ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক সংকটে এভিয়েশন খাত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইটগুলো একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রুটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো এই সংকটে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট রুটের মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪২টি এবং ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট ৬১টি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো স্থগিত ও বাতিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস, ফোন কল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর ভিসা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো তাদেরকে সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি এম্বাসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা।

এদিকে আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম দীর্ঘ দুই দশক ধরে রিয়াদে বসবাস করছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর দুই বছরের ছুটিতে দেশে আসা এই প্রবাসীর গতকালই ফেরার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি অতিরিক্ত প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ করে মদিনার একটি ফ্লাইটে টিকিট রূপান্তর করেছেন। এছাড়া পরিবার নিয়ে ঢাকায় অতিরিক্ত দিন হোটেলে থাকা বাবদ আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে তার। এবারও যথারীতি প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে আসেন গত ১২ সেপ্টেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার ফিরতি ফ্লাইট। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চলমান পরিস্থিতি এক বিশাল আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইকামা ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের ভয়, অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি ও কফিল বা নিয়োগকর্তার চাপে তারা এখন অতিষ্ঠ।

নূরুল ইসলামের মতো সচ্ছল ব্যক্তিরা বাড়তি খরচ সামাল দিতে পারলেও অধিকাংশ প্রবাসীর সেই সামর্থ্য নেই। চাঁদপুরের আবু তালেব জানান, আগামী ২০ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে না পারলে তার চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণ করে হলেও বিকল্প উপায়ে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। টিকিটের তারিখ পরিবর্তন কিংবা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে প্রতিদিন রাজধানীর বলাকা ভবনে প্রবাসীদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। দাম্মাম বা জেদ্দার ফ্লাইটেরও নিশ্চয়তা নেই। এদের অনেকেই বাড়তি খরচ দিয়ে বিকল্প পথে যাত্রা নিশ্চিত করতে গিয়ে ধারদেনায় পড়েছেন। অনেকে যেতে না পারলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। আবার কারো কারো ভিসার মেয়াদই শেষ হওয়ার পথে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এভিয়েশন ব্যবসায়ে মন্দা চলছিল। এখন নতুন করে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রাজস্ব আয়ে বড় ধস নেমেছে। বেবিচক থেকে এয়ারলাইনসগুলোকে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সহায়তার নির্দেশনা দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতেই ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে এভিয়েশন ব্যবসায় চরম মন্দাবস্থা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পর্যটন সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কমিটিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ থাকবে।

এদিকে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাইজ শহরে চলমান সংঘর্ষের কারণে প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তথ্যমতে, গত পহেলা অক্টোবর থেকে কিং খালেদ বিমানবন্দরে কুড়িটির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। হুথিদের গোলাবর্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় শহরটিতে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। এছাড়া সরকারি বাহিনী হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশেও সংঘর্ষ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, তাইজের দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ফলে হতাহত ও দখল করা এলাকার বিষয়ে দুই পক্ষের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত জানতে সৌদিকে চিঠি

সৌদি ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক সংকটে এভিয়েশন খাত

আপডেট সময় ০৮:০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইটগুলো একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রুটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো এই সংকটে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট রুটের মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪২টি এবং ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট ৬১টি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো স্থগিত ও বাতিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস, ফোন কল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর ভিসা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো তাদেরকে সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি এম্বাসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা।

এদিকে আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম দীর্ঘ দুই দশক ধরে রিয়াদে বসবাস করছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর দুই বছরের ছুটিতে দেশে আসা এই প্রবাসীর গতকালই ফেরার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি অতিরিক্ত প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ করে মদিনার একটি ফ্লাইটে টিকিট রূপান্তর করেছেন। এছাড়া পরিবার নিয়ে ঢাকায় অতিরিক্ত দিন হোটেলে থাকা বাবদ আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে তার। এবারও যথারীতি প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে আসেন গত ১২ সেপ্টেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার ফিরতি ফ্লাইট। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চলমান পরিস্থিতি এক বিশাল আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইকামা ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের ভয়, অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি ও কফিল বা নিয়োগকর্তার চাপে তারা এখন অতিষ্ঠ।

নূরুল ইসলামের মতো সচ্ছল ব্যক্তিরা বাড়তি খরচ সামাল দিতে পারলেও অধিকাংশ প্রবাসীর সেই সামর্থ্য নেই। চাঁদপুরের আবু তালেব জানান, আগামী ২০ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে না পারলে তার চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণ করে হলেও বিকল্প উপায়ে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। টিকিটের তারিখ পরিবর্তন কিংবা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে প্রতিদিন রাজধানীর বলাকা ভবনে প্রবাসীদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। দাম্মাম বা জেদ্দার ফ্লাইটেরও নিশ্চয়তা নেই। এদের অনেকেই বাড়তি খরচ দিয়ে বিকল্প পথে যাত্রা নিশ্চিত করতে গিয়ে ধারদেনায় পড়েছেন। অনেকে যেতে না পারলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। আবার কারো কারো ভিসার মেয়াদই শেষ হওয়ার পথে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এভিয়েশন ব্যবসায়ে মন্দা চলছিল। এখন নতুন করে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রাজস্ব আয়ে বড় ধস নেমেছে। বেবিচক থেকে এয়ারলাইনসগুলোকে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সহায়তার নির্দেশনা দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতেই ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে এভিয়েশন ব্যবসায় চরম মন্দাবস্থা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পর্যটন সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কমিটিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ থাকবে।

এদিকে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাইজ শহরে চলমান সংঘর্ষের কারণে প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তথ্যমতে, গত পহেলা অক্টোবর থেকে কিং খালেদ বিমানবন্দরে কুড়িটির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। হুথিদের গোলাবর্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় শহরটিতে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। এছাড়া সরকারি বাহিনী হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশেও সংঘর্ষ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, তাইজের দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ফলে হতাহত ও দখল করা এলাকার বিষয়ে দুই পক্ষের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।