ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সব ধরনের সংস্কার সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেই পরিচালিত হবে: আইনমন্ত্রী সিইসি শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এ দেশেরই ভূমিপুত্র এবং দেশেরই অংশ : মির্জা ফখরুল বিয়ে করেছেন সিমরিন লুবাবা মিরপুর-১০ থেকে তালতলা পর্যন্ত ৪ কিমি সড়ক ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন পার্থ ফায়ার করেছেন কিন্তু ব্যাক ফায়ার হয়ে গেছে: বিরোধী দলীয় নেতা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল, জামায়াতের উদ্দেশে পার্থ ‘প্রখ্যাত ক্রিকেটার ফোন করে বলেছিল, বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চাই’:রিজভী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন অফলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা

স্ত্রী বাবার বাড়ি, প্রেমিকাকে ডেকে এনে হত্যা করে থানায় গেলেন যুবক

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফের একবার দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ছায়া ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। নিজের বিবাহিত জীবন বাঁচাতে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ফ্রিজে ভরে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মীকে।

অভিযুক্ত ওই নৌবাহিনীর কর্মীর নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র (৩০)। তিনি বিশাখাপত্তনমের আইএনএস ডেগা-তে কর্মরত ছিলেন। নিহতের নাম পোলিপল্লি মৌনিকা (৩১)। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে মৌনিকার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রবীন্দ্রর। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায়। অবিবাহিত থাকাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে রবীন্দ্র অন্য এক নারীকে বিবাহ করেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।

রবীন্দ্রর দাবি, মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন এবং তাদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেল ও হেনস্তা করতেন।

তদন্তে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি গেলে রবীন্দ্র মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান। গত রবিবার বিকেলে মৌনিকা সেখানে গেলে দুজনের মধ্যে প্রবল বিবাদ শুরু হয়। বিবাদের একপর্যায়ে রাগের মাথায় রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছুরি অর্ডার করেন এবং মৌনিকার দেহ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করেন। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; রবীন্দ্র মৌনিকার দেহের ধড় অংশটি বাড়ির ফ্রিজের ভেতর লুকিয়ে রাখেন এবং পা ও কোমর একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে ফেলেন। মাথা এবং হাত দুটি তিনি অন্য একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন রবীন্দ্র। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ এবং ঘরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করলেও মৌনিকার কাটা মাথার খোঁজ এখনো মেলেনি।

পুলিশের সন্দেহ, মাথাটি অন্য কোথাও লোপাট করা হয়েছে। নিখোঁজ দেহাংশগুলো উদ্ধারের জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষ পুলিশ টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনাটি ২০২২ সালের দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর খুনের স্মৃতি নতুন করে উসকে দিয়েছে, যেখানে লিভ-ইন পার্টনার আফতাব পুনাওয়ালা একইভাবে শ্রদ্ধাকে খুন করে দেহ টুকরো করে ফ্রিজে রেখেছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী বাবার বাড়ি, প্রেমিকাকে ডেকে এনে হত্যা করে থানায় গেলেন যুবক

আপডেট সময় ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফের একবার দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ছায়া ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। নিজের বিবাহিত জীবন বাঁচাতে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ফ্রিজে ভরে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মীকে।

অভিযুক্ত ওই নৌবাহিনীর কর্মীর নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র (৩০)। তিনি বিশাখাপত্তনমের আইএনএস ডেগা-তে কর্মরত ছিলেন। নিহতের নাম পোলিপল্লি মৌনিকা (৩১)। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে মৌনিকার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রবীন্দ্রর। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায়। অবিবাহিত থাকাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে রবীন্দ্র অন্য এক নারীকে বিবাহ করেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।

রবীন্দ্রর দাবি, মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন এবং তাদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেল ও হেনস্তা করতেন।

তদন্তে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি গেলে রবীন্দ্র মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান। গত রবিবার বিকেলে মৌনিকা সেখানে গেলে দুজনের মধ্যে প্রবল বিবাদ শুরু হয়। বিবাদের একপর্যায়ে রাগের মাথায় রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছুরি অর্ডার করেন এবং মৌনিকার দেহ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করেন। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; রবীন্দ্র মৌনিকার দেহের ধড় অংশটি বাড়ির ফ্রিজের ভেতর লুকিয়ে রাখেন এবং পা ও কোমর একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে ফেলেন। মাথা এবং হাত দুটি তিনি অন্য একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন রবীন্দ্র। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ এবং ঘরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করলেও মৌনিকার কাটা মাথার খোঁজ এখনো মেলেনি।

পুলিশের সন্দেহ, মাথাটি অন্য কোথাও লোপাট করা হয়েছে। নিখোঁজ দেহাংশগুলো উদ্ধারের জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষ পুলিশ টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনাটি ২০২২ সালের দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর খুনের স্মৃতি নতুন করে উসকে দিয়েছে, যেখানে লিভ-ইন পার্টনার আফতাব পুনাওয়ালা একইভাবে শ্রদ্ধাকে খুন করে দেহ টুকরো করে ফ্রিজে রেখেছিলেন।