ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জামালপুরে শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ, সংকটাপন্ন রোগী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। তাঁর নানার বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রোগীর স্বজনেরা জানান, পেটে ব্যথার কারণে আফসানাকে গত কয়েক দিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়াই এবং পরিবারের বাধার মুখে আখি নামের একজন নার্স এ নেগেটিভধারী আফসানার শরীরে ও পজিটিভ রক্ত প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভুক্তভোগী রোগীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, আফসানার রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্ত প্রয়োগের জন্য চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনও দেননি। হঠাৎ করেই কর্তব্যরত নার্স রক্ত এনে শরীরে প্রয়োগ শুরু করেন। এ সময় বাধা দেওয়া হলে নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মায়ের অভিযোগ, প্রয়োগকৃত রক্ত “ও” পজিটিভ, কিন্তু তার মেয়ের রক্তের গ্রুপ “এ” নেগেটিভ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, অবজারভেশনে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলবশত “ও” পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরই অবশিষ্ট রক্ত প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে ফের আটক অভিজিৎ দীপকে

জামালপুরে শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ, সংকটাপন্ন রোগী

আপডেট সময় ১০:৪৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। তাঁর নানার বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রোগীর স্বজনেরা জানান, পেটে ব্যথার কারণে আফসানাকে গত কয়েক দিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়াই এবং পরিবারের বাধার মুখে আখি নামের একজন নার্স এ নেগেটিভধারী আফসানার শরীরে ও পজিটিভ রক্ত প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভুক্তভোগী রোগীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, আফসানার রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্ত প্রয়োগের জন্য চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনও দেননি। হঠাৎ করেই কর্তব্যরত নার্স রক্ত এনে শরীরে প্রয়োগ শুরু করেন। এ সময় বাধা দেওয়া হলে নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মায়ের অভিযোগ, প্রয়োগকৃত রক্ত “ও” পজিটিভ, কিন্তু তার মেয়ের রক্তের গ্রুপ “এ” নেগেটিভ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, অবজারভেশনে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলবশত “ও” পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরই অবশিষ্ট রক্ত প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান।