ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজ কেন্দ্রে হারলেন মির্জা আব্বাস নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার মুসলিম বিশ্বের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে হাজির এরদোয়ান বিএনপির বিজয় অনিবার্য, চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত সজাগ থাকুন আব্বাসের আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমাদের প্রার্থী-সমর্থকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে ভোটারদের নগদ টাকা বিতরণের সময় আটক ২ মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড়ে ৯ জনের প্রাণহানি ভোলা-২ আসনে বিএন‌পি-জামায়া‌তের ম‌ধ্যে উত্তেজনা: ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফলাফলের গেজেট হবে: আসিফ নজরুল

ভোটকেন্দ্রের সামনে নারী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মারপিট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

‎রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে মারপিট করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের সময় বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

‎হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তাকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দাঁড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি হাবিবাকে সজোরে একটি থাপ্পড় মারেন। এরপর হাবিবা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সামলে উঠে দাঁড়ালে আবারও তাকে থাপ্পড় মারা হয়। এরপর হাবিবার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে রক্ষা করেন। আরেক ব্যক্তি মারধর করা ব্যক্তিকে নিয়ে দূরে সরে যান।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যিনি মারধর করছিলেন, তার নাম রজব আলী। তিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।

‎ঘটনার পর দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে থাকেন হাবিবা। তখন তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন এবং ভোট চাইছিলেন এই বলে যে— আগে তিনি প্রচারণায় আসতে পারেননি, তারপরও ভোটাররা যেন তাকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন।

‎হাবিবা জানান, তার এই প্রচারণায় বাধা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা রজব আলী। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়।

‎হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, একজন নারী প্রার্থীর গায়ে এভাবে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঘটনা বলে তিনি দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। আমরা বিষয়টির বিচার চাইবো।

ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে হাবিবাকে একটি প্রাইভেটকারে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাবিবা জানান, মারধরের কারণে তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা রজব আলীকে পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের সামনে ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, রজব আলী তাদের দলের নেতা। কিন্তু এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেখানে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের কেউ রজব আলীর ফোন নম্বর দিতে চাননি।

‎রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া নিয়ে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু মারধরের ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিজ কেন্দ্রে হারলেন মির্জা আব্বাস

ভোটকেন্দ্রের সামনে নারী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মারপিট

আপডেট সময় ০৬:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

‎রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে মারপিট করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের সময় বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

‎হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তাকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দাঁড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি হাবিবাকে সজোরে একটি থাপ্পড় মারেন। এরপর হাবিবা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সামলে উঠে দাঁড়ালে আবারও তাকে থাপ্পড় মারা হয়। এরপর হাবিবার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে রক্ষা করেন। আরেক ব্যক্তি মারধর করা ব্যক্তিকে নিয়ে দূরে সরে যান।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যিনি মারধর করছিলেন, তার নাম রজব আলী। তিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।

‎ঘটনার পর দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে থাকেন হাবিবা। তখন তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন এবং ভোট চাইছিলেন এই বলে যে— আগে তিনি প্রচারণায় আসতে পারেননি, তারপরও ভোটাররা যেন তাকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন।

‎হাবিবা জানান, তার এই প্রচারণায় বাধা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা রজব আলী। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়।

‎হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, একজন নারী প্রার্থীর গায়ে এভাবে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঘটনা বলে তিনি দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। আমরা বিষয়টির বিচার চাইবো।

ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে হাবিবাকে একটি প্রাইভেটকারে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাবিবা জানান, মারধরের কারণে তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা রজব আলীকে পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের সামনে ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, রজব আলী তাদের দলের নেতা। কিন্তু এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেখানে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের কেউ রজব আলীর ফোন নম্বর দিতে চাননি।

‎রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া নিয়ে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু মারধরের ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।