ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে: দুদু সৌদির আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্য হয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন ট্রাম্প তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি শাপলা চত্বর গণহত্যার তথ্য লুকানোর অভিযোগে দীপু মনিসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত:চিফ প্রসিকিউটর পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশে ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বা : অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

স্কুলপড়ুয়া ৩০ শিশুকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিল পথকুকুর, গ্রামজুড়ে শোক

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সাধারণ এক সকাল হঠাৎই পরিণত হয় আতঙ্কে। ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়ায় একটি পথকুকুর। নিজের জীবন দিয়ে ৩০ স্কুলপড়ুয়া শিশুকে রক্ষা করে যায় সে।

ভারতের ওডিশা রাজ্যের ময়ূরভঞ্জ জেলার ধিরাকুলা গ্রামে এই হৃদয়ছোঁয়া ঘটনাটি ঘটেছে। ‘কালী’ নামের একটি পথকুকুর বিষধর সাপের সঙ্গে লড়াই করে প্রায় ৩০ জন স্কুলপড়ুয়া শিশুর জীবন বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ দিয়েছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে গ্রামের ‘শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যা মন্দির’ এর সামনে কিন্ডারগার্টেনের শিশুরা খোলা জায়গায় বসে ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অজান্তেই একটি বিষধর সাপ ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসে।

ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় কালী। মুহূর্তেই সে সাপটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় লড়াই। একদিকে বিষধর সাপ, অন্যদিকে একা একটি কুকুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালী বারবার সাপটিকে আক্রমণ করে। এ সময় সাপের দংশনে সে নিজেও আহত হয়। তবুও পিছু হটেনি। শেষ পর্যন্ত সাপটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয় কালী।

তবে মুখে দংশনের কারণে বিষে আক্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণ পরই মারা যায় সে।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, কালী না থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সে শিশুদের বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে।

ঘটনার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যে কুকুরটিকে প্রতিদিন অবহেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত, সেই কালীই হয়ে ওঠে সবার কাছে এক অভিভাবক।

গ্রামবাসীরা তাকে সম্মান জানাতে আবেগঘন শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। সাদা কাপড়ে জড়িয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে শোকযাত্রার মাধ্যমে তাকে বিদায় জানানো হয়। নারী, পুরুষ, শিশু—সবাই অংশ নেয় এই শোক মিছিলে।

বর্তমানে ভারতে পথকুকুর নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই কালীর এই আত্মত্যাগ নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। কোনো প্রশিক্ষণ বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কেবল সুরক্ষার প্রবৃত্তি থেকে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সে।

ধিরাকুলা গ্রামের মানুষের কাছে কালী এখন শুধু একটি কুকুর নয়, সে এক নিঃশব্দ অভিভাবক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া

স্কুলপড়ুয়া ৩০ শিশুকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিল পথকুকুর, গ্রামজুড়ে শোক

আপডেট সময় ০৫:২৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সাধারণ এক সকাল হঠাৎই পরিণত হয় আতঙ্কে। ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়ায় একটি পথকুকুর। নিজের জীবন দিয়ে ৩০ স্কুলপড়ুয়া শিশুকে রক্ষা করে যায় সে।

ভারতের ওডিশা রাজ্যের ময়ূরভঞ্জ জেলার ধিরাকুলা গ্রামে এই হৃদয়ছোঁয়া ঘটনাটি ঘটেছে। ‘কালী’ নামের একটি পথকুকুর বিষধর সাপের সঙ্গে লড়াই করে প্রায় ৩০ জন স্কুলপড়ুয়া শিশুর জীবন বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ দিয়েছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে গ্রামের ‘শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যা মন্দির’ এর সামনে কিন্ডারগার্টেনের শিশুরা খোলা জায়গায় বসে ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অজান্তেই একটি বিষধর সাপ ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসে।

ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় কালী। মুহূর্তেই সে সাপটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় লড়াই। একদিকে বিষধর সাপ, অন্যদিকে একা একটি কুকুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালী বারবার সাপটিকে আক্রমণ করে। এ সময় সাপের দংশনে সে নিজেও আহত হয়। তবুও পিছু হটেনি। শেষ পর্যন্ত সাপটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয় কালী।

তবে মুখে দংশনের কারণে বিষে আক্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণ পরই মারা যায় সে।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, কালী না থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সে শিশুদের বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে।

ঘটনার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যে কুকুরটিকে প্রতিদিন অবহেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত, সেই কালীই হয়ে ওঠে সবার কাছে এক অভিভাবক।

গ্রামবাসীরা তাকে সম্মান জানাতে আবেগঘন শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। সাদা কাপড়ে জড়িয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে শোকযাত্রার মাধ্যমে তাকে বিদায় জানানো হয়। নারী, পুরুষ, শিশু—সবাই অংশ নেয় এই শোক মিছিলে।

বর্তমানে ভারতে পথকুকুর নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই কালীর এই আত্মত্যাগ নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। কোনো প্রশিক্ষণ বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কেবল সুরক্ষার প্রবৃত্তি থেকে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সে।

ধিরাকুলা গ্রামের মানুষের কাছে কালী এখন শুধু একটি কুকুর নয়, সে এক নিঃশব্দ অভিভাবক।