অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
“ধামরাইয়ের কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। একসময় একটি লোকাল বাস আসে। ভেতরে অনেক যাত্রী দেখে কোনও সন্দেহ না হওয়ায় বাসে উঠে বসি। ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড পার হলেই বাসে আগে থেকে বসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে থেকে কয়েকজন উঠে এসে পিস্তল ও ছুরি-চাকু ঠেকিয়ে সব কিছু দিয়ে দিতে বলে। ”
কথাগুলো বলছিলেন যাত্রীবেশী একদল বাস ডাকাতের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া আসিফ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, “প্রাণ বাঁচাতে সব কিছু তাদের দিয়ে দেই। পরে হাত-পা বেঁধে আমাকে গাড়ির পেছনে ফেলে রাখে। সেখানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আরও চারজন ছিলেন। ”
রাজধানী ঢাকার আশপাশে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে রাতে বাড়িফেরা মানুষগুলো প্রায়ই আসিফের মতো বিপদে পড়ে সর্বস্ব খোয়াতে হয় যাত্রীবেশী বাসডাকাতের কবলে পড়ে। এমনই একটি ঘটনা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে চেকপোস্ট বসিয়ে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ২৮ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
চলাকালে ডাকাতের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আশুলিয়া থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য। এ সময় ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক ব্যক্তিকে। আর ডাকাতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি বাস, একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও দেশি বিভিন্ন অস্ত্র,৩০টি মোবাইল ফোন, ১০ হাজার টাকাসহ লুটের মূল্যবান জিনিসপত্র। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
একইসঙ্গে গ্রেপ্তার ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ দুটি মামলায় পৃথকভাবে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় বাসের যাত্রী আসিফ আহমেদ ডাকাতির ঘটনায় একটি মামলা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ রানা অপর মামলাটি দায়ের করেন।
সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম জানান, যাত্রীবেশী একদল ডাকাত বাসে যাত্রী তুলে ডাকাতি করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নবীনগরের ত্রিমোড়ে অবস্থান নেয়। ডাকাতদলটি নবীনগর এলে বাসটিকে থামাতে সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় বাসের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে ডাকাতদল। একপর্যায়ে পুলিশ পুরো বাসটি ঘিরে রেখে ডাকাতদের প্রতিরোধ করে। এ সময় আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়াল, পরিদর্শক (অপারেশন) জাহিদুর রহমান, এসআই মুকিব হাসান ও রাকিবুল হাসান আহত হন। ২৮ ডাকাতকে আটক ও বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আহতদের সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, বেশ বিছুদিন ধরে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে বাসে ডাকাতি চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রটি। গভীর রাতে বাসের ভেতর অনেক যাত্রী দেখলে অনেকেই নিরাপদ মনে করে সেই বাসে ওঠেন। ডাকাতদল পরে সাধারণ যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে হাত-পা বেঁধে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। অনেক সময় যাত্রীদের চোখে মলম লাগিয়ে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
আটক ডাকাতরা হলেন বশির মোল্লা (২৫), স্বপন মোল্লা (২৫), আবু সাইদ (২৭), আলামীন (২৪), মেহেদী হাসান (২৪), হাবিবুর রহমান (২৬), ওহিদুজ্জামান (২৮), সানাউল্লাহ বেপারী (২৫), শফিকুল ইসলাম (২৫), কাশেম (২৫), মোকসেদ (২৬), জাহিদুল ইসলাম (২৮), এনামুল (২৭), শাহ আলম (২৭), রুহুল আমীন (২৫), মামুন (২৬), রহিদ (২৭), কায়সার (২৩), ফরহাদ, মহসিন (২৫), কামরুল (২৩), ইকবাল (২৫), সোহরাব (২৬), রফিকুল ইসলাম (২৪), বাবুল (২৪), বাহারুল (২৫), জাকির (২৭) ও সুপন মিয়া (২৫)।
আটক ডাকাতদলের নেতা বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাচঁটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার সহযোগী স্বপন মল্লিকের বিরুদ্ধে দুটি এবং আলামিন ও আবু সাইদের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, গ্রেপ্তার ডাকাতদলের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা- তা জানার জন্য রিমান্ড আবেদন চেয়ে আসামিদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























