ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

কাতারে ফ্রি ভিসা ব্যবসায় তিন বছরের জেল ও ৫০

কাতারে আকামা বা রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা বেআইনিভাবে অবস্থান করছেন, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অবৈধ অবস্থানকারীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ওয়েবিনারে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি জানান, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে যদি অন্য কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি অভিযোগ না থাকে, তবে তারা স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করে দেশে ফেরার আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিরাপদে নিজ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওয়েবিনারে ফ্রি ভিসা ব্যবসা ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের শাস্তি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। মেজর আল-বুরাইদি স্পষ্ট করেন যে, বেআইনি ভিসা বা ফ্রি ভিসা কারবারে জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধ পরবর্তীতে আবার করলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রবেশ বা প্রস্থান পথ ছাড়া বেআইনিভাবে কাতার সীমান্ত অতিক্রম করলে তিন বছরের জেল এবং ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। কোনো কর্মী আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়নে ব্যর্থ হলে, প্রতি আকামার জন্য নিয়োগকর্তাকে ১০ হাজার রিয়াল করে জরিমানা দিতে হবে। একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

কর্মক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, ভিসার শর্ত ভেঙে অন্যত্র কাজ করা এবং আকামা নবায়ন না করার বিষয়ে নিয়মিত আইনি অভিযান চলছে। তবে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার মূলত একটি সাময়িক অবস্থানস্থল, কোনো শাস্তিমূলক কেন্দ্র নয়। দেশে ফেরার প্রক্রিয়া চলার সময় এখানে অবস্থানকারীদের ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত খাবার ও নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সার্বিক সুযোগ দেওয়া হয়। এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

রেসিডেনসি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সেবা নিতে পারেন। যেসব সমস্যার সমাধান এসব কেন্দ্রে সম্ভব নয়, সেগুলোর জন্য সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

কাতারে ফ্রি ভিসা ব্যবসায় তিন বছরের জেল ও ৫০

আপডেট সময় ১২:১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কাতারে আকামা বা রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা বেআইনিভাবে অবস্থান করছেন, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অবৈধ অবস্থানকারীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ওয়েবিনারে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি জানান, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে যদি অন্য কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি অভিযোগ না থাকে, তবে তারা স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করে দেশে ফেরার আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিরাপদে নিজ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওয়েবিনারে ফ্রি ভিসা ব্যবসা ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের শাস্তি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। মেজর আল-বুরাইদি স্পষ্ট করেন যে, বেআইনি ভিসা বা ফ্রি ভিসা কারবারে জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধ পরবর্তীতে আবার করলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রবেশ বা প্রস্থান পথ ছাড়া বেআইনিভাবে কাতার সীমান্ত অতিক্রম করলে তিন বছরের জেল এবং ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। কোনো কর্মী আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়নে ব্যর্থ হলে, প্রতি আকামার জন্য নিয়োগকর্তাকে ১০ হাজার রিয়াল করে জরিমানা দিতে হবে। একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

কর্মক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, ভিসার শর্ত ভেঙে অন্যত্র কাজ করা এবং আকামা নবায়ন না করার বিষয়ে নিয়মিত আইনি অভিযান চলছে। তবে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার মূলত একটি সাময়িক অবস্থানস্থল, কোনো শাস্তিমূলক কেন্দ্র নয়। দেশে ফেরার প্রক্রিয়া চলার সময় এখানে অবস্থানকারীদের ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত খাবার ও নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সার্বিক সুযোগ দেওয়া হয়। এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

রেসিডেনসি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সেবা নিতে পারেন। যেসব সমস্যার সমাধান এসব কেন্দ্রে সম্ভব নয়, সেগুলোর জন্য সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।