ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে মোদি-শাহ’র পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সরোয়ার তুষার বিএনপি সরকার হাওয়ায় ভেসে আসেনি: আযম খান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির

মাঝ আকাশে বিমানেই জন্ম নিল শিশু!

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। শুক্রবার রাতে দেশটির ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান আটলান্টা থেকে পোর্টল্যান্ড যাচ্ছিল। অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে এক নারী যাত্রীর প্রসব বেদনা ওঠে। এরপর বিমানের মধ্যেই একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি পোর্টল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাত্র ২০ মিনিট আগে ওই যাত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে বিমানের মধ্যেই জন্ম নেয় ৫ দশমিক ৫ পাউন্ড ওজনের একটি সুস্থ কন্যাশিশু- যার নাম রাখা হয় ব্রিয়েল রেনে ব্লেয়ার।

শিশুটির মা অ্যাশলি ব্লেয়ার টেনেসি থেকে ওরেগনে নিজের মায়ের কাছে প্রসবের জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তার প্রসব বেদনা শুরু হয়ে যায়।

সৌভাগ্যবশত, বিমানে উপস্থিত ছিলেন দু’জন প্যারামেডিক- টিনা ফ্রিটজ ও কারিন পাওয়েল। তারা অন্য এক অসুস্থ যাত্রীকে সহায়তা করছিলেন, এমন সময় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ব্লেয়ারের বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তারা বুঝতে পারেন, ব্লেয়ার দ্রুত প্রসবের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

বিমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। তারপরও তারা বিচক্ষণতার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকে কম্বল সংগ্রহ করা হয় এবং একটি জুতার ফিতা ব্যবহার করে নবজাতকের নাড়ি বাঁধা হয়।

প্রসবের সময় বিমানটি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফ্লাইট ক্রুরা সবাইকে আসনে বসার নির্দেশ দিলেও প্যারামেডিকরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনবার জোরে চাপ দেওয়ার পরই শিশুটির জন্ম হয়।

বিমান রানওয়েতে নামার পর মা ও নবজাতককে দ্রুত পোর্টল্যান্ড এয়ারপোর্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণের জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু দু’জনই সুস্থ আছেন।

ডেল্টা এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে বিমানের ক্রু ও সহায়তাকারী যাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে নবজাতক ও তার পরিবারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে।

ঘটনাটি বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। সহায়তাকারী প্যারামেডিক টিনা ফ্রিটজ বলেন, “এ অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য স্মরণীয়। মনে হচ্ছে, আমরা এখন আজীবনের জন্য বন্ধু হয়ে গেছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

মাঝ আকাশে বিমানেই জন্ম নিল শিশু!

আপডেট সময় ০৮:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। শুক্রবার রাতে দেশটির ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান আটলান্টা থেকে পোর্টল্যান্ড যাচ্ছিল। অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে এক নারী যাত্রীর প্রসব বেদনা ওঠে। এরপর বিমানের মধ্যেই একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি পোর্টল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাত্র ২০ মিনিট আগে ওই যাত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে বিমানের মধ্যেই জন্ম নেয় ৫ দশমিক ৫ পাউন্ড ওজনের একটি সুস্থ কন্যাশিশু- যার নাম রাখা হয় ব্রিয়েল রেনে ব্লেয়ার।

শিশুটির মা অ্যাশলি ব্লেয়ার টেনেসি থেকে ওরেগনে নিজের মায়ের কাছে প্রসবের জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তার প্রসব বেদনা শুরু হয়ে যায়।

সৌভাগ্যবশত, বিমানে উপস্থিত ছিলেন দু’জন প্যারামেডিক- টিনা ফ্রিটজ ও কারিন পাওয়েল। তারা অন্য এক অসুস্থ যাত্রীকে সহায়তা করছিলেন, এমন সময় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ব্লেয়ারের বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তারা বুঝতে পারেন, ব্লেয়ার দ্রুত প্রসবের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

বিমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। তারপরও তারা বিচক্ষণতার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকে কম্বল সংগ্রহ করা হয় এবং একটি জুতার ফিতা ব্যবহার করে নবজাতকের নাড়ি বাঁধা হয়।

প্রসবের সময় বিমানটি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফ্লাইট ক্রুরা সবাইকে আসনে বসার নির্দেশ দিলেও প্যারামেডিকরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনবার জোরে চাপ দেওয়ার পরই শিশুটির জন্ম হয়।

বিমান রানওয়েতে নামার পর মা ও নবজাতককে দ্রুত পোর্টল্যান্ড এয়ারপোর্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণের জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু দু’জনই সুস্থ আছেন।

ডেল্টা এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে বিমানের ক্রু ও সহায়তাকারী যাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে নবজাতক ও তার পরিবারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে।

ঘটনাটি বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। সহায়তাকারী প্যারামেডিক টিনা ফ্রিটজ বলেন, “এ অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য স্মরণীয়। মনে হচ্ছে, আমরা এখন আজীবনের জন্য বন্ধু হয়ে গেছি।