ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

জামালপুরে শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ, সংকটাপন্ন রোগী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। তাঁর নানার বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রোগীর স্বজনেরা জানান, পেটে ব্যথার কারণে আফসানাকে গত কয়েক দিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়াই এবং পরিবারের বাধার মুখে আখি নামের একজন নার্স এ নেগেটিভধারী আফসানার শরীরে ও পজিটিভ রক্ত প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভুক্তভোগী রোগীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, আফসানার রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্ত প্রয়োগের জন্য চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনও দেননি। হঠাৎ করেই কর্তব্যরত নার্স রক্ত এনে শরীরে প্রয়োগ শুরু করেন। এ সময় বাধা দেওয়া হলে নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মায়ের অভিযোগ, প্রয়োগকৃত রক্ত “ও” পজিটিভ, কিন্তু তার মেয়ের রক্তের গ্রুপ “এ” নেগেটিভ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, অবজারভেশনে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলবশত “ও” পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরই অবশিষ্ট রক্ত প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

জামালপুরে শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ, সংকটাপন্ন রোগী

আপডেট সময় ১০:৪৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। তাঁর নানার বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রোগীর স্বজনেরা জানান, পেটে ব্যথার কারণে আফসানাকে গত কয়েক দিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়াই এবং পরিবারের বাধার মুখে আখি নামের একজন নার্স এ নেগেটিভধারী আফসানার শরীরে ও পজিটিভ রক্ত প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভুক্তভোগী রোগীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, আফসানার রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্ত প্রয়োগের জন্য চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনও দেননি। হঠাৎ করেই কর্তব্যরত নার্স রক্ত এনে শরীরে প্রয়োগ শুরু করেন। এ সময় বাধা দেওয়া হলে নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মায়ের অভিযোগ, প্রয়োগকৃত রক্ত “ও” পজিটিভ, কিন্তু তার মেয়ের রক্তের গ্রুপ “এ” নেগেটিভ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, অবজারভেশনে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলবশত “ও” পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরই অবশিষ্ট রক্ত প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান।