ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

নকলার ২০ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা

শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনকে ঘিরে শেরপুরের নকলা উপজেলায় শেষ মুহূর্তের নানা প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। নকলা একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও এবার মোট ২০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে উপজেলার ৪ নম্বর গৌড়দ্বার ও ৭ নম্বর টালকী ইউনিয়নে কোনো পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়নি।

এবারের পূজায় মণ্ডপভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৌরসভায় দুটি, ১ নম্বর ডিজিটাল গণপদ্দী ইউনিয়নে চারটি, ২ নম্বর নকলা ইউনিয়নে দুটি, ৩ নম্বর উরফা ইউনিয়নে তিনটি, ৫ নম্বর বানেশ্বরদী ইউনিয়নে একটি, ৬ নম্বর পাঠাকাটা ইউনিয়নে তিনটি, ৮ নম্বর চরঅষ্টধর ইউনিয়নে দুটি এবং ৯ নম্বর চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে তিনটি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

পূজার সময়সূচি ও শাস্ত্রীয় বিধান সম্পর্কে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নকলা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশীষ কুমার সাহা জানান, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হবে। পরদিন ১৭ অক্টোবর শনিবার নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন দেবী ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মণ্ডপে আগমন করবেন, শাস্ত্র মতে যার ফল ‘ছত্রভঙ্গন্তরঙ্গমে’।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর রোববার শুক্লা সপ্তমী বিহিত বিশেষ পূজা, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, মহাষ্টমী বিহিত পূজা ও সন্ধিপূজা এবং ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজার মাধ্যমে নবরাত্রিক ব্রত শেষ হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সমাপ্তি ঘটবে। এবার দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন, যা শাস্ত্র অনুযায়ী শস্য ও জলবৃদ্ধির বার্তা দেয়।

উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর জানান, বিচালি ও মাটি দিয়ে নির্মিত দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমায় কারিগররা পরম যত্নে রং করছেন। এবার প্রতিমাগুলোতে নতুন আঙ্গিক দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন সর্বধর্মের মানুষদের নিয়ে সভা করেছে এবং মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। তিনি জানান, পূজা নির্বিঘ্নে ও সর্বজনীনভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—মণ্ডপ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ কমিটিকে জানানো এ।

নকলা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালিমাতা মন্দির পূজামণ্ডপের সভাপতি উত্তম কুমার বণিক ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করতে এবার ভালো মানের কারিগর আনা হয়েছে, যাতে খরচ কিছুটা বেড়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন রং ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ চলছে। তারা একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ উৎসবের আশা করছেন।

উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন চন্দ্র শীল। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া, শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মানা এবং সব ধরনের অশ্লীলতা ও মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

এছাড়া নারী ও শিশু দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পৃথক যাতায়াত ও বসার ব্যবস্থা, সতর্কতার সঙ্গে প্রসাদ বিতরণ, বাসাবাড়ির নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সন্ধ্যার পর নারী ভক্তদের অহেতুক ঘোরাঘুরি নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমের শব্দদূষণ পরিহার, বিশেষ করে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পাশে উচ্চ শব্দ এড়ানো এবং স্থানীয় দরিদ্র সনাতনী পরিবারগুলোকে উপহারসামগ্রী দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শারদীয় উৎসব সর্বজনীন ও সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নারী দর্শনার্থীরা যাতে বহিরাগতদের দ্বারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক সংকটে এভিয়েশন খাত

নকলার ২০ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা

আপডেট সময় ০৭:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনকে ঘিরে শেরপুরের নকলা উপজেলায় শেষ মুহূর্তের নানা প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। নকলা একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও এবার মোট ২০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে উপজেলার ৪ নম্বর গৌড়দ্বার ও ৭ নম্বর টালকী ইউনিয়নে কোনো পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়নি।

এবারের পূজায় মণ্ডপভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৌরসভায় দুটি, ১ নম্বর ডিজিটাল গণপদ্দী ইউনিয়নে চারটি, ২ নম্বর নকলা ইউনিয়নে দুটি, ৩ নম্বর উরফা ইউনিয়নে তিনটি, ৫ নম্বর বানেশ্বরদী ইউনিয়নে একটি, ৬ নম্বর পাঠাকাটা ইউনিয়নে তিনটি, ৮ নম্বর চরঅষ্টধর ইউনিয়নে দুটি এবং ৯ নম্বর চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে তিনটি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

পূজার সময়সূচি ও শাস্ত্রীয় বিধান সম্পর্কে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নকলা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশীষ কুমার সাহা জানান, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হবে। পরদিন ১৭ অক্টোবর শনিবার নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন দেবী ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মণ্ডপে আগমন করবেন, শাস্ত্র মতে যার ফল ‘ছত্রভঙ্গন্তরঙ্গমে’।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর রোববার শুক্লা সপ্তমী বিহিত বিশেষ পূজা, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, মহাষ্টমী বিহিত পূজা ও সন্ধিপূজা এবং ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজার মাধ্যমে নবরাত্রিক ব্রত শেষ হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সমাপ্তি ঘটবে। এবার দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন, যা শাস্ত্র অনুযায়ী শস্য ও জলবৃদ্ধির বার্তা দেয়।

উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর জানান, বিচালি ও মাটি দিয়ে নির্মিত দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমায় কারিগররা পরম যত্নে রং করছেন। এবার প্রতিমাগুলোতে নতুন আঙ্গিক দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন সর্বধর্মের মানুষদের নিয়ে সভা করেছে এবং মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। তিনি জানান, পূজা নির্বিঘ্নে ও সর্বজনীনভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—মণ্ডপ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ কমিটিকে জানানো এ।

নকলা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালিমাতা মন্দির পূজামণ্ডপের সভাপতি উত্তম কুমার বণিক ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করতে এবার ভালো মানের কারিগর আনা হয়েছে, যাতে খরচ কিছুটা বেড়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন রং ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ চলছে। তারা একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ উৎসবের আশা করছেন।

উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন চন্দ্র শীল। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া, শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মানা এবং সব ধরনের অশ্লীলতা ও মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

এছাড়া নারী ও শিশু দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পৃথক যাতায়াত ও বসার ব্যবস্থা, সতর্কতার সঙ্গে প্রসাদ বিতরণ, বাসাবাড়ির নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সন্ধ্যার পর নারী ভক্তদের অহেতুক ঘোরাঘুরি নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমের শব্দদূষণ পরিহার, বিশেষ করে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পাশে উচ্চ শব্দ এড়ানো এবং স্থানীয় দরিদ্র সনাতনী পরিবারগুলোকে উপহারসামগ্রী দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শারদীয় উৎসব সর্বজনীন ও সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নারী দর্শনার্থীরা যাতে বহিরাগতদের দ্বারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।