ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর সদরে কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ মোল্লা নামে এক যুবক।

মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে বাড়ির পাশের লিয়াকতের কলাবাগান থেকে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। এ সময় রক্তমাখা কোদাল পাওয়া যায় তার কাছে।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত কাবুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার আকাশ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা ফরিদপুরে যক্ষ্মা নিরাময় কেন্দ্রে চাকরি করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে তার চাকরি চলে যায়। এরপর গত কয়েক মাস যাবত আকাশ মোল্লা বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। মাঝে মধ্যেই এদিক সেদিক চলে যেতেন। তার বাবা ও পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে এনে অনেক সময় ঘরে আটকে রাখতেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে পারিবারিক নানা কারণে হতাশা থেকে সে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটে। আকাশ মোল্লা হঠাৎ ধারালো কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার ফুপু রাহেলা বেগম (৫০), দাদি আমেনা বেগম (৭৫) ও প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে আরেক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ

আপডেট সময় ০৫:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর সদরে কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ মোল্লা নামে এক যুবক।

মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে বাড়ির পাশের লিয়াকতের কলাবাগান থেকে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। এ সময় রক্তমাখা কোদাল পাওয়া যায় তার কাছে।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত কাবুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার আকাশ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা ফরিদপুরে যক্ষ্মা নিরাময় কেন্দ্রে চাকরি করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে তার চাকরি চলে যায়। এরপর গত কয়েক মাস যাবত আকাশ মোল্লা বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। মাঝে মধ্যেই এদিক সেদিক চলে যেতেন। তার বাবা ও পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে এনে অনেক সময় ঘরে আটকে রাখতেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে পারিবারিক নানা কারণে হতাশা থেকে সে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটে। আকাশ মোল্লা হঠাৎ ধারালো কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার ফুপু রাহেলা বেগম (৫০), দাদি আমেনা বেগম (৭৫) ও প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে আরেক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।