে, তিনি মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিষয়টি মতিঝিল থানা পুলিশ মির্জাপুর থানাকে জানালে মির্জাপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতালে তল্লাশি চালানো শুরু করেন।

সন্ধায় ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে মির্জাপুরের সংবাদকর্মীদের বিষয়টি জানালে সাংবাদিকরা কুমুদিনী হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সদর এবং আশপাশের কমপক্ষে ১০টি প্রাইভেট ক্লিনিকে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিলের অফিস থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল। তিনি ফকিরাপুল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরার রাধানগরে।

সংবাদিক উৎপলের নিখোঁজের ঘটনায় অনলাইন নিউজ পোর্টালটির পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় জিডি করা হয়েছে। উৎপলের বাবাও একই থানায় আরেকটি জিডি করেন।

নিখোঁজের পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। তবে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে তার মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে বাবা চিত্তরঞ্জনের কাছে। প্রায় ৮ মিনিট কথা বলার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এতথ্য জানিয়ে উৎপলের বাবা গণমাধ্যমে জানান, হঠাৎ ওই নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার জানান, উৎপল নামে কোন রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হননি।

মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান পাটোয়ারির সঙ্গে কথা হলে বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই। মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, উৎপল দাস নামে কোন রোগী তার কমপ্লেক্সে ভর্তি হননি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম বলেন, রিপন নামে তাদের কোন এসআই নেই। যে পরিচয় দেয়া হয়েছে তা ভূয়া বলে উল্লেখ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপলের সন্ধান পাওয়ার খবর সঠিক নয়

আপডেট সময় ১১:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে অপহৃত সাংবাদিক উৎপল দাস চিকিৎসাধীন আছেন। এমন খবরের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন হাসপাতালে নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের সন্ধান করেও তার সন্ধান পায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সদর এবং আশপাশের কমপক্ষে ১০টি ক্লিনিকে তল্লাশি করেন। এছাড়া থানা পুলিশও সন্ধান চালিয়ে তার কোন অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

রোববার পুলিশের এসআই মনির পরিচয় দিয়ে (০১৭৯৪৮৮২৯৮৬) নম্বর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানান, উৎপল মির্জাপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। টাকা নিয়ে এসে তার উন্নত চিকিৎসার করানোর কথা বলেন। রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা কলে তিনি নিজেকে রিপন পরিচয় দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে উৎপল তার বাবা চিত্তরঞ্জন দাসকে মোবাইলে মির্জাপুরের একটি হাসপতালে তার অবস্থানের কথা জানালে তা তিনি মতিঝিল থানায় জানান বলে মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, উৎপলের বাবা মতিঝিল থানাকে জানিয়েছেন- উৎপল ফোন করে তাদের জানিয়েছে, তিনি মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিষয়টি মতিঝিল থানা পুলিশ মির্জাপুর থানাকে জানালে মির্জাপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতালে তল্লাশি চালানো শুরু করেন।

সন্ধায় ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে মির্জাপুরের সংবাদকর্মীদের বিষয়টি জানালে সাংবাদিকরা কুমুদিনী হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সদর এবং আশপাশের কমপক্ষে ১০টি প্রাইভেট ক্লিনিকে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিলের অফিস থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল। তিনি ফকিরাপুল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরার রাধানগরে।

সংবাদিক উৎপলের নিখোঁজের ঘটনায় অনলাইন নিউজ পোর্টালটির পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় জিডি করা হয়েছে। উৎপলের বাবাও একই থানায় আরেকটি জিডি করেন।

নিখোঁজের পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। তবে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে তার মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে বাবা চিত্তরঞ্জনের কাছে। প্রায় ৮ মিনিট কথা বলার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এতথ্য জানিয়ে উৎপলের বাবা গণমাধ্যমে জানান, হঠাৎ ওই নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার জানান, উৎপল নামে কোন রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হননি।

মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান পাটোয়ারির সঙ্গে কথা হলে বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই। মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, উৎপল দাস নামে কোন রোগী তার কমপ্লেক্সে ভর্তি হননি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম বলেন, রিপন নামে তাদের কোন এসআই নেই। যে পরিচয় দেয়া হয়েছে তা ভূয়া বলে উল্লেখ করেন।