ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মানির পতাকা বানালেন মাগুরার আমজাদ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে আলোচনায় আসেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে গত দুই দশক ধরে তিনি তৈরি করে আসছেন বিশাল আকৃতির জার্মানির পতাকা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা, যা এ পর্যন্ত তাঁর তৈরি সবচেয়ে বড় পতাকা।

বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন (৭৪) পেশায় একজন কৃষক। বিশ্বকাপ এলেই নিজের সামর্থ্য ও ভালোবাসা থেকে তৈরি করেন জার্মানির বিশাল পতাকা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন শুধু মাগুরা বা বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে।

আমজাদের পতাকা তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সে সময় জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় ৩৫০ গজ দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা।

আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৪-০৫ সালের দিকে তিনি জটিল এক রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানিতে তৈরি একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবন করেন। এরপর সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয়। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পতাকা তৈরি শুরু করেন।

তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। পতাকা তৈরির ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে পরিবারের সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন তিনি। ওই বছর পতাকা তৈরিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। জার্মানি বিশ্বকাপ জেতার পর আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরু জবাই করে মেজবানেরও আয়োজন করেছিলেন তিনি।

আমজাদের এই অনন্য উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তাঁর তৈরি পতাকার উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আমজাদ হোসেন বলেন,’আমি ভালোবাসা থেকেই এসব করি। কখনো কারও কাছে সাহায্য চাইনি। এবার আমার সন্তানেরাই পতাকা তৈরির খরচ বহন করেছে। আমি এই পতাকাটি জার্মান দূতাবাসকে উপহার দিতে চাই। তারা চাইলে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করতে পারে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী। তাঁর আশা, সুস্থ থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করবেন। এরপর সেই পতাকাটি জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মানির পতাকা বানালেন মাগুরার আমজাদ

আপডেট সময় ০৫:০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে আলোচনায় আসেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে গত দুই দশক ধরে তিনি তৈরি করে আসছেন বিশাল আকৃতির জার্মানির পতাকা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা, যা এ পর্যন্ত তাঁর তৈরি সবচেয়ে বড় পতাকা।

বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন (৭৪) পেশায় একজন কৃষক। বিশ্বকাপ এলেই নিজের সামর্থ্য ও ভালোবাসা থেকে তৈরি করেন জার্মানির বিশাল পতাকা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন শুধু মাগুরা বা বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে।

আমজাদের পতাকা তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সে সময় জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় ৩৫০ গজ দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা।

আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৪-০৫ সালের দিকে তিনি জটিল এক রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানিতে তৈরি একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবন করেন। এরপর সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয়। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পতাকা তৈরি শুরু করেন।

তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। পতাকা তৈরির ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে পরিবারের সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন তিনি। ওই বছর পতাকা তৈরিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। জার্মানি বিশ্বকাপ জেতার পর আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরু জবাই করে মেজবানেরও আয়োজন করেছিলেন তিনি।

আমজাদের এই অনন্য উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তাঁর তৈরি পতাকার উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আমজাদ হোসেন বলেন,’আমি ভালোবাসা থেকেই এসব করি। কখনো কারও কাছে সাহায্য চাইনি। এবার আমার সন্তানেরাই পতাকা তৈরির খরচ বহন করেছে। আমি এই পতাকাটি জার্মান দূতাবাসকে উপহার দিতে চাই। তারা চাইলে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করতে পারে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী। তাঁর আশা, সুস্থ থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করবেন। এরপর সেই পতাকাটি জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবেন।