আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতেই দেশজুড়ে যে উন্মাদনা, তার ঢেউ লেগেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও। জেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বাড়ির ছাদে কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উড়ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা। জার্সি বিক্রির দোকানগুলোতে ফুটবল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়, নতুন জার্সি গায়ে চাপিয়ে চলছে বন্ধুদের সঙ্গে ফটোসেশন।
তবে এই চেনা ফুটবল উন্মাদনার মাঝে অন্যরকম এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা-চান্দপুর গ্রামের যুবক রুবেল মিয়া। তিনি নিজের পুরো বাড়িটিকেই রূপ দিয়েছেন ব্রাজিলের পতাকায়। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ নামে।
সরেজমিনে ছতুরা-চান্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই চোখ ধাঁধিয়ে দেয় হলুদ আর সবুজ রঙের এক দৃষ্টিনন্দন মেলবন্ধন। রুবেল তার পুরো মূল ভবন এবং সীমানা প্রাচীর রাঙিয়েছেন ব্রাজিলের পতাকার আদলে। সীমানা দেয়ালে নিপুণ তুলির আঁচড়ে আঁকা হয়েছে নেইমারসহ ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের ছবি।
তবে ব্রাজিলের এই হলুদ-সবুজের মহাসমারোহের ভেতরেও রুবেল ভোলেননি নিজের দেশকে। বাড়ির প্রধান ভবনের ঠিক ওপরের অংশে বেশ বড় করে এঁকে রেখেছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা।
ব্যতিক্রমী এই বাড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ছুটে আসছেন রুবেলের আঙিনায়। কেউ তুলছেন সেলফি, কেউ বা করছেন ভিডিও। শুধু ব্রাজিলের অন্ধ ভক্তরাই নন, অন্য দলের সমর্থকেরাও রুবেলের এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুরো উপজেলায় এমন বাড়ি আর দ্বিতীয়টি নেই, এই বাড়ির কারণেই এখন তাদের গ্রামের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাড়ির মালিক রুবেল মিয়া নিজের এই আবেগের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে ব্রাজিলের ছন্দ আর খেলা আমার ভীষণ পছন্দ। মনের ভেতরে দলটির জন্য অন্যরকম একটা ভালোবাসা কাজ করে। সেই ভালোবাসা থেকেই এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাড়িটি নতুন করে রাঙানোর সিদ্ধান্ত নিই। টানা ১৬ দিন ধরে নিখুঁতভাবে রঙ ও খেলোয়াড়দের ছবি আঁকার কাজ চলেছে। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।’
শখের এই ‘ব্রাজিল বাড়ি’ তৈরি করতে রুবেলের পকেট গেছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















