ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

অবৈধ মুঠোফোন বন্ধে তৃতীয়বার উদ্যোগ: দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ সরকারের

অবৈধ মুঠোফোন সেট বাজার থেকে নির্মূল করতে তৃতীয়বারের মতো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বৈধ মুঠোফোন সেটের দাম না কমিয়ে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে না। একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায়ও ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, বৈধ ও অবৈধ ফোনসেটের দামের ব্যবধান কমে এলে ক্রেতারা বৈধ পথে আমদানি করা সেট কিনতে উৎসাহিত হবেন।

এনইআইআর হলো একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার, যার মাধ্যমে মুঠোফোন নেটওয়ার্কে আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) যাচাই করে অবৈধ বা চুরি হওয়া সেটগুলো চিহ্নিত ও বন্ধ করা হয়। দেশে বর্তমানে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’—এই দুই ধরনের ফোনসেট বিক্রি হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে আমদানি করা ফোনগুলো তুলনামূলক সস্তায় পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এগুলোর চাহিদা বেশি, যার ফলে সরকার প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আশঙ্কা করছে। পরে অবৈধ ফোনসেটের কারণে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনইআইআর পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এক দশকে দেশে মুঠোফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্প গড়ে উঠেছে। ফলে সল্পমেয়াদে সুবিধা পেতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এই প্রবণতা রুখতে ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থাটি পুরোপুরি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সব ফিচারসহ এনইআইআর চালুর প্রস্তুতি থাকলেও বিক্রেতাদের বিক্ষোভ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিবেচনায় পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ৯ জুন এনএসআই এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এটি চালুর সুপারিশ করা হয়। এরপর ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনার বিষয় রয়েছে।

বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কেবল বৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত মুঠোফোন সেট শনাক্ত করা হবে, যেখানে কোনো হ্যান্ডসেট ডিরেজিস্ট্রেশন বা বন্ধের ব্যবস্থা থাকবে না। দ্বিতীয় ধাপে ডি-রেজিস্ট্রেশন বা ফোন বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা নিশ্চিত করবে যে ডিভাইসের প্রকৃত মালিকরাই সেটি ব্যবহার করছেন। তবে পরে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ফিচার বাদ রাখা হয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সরকার রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবও খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে বৈধ সেট সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে অবৈধ ফোন বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়। এই কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে দেশের স্থানীয় কারখানাগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম মানের স্মার্টফোন সংযোজন করে। তবে অ্যাপল, স্যামসাং বা শাওমির মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর জটিল যন্ত্রাংশ ও সীমিত বাজার চাহিদার কারণে স্থানীয়ভাবে এগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত বছর সরকার বৈধ ফোনের দাম কমানোর জন্য শুল্ক কমালেও বাজারে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। শুল্ক কমলেও মুঠোফোনের দাম কি আদৌ কমবে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক প্রিমিয়াম মডেল স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তবে বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি। নিজের মুঠোফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে মন্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব।

উল্টো বছরের শুরুতে যে স্মার্টফোন ১৩ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেপ্টেম্বর নাগাদ তার দাম বেড়ে ১৮ হাজার টাকায় ঠেকেছে। উৎপাদকদের শঙ্কা, বছরের শেষ নাগাদ এ ধরনের ফোনের দাম ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। স্যামসাং ব্র্যান্ডের এ দেশীয় পরিবেশক এক্সেল টেলিকমের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন টিপু জানান, মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণেই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুল্ক কমানোর আগেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বিশ্বে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেমোরি চিপ উৎপাদন করে।

বৈধ মুঠোফোন উৎপাদকদের দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া আনঅফিশিয়াল ফোনের অন্তত ৭৫ শতাংশই মূলত রিফার্বিশড বা ব্যবহৃত সেট। এসব ফোনে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের নিশ্চয়তা না থাকলেও দামের কারণে গ্রাহক এগুলোর প্রতি ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোনের দাম হাতের নাগালে না আনা গেলে এনইআইআর প্রকল্পটি বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হবে। গ্রাহকেরা তাই দাম বৃদ্ধির খড়্গ এড়াতে এমন ফোনে ঝুঁকছে। একটি বৈধ ফোনসেট কিনে সেটি গ্রাহক যতটা মেয়াদে ব্যবহার করতে পারেন, আনঅফিশিয়াল ফোনে সেই মেয়াদ তাঁরা পাচ্ছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও ব্যাটারির মতো খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেশীয় বাজারে সেটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শুধু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অবৈধ বাজারের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

