ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেলো দুই শিক্ষার্থী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষকদের অবহেলায় জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেও প্রবেশপত্র না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেলো দুই শিক্ষার্থী। বুধবার সকালে শ্রীপুর উপজেলার হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে এ ঘটনাটি ঘটে। উপজেলার শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ওই শিক্ষার্থীরা হলো- মো. মামুন (১৪) গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের কালাম মিয়া ছেলে এবং শান্তি (১৪) একই গ্রামের বুলবুল মিয়ার মেয়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দুইজনসহ মোট চারজন যথাসময়ে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফরম পূরণ বাবদ ধার্যকৃত ১ হাজার ৫০০ টাকা ও অতিরিক্ত আরো ১ হাজার টাকা শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দেন। এসময় গত এক সপ্তাহ আগে দুজনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে এমন আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশ না পাওয়ায় চোখে জল নিয়ে বাড়ি ফিরে ওই দুই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামুনের মা পোশাক শ্রমিক নূর মহল বেগম জানান, তিনি একটি কারখানায় কাজ করেন। ছেলে সন্তান নিয়ে খুব অভাবে সংসার চালান। এরপরও তিনি তাঁর সন্তানকে সু-শিক্ষিত করতে শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলে পড়াতেন। প্রতি মাসের শেষে লেখাপড়ার খরচ হিসেবে কয়েক হাজার নিতো ওই প্রতিষ্ঠান। ফরম পূরণেও অধিক টাকা নিয়ে তাঁর ছেলের ফরম বোর্ডে জমা দেয়নি। এখন তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শিক্ষকের এমন অর্থ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর ছেলের পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের স্থস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদ বলেন, শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সরকারি অনুমোদন না থাকায় চারজন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন পার্শ্ববর্তী ধনুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হতে সম্পন্ন করেছি। যথাসময়ে ফরম পূরণের টাকাও পরিশোধ করেছি। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয় হতে চার জনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হলেও দুইজনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করেননি।

ধনুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, তিনি (প্রধান শিক্ষক শহীদ) চার জনের ফরম পূরণ করে জমা দেন। কয়েক দিন পর দু’জন (মামুন ও শান্তি) স্কুলের বেতন পরিশোধ করেনি তাই ফরম বোর্ডে পাঠাতে না করায় তাঁরা প্রবেশপত্র পায়নি। এখানে আমার কোন দোষ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, ওই দুই শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। শিক্ষকদের ব্যর্থতায় এমনটি হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেলো দুই শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১১:২২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষকদের অবহেলায় জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেও প্রবেশপত্র না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেলো দুই শিক্ষার্থী। বুধবার সকালে শ্রীপুর উপজেলার হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে এ ঘটনাটি ঘটে। উপজেলার শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ওই শিক্ষার্থীরা হলো- মো. মামুন (১৪) গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের কালাম মিয়া ছেলে এবং শান্তি (১৪) একই গ্রামের বুলবুল মিয়ার মেয়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দুইজনসহ মোট চারজন যথাসময়ে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফরম পূরণ বাবদ ধার্যকৃত ১ হাজার ৫০০ টাকা ও অতিরিক্ত আরো ১ হাজার টাকা শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দেন। এসময় গত এক সপ্তাহ আগে দুজনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে এমন আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশ না পাওয়ায় চোখে জল নিয়ে বাড়ি ফিরে ওই দুই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামুনের মা পোশাক শ্রমিক নূর মহল বেগম জানান, তিনি একটি কারখানায় কাজ করেন। ছেলে সন্তান নিয়ে খুব অভাবে সংসার চালান। এরপরও তিনি তাঁর সন্তানকে সু-শিক্ষিত করতে শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলে পড়াতেন। প্রতি মাসের শেষে লেখাপড়ার খরচ হিসেবে কয়েক হাজার নিতো ওই প্রতিষ্ঠান। ফরম পূরণেও অধিক টাকা নিয়ে তাঁর ছেলের ফরম বোর্ডে জমা দেয়নি। এখন তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শিক্ষকের এমন অর্থ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর ছেলের পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের স্থস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদ বলেন, শহীদ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সরকারি অনুমোদন না থাকায় চারজন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন পার্শ্ববর্তী ধনুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হতে সম্পন্ন করেছি। যথাসময়ে ফরম পূরণের টাকাও পরিশোধ করেছি। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয় হতে চার জনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হলেও দুইজনের প্রবেশপত্র সরবরাহ করেননি।

ধনুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, তিনি (প্রধান শিক্ষক শহীদ) চার জনের ফরম পূরণ করে জমা দেন। কয়েক দিন পর দু’জন (মামুন ও শান্তি) স্কুলের বেতন পরিশোধ করেনি তাই ফরম বোর্ডে পাঠাতে না করায় তাঁরা প্রবেশপত্র পায়নি। এখানে আমার কোন দোষ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, ওই দুই শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। শিক্ষকদের ব্যর্থতায় এমনটি হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।