ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান : জাতিসংঘে শামা ওবায়েদ তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল সংবিধান সংশোধন: প্রতিশ্রুতি ছাড়া কমিটিতে থাকতে চায় না জামায়াত পশ্চিমবঙ্গে জোট নয়; ‘একলা লড়াই’র ডাক রাহুল গান্ধীর বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি চায় পুলিশ পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৮ সেনা নিহত হয় চুক্তি করবে, না হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে: ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা পরিমার্জন হচ্ছে ২০২৭ সালের পাঠ্যবই, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস: এনসিটিবি চেয়ারম্যান কৃষক কার্ডে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা: চিফ হুইপ

মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে তিনি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার হিফজ খানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় আলী হোসেন কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেয়।

এই ঘটনায় সেদিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ।

তদন্ত শেষে তিনি আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রতন বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এসব অপরাধ দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মৃত্যু নিয়ে এমন ব্যবসা ঠিক না’, কারিনার মৃত্যুর গুজবে কায়সার হামিদের ক্ষোভ

মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:২২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে তিনি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার হিফজ খানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় আলী হোসেন কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেয়।

এই ঘটনায় সেদিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ।

তদন্ত শেষে তিনি আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রতন বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এসব অপরাধ দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।