ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাণিজ্যিক কূটনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রদূত আদ্-দ্বীনে সেবা বন্ধ: ডায়ালাইসিস না পেয়ে রোগীর মৃত্যু অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইরানের সাথে নতুন সম্ভাব্য চুক্তি আমার চুক্তির চেয়ে ভালো হবে না : ওবামা পুশইন ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাল বাংলাদেশ ব্যাংক বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে: দুদক ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হলেন ড. মজিবুল হক সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে এনে শাস্তি দেয়াই হবে প্রকৃত অর্জন : শফিকুর রহমান অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হলেন ড. মজিবুল হক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশি আমেরিকান মেডিসিন গবেষক ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক প্রফেসর ড. মজিবুল হক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হেলথ সায়েন্স (ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন) বিভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্বাগত জানায়।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও মানবকল্যাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ হিসেবে তিনি এই দায়িত্বকে দেখছেন। ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিষয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চান।

বাংলাদেশের ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণকারী ড. মজিবুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় দেশে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–মিলওয়াকি থেকে বায়ো-অর্গানিক (মেডিসিনাল) কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস মেডিকেল ব্রাঞ্চে ড্রাগ ডিসকভারি গবেষণায় পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

মেডিসিন গবেষণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে ইন্টিগ্রেটিভ ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি এ বিষয়ে ‘ডক্টর অব ন্যাচারোপ্যাথি’ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ফাংশনাল মেডিসিন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে সার্টিফিকেশন অর্জন করেন।

ড. মজিবুল হক ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন, হিউস্টন কমিউনিটি কলেজ এবং হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি একটি বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ম্যানেজার এবং দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তবে নিজ দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পুষ্টি, জীবনযাপনভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সমন্বিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করে। তার গবেষণাকর্ম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার এই অধ্যাপক পদে যোগদান শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তার নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগ নিরাময়ের একটি সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক কূটনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রদূত

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হলেন ড. মজিবুল হক

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশি আমেরিকান মেডিসিন গবেষক ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক প্রফেসর ড. মজিবুল হক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হেলথ সায়েন্স (ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন) বিভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্বাগত জানায়।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও মানবকল্যাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ হিসেবে তিনি এই দায়িত্বকে দেখছেন। ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিষয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চান।

বাংলাদেশের ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণকারী ড. মজিবুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় দেশে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–মিলওয়াকি থেকে বায়ো-অর্গানিক (মেডিসিনাল) কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস মেডিকেল ব্রাঞ্চে ড্রাগ ডিসকভারি গবেষণায় পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

মেডিসিন গবেষণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে ইন্টিগ্রেটিভ ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি এ বিষয়ে ‘ডক্টর অব ন্যাচারোপ্যাথি’ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ফাংশনাল মেডিসিন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে সার্টিফিকেশন অর্জন করেন।

ড. মজিবুল হক ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন, হিউস্টন কমিউনিটি কলেজ এবং হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি একটি বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ম্যানেজার এবং দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনে কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তবে নিজ দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পুষ্টি, জীবনযাপনভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সমন্বিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করে। তার গবেষণাকর্ম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার এই অধ্যাপক পদে যোগদান শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তার নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগ নিরাময়ের একটি সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।