আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের নেতা ওয়াহিদুল মৃধা ওরফে কেলিস (৩৮)। শনিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে দুর্গাপুর পৌর সদরে তেরি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ (২৭) তেরী বাজার এলাকার লন্ড্রি ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে রোববার নূর মোহাম্মদ, মাজেদুল ইসলাম, নূরুন্নাহার বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওইদিন রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার তেরী বাজারের লন্ড্রি ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের ছেলে নূর মোহাম্মদ বেশ কিছুদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের জেরে ওয়াহিদুল মৃধার ওপর শনিবার রাতে নূর মোহাম্মদ অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হসপাতালে রেফার করেন। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পুলিশ রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদকে নেত্রকোনা জেলা শহরের মালনী ও মাজেদুল ইসলাম, নূরুন্নাহার বেগমকে দুর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত ও জঘন্যতম অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রত দোষীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ জানান, এ ঘটনার সাতজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















