ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম, ‘ভারতের জন্য জাতীয় লজ্জা’

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন গোপন নথি উন্মোচন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা নিয়ে বর্তমানে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এসব নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, হাজার হাজার ভিডিও এবং দেড় লাখেরও বেশি ছবি রয়েছে।

নথিতে মোদির নাম আসার পর শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে একে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বার্তায় জানান, জেফরি এপস্টেইনের একটি ‘কথিত’ ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০১৭ সালের দখলদার ইসরাইল সফরের উল্লেখ রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, ওই ঐতিহাসিক সফরের তথ্যটি সত্য হলেও বাকি সব দাবি এক দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। ভারতের মতে, এই নথিগুলোর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এগুলো কেবলই ‘জল ঘোলা করার’ অপচেষ্টা।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তারা বিষয়টিকে ভারতের জন্য ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এপস্টেইনের নথিতে লেখা আছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ‘পরামর্শ’ নিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তদানীন্তন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে ইসরাইলে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও এই নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনা ভারতের আন্তর্জাতিক সুনাম ও জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের এই নতুন প্রকাশনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক এবং বিল গেটসের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নামও পুনরায় সামনে এসেছে। জেফরি এপস্টেইন ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করলেও তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নথিপত্রগুলো আজও বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে প্রধানমন্ত্রীর নাম এই নথিতে যুক্ত হওয়া একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম, ‘ভারতের জন্য জাতীয় লজ্জা’

আপডেট সময় ০৪:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন গোপন নথি উন্মোচন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা নিয়ে বর্তমানে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এসব নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, হাজার হাজার ভিডিও এবং দেড় লাখেরও বেশি ছবি রয়েছে।

নথিতে মোদির নাম আসার পর শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে একে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বার্তায় জানান, জেফরি এপস্টেইনের একটি ‘কথিত’ ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০১৭ সালের দখলদার ইসরাইল সফরের উল্লেখ রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, ওই ঐতিহাসিক সফরের তথ্যটি সত্য হলেও বাকি সব দাবি এক দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। ভারতের মতে, এই নথিগুলোর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এগুলো কেবলই ‘জল ঘোলা করার’ অপচেষ্টা।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তারা বিষয়টিকে ভারতের জন্য ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এপস্টেইনের নথিতে লেখা আছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ‘পরামর্শ’ নিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তদানীন্তন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে ইসরাইলে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও এই নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনা ভারতের আন্তর্জাতিক সুনাম ও জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের এই নতুন প্রকাশনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক এবং বিল গেটসের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নামও পুনরায় সামনে এসেছে। জেফরি এপস্টেইন ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করলেও তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নথিপত্রগুলো আজও বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে প্রধানমন্ত্রীর নাম এই নথিতে যুক্ত হওয়া একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।