ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে যা জানালো চীন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো এবং অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতার নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ সোমবার অস্বীকার করেছে বেইজিং। চীন অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন নিজস্ব পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার অজুহাত তৈরি করছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডিন্যানো অভিযোগ করেন, চীন এসব পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২২ জুন একটি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে তিনি দাবি করেন এবং বলেন, চীন বড় মাত্রার বিস্ফোরণক্ষমতা নিয়ে আরো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সরাসরি মিথ্যা। নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার জন্য অজুহাত বানানোর যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে চীন।’ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে’ আহ্বান জানানো হয়।

গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘সমান ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করবে। তবে তিনি কী ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে চান, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ডিন্যানোর মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি নতুন মার্কিন পরিকল্পনা উপস্থাপন করছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নতুন সীমা নির্ধারণ করা। ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর শেষ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। চীন ইতিমধ্যে ‘এই পর্যায়ে’ নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই সফরের সময় হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ গত রবিবার প্রচারিত হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (সি চিন পিং) বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের হিসেবে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার।’

২০২৬ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেই সফরের কয়েক মাস পরেই সি চিন পিং ফিরতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। সেখানে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আলী মামুদের লাশ উদ্ধার

গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে যা জানালো চীন

আপডেট সময় ১০:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো এবং অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতার নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ সোমবার অস্বীকার করেছে বেইজিং। চীন অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন নিজস্ব পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার অজুহাত তৈরি করছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডিন্যানো অভিযোগ করেন, চীন এসব পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২২ জুন একটি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে তিনি দাবি করেন এবং বলেন, চীন বড় মাত্রার বিস্ফোরণক্ষমতা নিয়ে আরো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সরাসরি মিথ্যা। নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার জন্য অজুহাত বানানোর যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে চীন।’ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে’ আহ্বান জানানো হয়।

গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘সমান ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করবে। তবে তিনি কী ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে চান, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ডিন্যানোর মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি নতুন মার্কিন পরিকল্পনা উপস্থাপন করছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নতুন সীমা নির্ধারণ করা। ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর শেষ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। চীন ইতিমধ্যে ‘এই পর্যায়ে’ নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই সফরের সময় হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ গত রবিবার প্রচারিত হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (সি চিন পিং) বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের হিসেবে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার।’

২০২৬ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেই সফরের কয়েক মাস পরেই সি চিন পিং ফিরতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। সেখানে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।’