ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড়ে ৯ জনের প্রাণহানি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মাদাগাস্কারের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় গেজানি। ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাস ও বর্ষণের কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি হয়েছে।’

মাদাগাস্কারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর বলেছে, গেজানি উপকূলীয় এলাকা ধ্বংস করার পর তাওমাসিনা বন্দরনগরীর আশপাশের একটি জেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ জন আহত হয়েছে।

তাওমাসিনা ও আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। হারিমাঙ্গা রানাইভো বলেন, ‘আমি এমন ভয়াবহ বাতাস কখনো অনুভব করিনি…দরজা এবং জানালা ধাতুর তৈরি, তবু তা ভয়াবহভাবে নড়ছে।’ এটি মাদাগাস্কারে এ বছরের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন আগে উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফিটিয়ার তাণ্ডবে ১৪ জন নিহত হয়েছিল। এ ছাড়া ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। গেজানি ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিমি বেগে স্থায়ী বাতাস বইয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং ঝোড়ো বাতাসের শক্তি প্রায় ২৭০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঘূর্ণিঝড় আসার আগে কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দেয় এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে।

মাদাগাস্কারের জাতীয় দুর্যোগ দপ্তর আগে সতর্ক করেছিল, তাওমাসিনার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সড়কগুলো প্লাবিত হচ্ছে। বাতাসের কারণে ঘর ভেঙে গেছে, ছাদ উড়ে গেছে, দেয়াল পড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় এলাকাগুলো অন্ধকারে ডুবে গেছে।

বুধবার সকালে মাদাগাস্কারের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গেজানি এখন মাঝারি শক্তির ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং রাজধানী অ্যান্টানানারিভোর ১০০ কিমি উত্তরে পশ্চিম দিকে চলে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড়ে ৯ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৪:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মাদাগাস্কারের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় গেজানি। ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাস ও বর্ষণের কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি হয়েছে।’

মাদাগাস্কারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর বলেছে, গেজানি উপকূলীয় এলাকা ধ্বংস করার পর তাওমাসিনা বন্দরনগরীর আশপাশের একটি জেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ জন আহত হয়েছে।

তাওমাসিনা ও আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। হারিমাঙ্গা রানাইভো বলেন, ‘আমি এমন ভয়াবহ বাতাস কখনো অনুভব করিনি…দরজা এবং জানালা ধাতুর তৈরি, তবু তা ভয়াবহভাবে নড়ছে।’ এটি মাদাগাস্কারে এ বছরের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন আগে উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফিটিয়ার তাণ্ডবে ১৪ জন নিহত হয়েছিল। এ ছাড়া ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। গেজানি ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিমি বেগে স্থায়ী বাতাস বইয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং ঝোড়ো বাতাসের শক্তি প্রায় ২৭০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঘূর্ণিঝড় আসার আগে কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দেয় এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে।

মাদাগাস্কারের জাতীয় দুর্যোগ দপ্তর আগে সতর্ক করেছিল, তাওমাসিনার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সড়কগুলো প্লাবিত হচ্ছে। বাতাসের কারণে ঘর ভেঙে গেছে, ছাদ উড়ে গেছে, দেয়াল পড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় এলাকাগুলো অন্ধকারে ডুবে গেছে।

বুধবার সকালে মাদাগাস্কারের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গেজানি এখন মাঝারি শক্তির ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং রাজধানী অ্যান্টানানারিভোর ১০০ কিমি উত্তরে পশ্চিম দিকে চলে যাচ্ছে।