ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি ফ্লাইট বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে ১০ হাজার প্রবাসীকর্মী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ১০৩টি ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন বিমানযাত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত এসব যাত্রীদের সিংহভাগই—প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ—প্রবাসীকর্মী। সে হিসাবে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার কর্মী। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়ারার কাছে আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী।

ফ্লাইট বাতিলের ফলে বহু কর্মী অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বিকল্প উপায়ে কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটিতে বাড়ি আসেন, আগামী ১ নভেম্বর তাঁর ভিসার মেয়াদের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। ১৬ অক্টোবরের রিয়াদগামী নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি জেদ্দাগামী ফ্লাইটের টিকিট কাটেন। সেখান থেকে আবার রিয়াদে যেতে তাঁর বাড়তি তিন থেকে চার হাজার টাকা গন্তব্য খরচ বেড়ে যাবে। একইভাবে টাঙ্গাইলের মো. আলমগীরের রিয়াদের টিকিট বাতিল হওয়ায় তাঁকে নামতে হচ্ছে মদিনায়, সেখান থেকে তাঁকে সড়কপথে পাড়ি দিতে হবে দাম্মামে। অন্যদিকে বাড়তি খরচের ভয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আলামিন এখনই সৌদিতে না গিয়ে যাত্রা স্থগিত রেখেছেন। আর চুয়াডাঙ্গার রুবেল রানা নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় সৌদি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে টিকিট বাবদ কাটা ৭৭ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পাবেন কি না তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ১৬ অক্টোবর রিয়াদ যাওয়ার টিকিট কাটলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান জানান, স্বাভাবিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাতায়াত করে থাকেন। টানা কয়েক দিন বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রবাসে আটকে পড়া বা যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সংগঠনটির আরেক সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান মনে করেন, ছুটি কাটাতে আসা কর্মীদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ বা অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকলে এই সংকটজনক মুহূর্তে নিখুঁত পরিসংখ্যান পাওয়া অনেক সহজ হতো। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বায়রার সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তবে প্রবাসীকর্মীদের স্পষ্ট তালিকা তৈরির বিষয়ে নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য হাতে না থাকার কারণ দেখিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফলে ফ্লাইট সংকট, টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া এবং কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার ভয়ে অনিশ্চিত দিন কাটছে প্রবাসীদের।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের সব ফ্লাইট স্থগিত

সৌদি ফ্লাইট বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে ১০ হাজার প্রবাসীকর্মী

আপডেট সময় ০৬:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ১০৩টি ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন বিমানযাত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত এসব যাত্রীদের সিংহভাগই—প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ—প্রবাসীকর্মী। সে হিসাবে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার কর্মী। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়ারার কাছে আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী।

ফ্লাইট বাতিলের ফলে বহু কর্মী অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বিকল্প উপায়ে কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটিতে বাড়ি আসেন, আগামী ১ নভেম্বর তাঁর ভিসার মেয়াদের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। ১৬ অক্টোবরের রিয়াদগামী নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি জেদ্দাগামী ফ্লাইটের টিকিট কাটেন। সেখান থেকে আবার রিয়াদে যেতে তাঁর বাড়তি তিন থেকে চার হাজার টাকা গন্তব্য খরচ বেড়ে যাবে। একইভাবে টাঙ্গাইলের মো. আলমগীরের রিয়াদের টিকিট বাতিল হওয়ায় তাঁকে নামতে হচ্ছে মদিনায়, সেখান থেকে তাঁকে সড়কপথে পাড়ি দিতে হবে দাম্মামে। অন্যদিকে বাড়তি খরচের ভয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আলামিন এখনই সৌদিতে না গিয়ে যাত্রা স্থগিত রেখেছেন। আর চুয়াডাঙ্গার রুবেল রানা নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় সৌদি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে টিকিট বাবদ কাটা ৭৭ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পাবেন কি না তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ১৬ অক্টোবর রিয়াদ যাওয়ার টিকিট কাটলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান জানান, স্বাভাবিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাতায়াত করে থাকেন। টানা কয়েক দিন বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রবাসে আটকে পড়া বা যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সংগঠনটির আরেক সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান মনে করেন, ছুটি কাটাতে আসা কর্মীদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ বা অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকলে এই সংকটজনক মুহূর্তে নিখুঁত পরিসংখ্যান পাওয়া অনেক সহজ হতো। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বায়রার সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তবে প্রবাসীকর্মীদের স্পষ্ট তালিকা তৈরির বিষয়ে নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য হাতে না থাকার কারণ দেখিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফলে ফ্লাইট সংকট, টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া এবং কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার ভয়ে অনিশ্চিত দিন কাটছে প্রবাসীদের।