ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রাংকের ভেতর নারীর অর্ধগলিত মরদেহ, রহস্য উন্মোচন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুরের শ্রীবরদীতে একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ডলি আক্তার (৩৬) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার দুপুরে গ্রেফতার নিয়ামুল নাইম (২৬) ও তার স্ত্রী (২৪) আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অসামাজিক কাজে দর-কষাকষির কারণেই ডলি আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আজ বিকালে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডলি আক্তার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার কন্যা বলে জানা গেছে। আর খুনির বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়াতে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে আজ ভোরের দিকে ভাতশাল পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে নিয়ামুল নাইম ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জামালপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, হত্যার শিকার ওই নারী ও অভিযুক্ত নিয়ামুল দু’জনেই গাজীপুরে শ্রীপুরে আলাদা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত ৩০ মার্চ অফিস ছুটির পর সন্ধ্যায় দু’জনের সাথে প্রথম কথা হয়। একপর্যায়ে টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কাজের শর্তে নিয়ামুল ওই নারীকে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

বাসায় গিয়ে ডলি ২০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু নিয়ামুলের কাছে থাকা সাত হাজার টাকা দিতে চাইলে ডলি তা নেয়নি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিয়ামুল ডলির গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রাত ১০টার দিকে নিয়ামুল বাসার কাছেই তার স্ত্রীর অফিসে গিয়ে বাসায় নিয়ে আসে এবং ঘটনা খুলে বলে।তারপর স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশ গুম করতে ১ এপ্রিল সকালে পিকআপ করে লাশ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড় পাকা রাস্তার উপর ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা ট্রাংক দেখতে পেয়ে পুলিশেকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ট্রাংক খুলে তোশকে মোড়ানো হাত-পা বাঁধা একজন অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।

পরে জামালপুরের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলাম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডলির নাম পরিচয় বের করে। শুক্রবার সকালে ট্রাংক বহনকারী ওই পিকআপ ভ্যানটি শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রাম থেকে জব্দ করা। এরপর পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

শেরপুর-জামালপুরের দায়িত্বে থাকা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে শ্রীবরদী উপজেলার দুইজন মহলা পিকআপ ভ্যানে গাজীপুরের মাওনায় আসলে ভাড়া মিটিয়ে একজন লোক ওই ট্রাংকসহ পিকাআপ ভ্যানে ওঠে। তারপর শ্রীবরদীতে এসে নয়াপাড়ায় ট্রাংকটি রেখে গা ঢাকা দেয়। চালকের দেওয়া তথ্যমতে, চালক শুধুই ভাড়ার বিনিময়ে ট্রাংকসহ খুনিকে গাড়িতে উঠিয়েছিল। পিকাআপ ভ্যানের চালক আসামি হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাংকের ভেতর নারীর অর্ধগলিত মরদেহ, রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় ১১:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুরের শ্রীবরদীতে একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ডলি আক্তার (৩৬) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার দুপুরে গ্রেফতার নিয়ামুল নাইম (২৬) ও তার স্ত্রী (২৪) আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অসামাজিক কাজে দর-কষাকষির কারণেই ডলি আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আজ বিকালে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডলি আক্তার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার কন্যা বলে জানা গেছে। আর খুনির বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়াতে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে আজ ভোরের দিকে ভাতশাল পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে নিয়ামুল নাইম ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জামালপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, হত্যার শিকার ওই নারী ও অভিযুক্ত নিয়ামুল দু’জনেই গাজীপুরে শ্রীপুরে আলাদা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত ৩০ মার্চ অফিস ছুটির পর সন্ধ্যায় দু’জনের সাথে প্রথম কথা হয়। একপর্যায়ে টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কাজের শর্তে নিয়ামুল ওই নারীকে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

বাসায় গিয়ে ডলি ২০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু নিয়ামুলের কাছে থাকা সাত হাজার টাকা দিতে চাইলে ডলি তা নেয়নি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিয়ামুল ডলির গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রাত ১০টার দিকে নিয়ামুল বাসার কাছেই তার স্ত্রীর অফিসে গিয়ে বাসায় নিয়ে আসে এবং ঘটনা খুলে বলে।তারপর স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশ গুম করতে ১ এপ্রিল সকালে পিকআপ করে লাশ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড় পাকা রাস্তার উপর ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা ট্রাংক দেখতে পেয়ে পুলিশেকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ট্রাংক খুলে তোশকে মোড়ানো হাত-পা বাঁধা একজন অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।

পরে জামালপুরের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলাম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডলির নাম পরিচয় বের করে। শুক্রবার সকালে ট্রাংক বহনকারী ওই পিকআপ ভ্যানটি শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রাম থেকে জব্দ করা। এরপর পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

শেরপুর-জামালপুরের দায়িত্বে থাকা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে শ্রীবরদী উপজেলার দুইজন মহলা পিকআপ ভ্যানে গাজীপুরের মাওনায় আসলে ভাড়া মিটিয়ে একজন লোক ওই ট্রাংকসহ পিকাআপ ভ্যানে ওঠে। তারপর শ্রীবরদীতে এসে নয়াপাড়ায় ট্রাংকটি রেখে গা ঢাকা দেয়। চালকের দেওয়া তথ্যমতে, চালক শুধুই ভাড়ার বিনিময়ে ট্রাংকসহ খুনিকে গাড়িতে উঠিয়েছিল। পিকাআপ ভ্যানের চালক আসামি হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়েছেন।