আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর টানা আড়াই ঘণ্টা মুনসুরাবাদ বাজারে সংঘর্ষ হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় চার গ্রামের মানুষ।
সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, গ্রামবাসীসহ কমপক্ষে ১০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষ চলছে। মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে পাশের ৩ গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল নিয়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন।
প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, উভয়পক্ষের একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর টানা আড়াই ঘণ্টা মুনসুরাবাদ বাজারে সংঘর্ষ হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও আজ শনিবার সকাল থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ান ৪ গ্রামের মানুষ। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এবিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।
ওসি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়া হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