লেবাননে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

অবৈধ মুঠোফোন বন্ধে তৃতীয়বার উদ্যোগ: দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ সরকারের

আপডেট সময় ১২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অবৈধ মুঠোফোন সেট বাজার থেকে নির্মূল করতে তৃতীয়বারের মতো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বৈধ মুঠোফোন সেটের দাম না কমিয়ে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে না। একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায়ও ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, বৈধ ও অবৈধ ফোনসেটের দামের ব্যবধান কমে এলে ক্রেতারা বৈধ পথে আমদানি করা সেট কিনতে উৎসাহিত হবেন।

এনইআইআর হলো একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার, যার মাধ্যমে মুঠোফোন নেটওয়ার্কে আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) যাচাই করে অবৈধ বা চুরি হওয়া সেটগুলো চিহ্নিত ও বন্ধ করা হয়। দেশে বর্তমানে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’—এই দুই ধরনের ফোনসেট বিক্রি হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে আমদানি করা ফোনগুলো তুলনামূলক সস্তায় পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এগুলোর চাহিদা বেশি, যার ফলে সরকার প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আশঙ্কা করছে। পরে অবৈধ ফোনসেটের কারণে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনইআইআর পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এক দশকে দেশে মুঠোফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্প গড়ে উঠেছে। ফলে সল্পমেয়াদে সুবিধা পেতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এই প্রবণতা রুখতে ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থাটি পুরোপুরি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সব ফিচারসহ এনইআইআর চালুর প্রস্তুতি থাকলেও বিক্রেতাদের বিক্ষোভ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিবেচনায় পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ৯ জুন এনএসআই এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এটি চালুর সুপারিশ করা হয়। এরপর ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনার বিষয় রয়েছে।

বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কেবল বৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত মুঠোফোন সেট শনাক্ত করা হবে, যেখানে কোনো হ্যান্ডসেট ডিরেজিস্ট্রেশন বা বন্ধের ব্যবস্থা থাকবে না। দ্বিতীয় ধাপে ডি-রেজিস্ট্রেশন বা ফোন বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা নিশ্চিত করবে যে ডিভাইসের প্রকৃত মালিকরাই সেটি ব্যবহার করছেন। তবে পরে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ফিচার বাদ রাখা হয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সরকার রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবও খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে বৈধ সেট সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে অবৈধ ফোন বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়। এই কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে দেশের স্থানীয় কারখানাগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম মানের স্মার্টফোন সংযোজন করে। তবে অ্যাপল, স্যামসাং বা শাওমির মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর জটিল যন্ত্রাংশ ও সীমিত বাজার চাহিদার কারণে স্থানীয়ভাবে এগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত বছর সরকার বৈধ ফোনের দাম কমানোর জন্য শুল্ক কমালেও বাজারে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। শুল্ক কমলেও মুঠোফোনের দাম কি আদৌ কমবে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক প্রিমিয়াম মডেল স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তবে বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি। নিজের মুঠোফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে মন্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব।

উল্টো বছরের শুরুতে যে স্মার্টফোন ১৩ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেপ্টেম্বর নাগাদ তার দাম বেড়ে ১৮ হাজার টাকায় ঠেকেছে। উৎপাদকদের শঙ্কা, বছরের শেষ নাগাদ এ ধরনের ফোনের দাম ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। স্যামসাং ব্র্যান্ডের এ দেশীয় পরিবেশক এক্সেল টেলিকমের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন টিপু জানান, মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণেই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুল্ক কমানোর আগেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বিশ্বে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেমোরি চিপ উৎপাদন করে।

বৈধ মুঠোফোন উৎপাদকদের দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া আনঅফিশিয়াল ফোনের অন্তত ৭৫ শতাংশই মূলত রিফার্বিশড বা ব্যবহৃত সেট। এসব ফোনে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের নিশ্চয়তা না থাকলেও দামের কারণে গ্রাহক এগুলোর প্রতি ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোনের দাম হাতের নাগালে না আনা গেলে এনইআইআর প্রকল্পটি বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হবে। গ্রাহকেরা তাই দাম বৃদ্ধির খড়্গ এড়াতে এমন ফোনে ঝুঁকছে। একটি বৈধ ফোনসেট কিনে সেটি গ্রাহক যতটা মেয়াদে ব্যবহার করতে পারেন, আনঅফিশিয়াল ফোনে সেই মেয়াদ তাঁরা পাচ্ছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও ব্যাটারির মতো খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেশীয় বাজারে সেটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শুধু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অবৈধ বাজারের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।