আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটিকে ‘বিধ্বংসী পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে দশ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন!
শনিবার দেওয়া এই মন্তব্যটি প্রেসিডেন্টের সেই বক্তব্যের কয়েক দিন পরই এলো, যেখানে তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছিলেন যে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকসহ সব দিক থেকে এখন বিধ্বস্ত। তাদের রাডারব্যবস্থা শতভাগ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সামরিক শক্তি হিসেবে আমরা এখন অপ্রতিরোধ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যা ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপরিবহন এবং লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। পেন্টাগনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না কারণ ইরানও ক্রমাগত বিমান হামলার জবাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ২১ মার্চ ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি শর্তহীনভাবে খুলে না দিলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে দুই দিন পর তিনি জানান যে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে এবং সেই বিবেচনায় তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময়সীমা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই সময়সীমা আবারও বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উভয়পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাজ চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তার দেশ আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
এদিকে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাদের জন্য ভয়াবহ সামরিক অভিযান অপেক্ষা করছে। তার মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরান ইতোমধ্যেই পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইরানের হাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। শুক্রবার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুজন ক্রুর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এটিই চলমান যুদ্ধে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন কোনো বিমান হারানোর প্রথম ঘটনা। এ ছাড়া ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একটি মার্কিন এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট ভূপাতিত করার দাবিও করেছে।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ারফোর্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল জানান, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মার্কিন কোনো যুদ্ধবিমান সরাসরি লড়াইয়ের সময় ভূপাতিত হলো। বর্তমানে নিখোঁজ সেনাসদস্যকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















