ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ দাবানলে ঝুঁকিতে ফ্রান্সের মিসাইল-রকেট মোটর কারখানা, স্পেনও সংকটে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ শুরু আগামী মাসে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে: পরিবেশমন্ত্রী শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী

বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এ বছর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা দেওয়া হবে নগরবাসীকে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ডিএমপি সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

এতে ডিএমপির পক্ষ থেকে পুলিশকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. সরওয়ার বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণের যে আস্থা সেটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে নিয়ে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে থাকে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই যোগ দিতে হবে। মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপনী স্টিকার বহন করে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ না করা, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্বেচ্ছাসেবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রোভার স্কাউট সদস্যদের পরামর্শ মেনে চলা, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করা এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রবীন্দ্র সরোবর, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ সব উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে। বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন আজ বাসসকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, পটকা, ক্ষতিকারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইট ইত্যাদি বহন থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

কোনো কারণে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত সাব-কন্ট্রোলরুম, কেন্দ্রীয় পুলিশ কন্ট্রোলরুম, রমনা, শাহবাগ, ধানমন্ডি, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীতে ব্যারিকেড ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির

আপডেট সময় ০৫:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এ বছর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা দেওয়া হবে নগরবাসীকে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ডিএমপি সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

এতে ডিএমপির পক্ষ থেকে পুলিশকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. সরওয়ার বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণের যে আস্থা সেটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে নিয়ে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে থাকে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই যোগ দিতে হবে। মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপনী স্টিকার বহন করে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ না করা, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্বেচ্ছাসেবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রোভার স্কাউট সদস্যদের পরামর্শ মেনে চলা, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করা এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রবীন্দ্র সরোবর, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ সব উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে। বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন আজ বাসসকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, পটকা, ক্ষতিকারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইট ইত্যাদি বহন থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

কোনো কারণে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত সাব-কন্ট্রোলরুম, কেন্দ্রীয় পুলিশ কন্ট্রোলরুম, রমনা, শাহবাগ, ধানমন্ডি, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীতে ব্যারিকেড ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।