ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজায় ফিরল ফুটবল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

দুই বছরের বেশি সময় পর গাজা উপত্যকায় আবারও মাঠে গড়াল সংগঠিত ফুটবল টুর্নামেন্ট। চারপাশে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ভাঙা দেয়াল আর স্তূপ হয়ে থাকা ইট-পাথরের মাঝেই অনুষ্ঠিত হলো ম্যাচ।

গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবস্থিত ছোট পাঁচ-এ-সাইড পিচে মুখোমুখি হয় জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা। ম্যাচটি ড্র হয়। একইভাবে বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় খেলাটিও সমতায় শেষ হয়। তবে ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ফুটবলের ফিরে আসা।

গাজায় পিচের পাশে জড়ো হওয়া দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে চেইন-লিংক বেড়া ঝাঁকান। কেউ ভাঙা কংক্রিটের দেয়ালে উঠে, কেউ ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে খেলা দেখার চেষ্টা করেন। ঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় ইউসুফ জেনদিয়া, যার এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রায় জনশূন্য ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মাঠে ফেরার অনুভূতি বর্ণনা করেন তিনি বলেন, ‘বিভ্রান্ত। খুশি, দুঃখী, আনন্দ সব একসঙ্গে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে মানুষ পানি, খাবার আর রুটি খুঁজে বেড়ায়। জীবন কঠিন। কিন্তু দিনের একটা সময় থাকে, যখন ফুটবল খেলতে এসে অন্তরের কিছু আনন্দ প্রকাশ করা যায়। তবে আনন্দ পুরোপুরি নয়। মাঠে এসে অনেক সতীর্থকে খুঁজে পাইনি, কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে। তাই আনন্দ অসম্পূর্ণ।’

চার মাস আগে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘর্ষ শেষ হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠন শুরু হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা খালি করে দিয়েছে। উপকূলবর্তী সরু এলাকায় ২০ লাখের বেশি মানুষ গাদাগাদি করে বাস করছে। অনেকে অস্থায়ী তাঁবুতে, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে।

এক সময়ের ৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গাজা সিটির ইয়ারমুক স্টেডিয়াম, যা অভিযানের সময় ধ্বংস করে আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, এখন সেখানে সাদা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।

এই সপ্তাহের টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ধসে পড়া দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অর্ধেক আকারের একটি মাঠ পরিষ্কার করে, বেড়া লাগায় এবং পুরোনো কৃত্রিম টার্ফ ঝাড়ু দিয়ে খেলার উপযোগী করে তোলে।

বেইত হানুনের ৩১ বছর বয়সী খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেন, ‘মাঠে নামার মধ্য দিয়ে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। যত ধ্বংস আর যুদ্ধই হোক, জীবন ও খেলা চলতেই থাকবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজায় ফিরল ফুটবল

আপডেট সময় ০১:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

দুই বছরের বেশি সময় পর গাজা উপত্যকায় আবারও মাঠে গড়াল সংগঠিত ফুটবল টুর্নামেন্ট। চারপাশে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ভাঙা দেয়াল আর স্তূপ হয়ে থাকা ইট-পাথরের মাঝেই অনুষ্ঠিত হলো ম্যাচ।

গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবস্থিত ছোট পাঁচ-এ-সাইড পিচে মুখোমুখি হয় জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা। ম্যাচটি ড্র হয়। একইভাবে বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় খেলাটিও সমতায় শেষ হয়। তবে ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ফুটবলের ফিরে আসা।

গাজায় পিচের পাশে জড়ো হওয়া দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে চেইন-লিংক বেড়া ঝাঁকান। কেউ ভাঙা কংক্রিটের দেয়ালে উঠে, কেউ ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে খেলা দেখার চেষ্টা করেন। ঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় ইউসুফ জেনদিয়া, যার এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রায় জনশূন্য ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মাঠে ফেরার অনুভূতি বর্ণনা করেন তিনি বলেন, ‘বিভ্রান্ত। খুশি, দুঃখী, আনন্দ সব একসঙ্গে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে মানুষ পানি, খাবার আর রুটি খুঁজে বেড়ায়। জীবন কঠিন। কিন্তু দিনের একটা সময় থাকে, যখন ফুটবল খেলতে এসে অন্তরের কিছু আনন্দ প্রকাশ করা যায়। তবে আনন্দ পুরোপুরি নয়। মাঠে এসে অনেক সতীর্থকে খুঁজে পাইনি, কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে। তাই আনন্দ অসম্পূর্ণ।’

চার মাস আগে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘর্ষ শেষ হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠন শুরু হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা খালি করে দিয়েছে। উপকূলবর্তী সরু এলাকায় ২০ লাখের বেশি মানুষ গাদাগাদি করে বাস করছে। অনেকে অস্থায়ী তাঁবুতে, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে।

এক সময়ের ৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গাজা সিটির ইয়ারমুক স্টেডিয়াম, যা অভিযানের সময় ধ্বংস করে আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, এখন সেখানে সাদা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।

এই সপ্তাহের টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ধসে পড়া দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অর্ধেক আকারের একটি মাঠ পরিষ্কার করে, বেড়া লাগায় এবং পুরোনো কৃত্রিম টার্ফ ঝাড়ু দিয়ে খেলার উপযোগী করে তোলে।

বেইত হানুনের ৩১ বছর বয়সী খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেন, ‘মাঠে নামার মধ্য দিয়ে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। যত ধ্বংস আর যুদ্ধই হোক, জীবন ও খেলা চলতেই থাকবে।’