ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল টিকা সংকটে হামের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

বাবার স্বপ্নপূরণে পালকিতে চড়ে বিয়ে

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

“পালকি” গ্রাম বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী বাহন। রাজ-বাদশাহর আমলে রানি কিংবা রাজকন্যাদের বাহন ছিল পালকি।

এরপর জমিদারসহ সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর নারীরা পালকিতেই যাতায়াত করতেন। পরে গ্রাম বাংলার বিয়ে, সুন্নতে খাৎনাসহ বিভিন্ন উৎসবে এ বাহন ব্যবহার করা হতো।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই পালকি। এখন শিশু-কিশোরদের ছড়া-কবিতার বই ছাড়া পালকির কথা কোথাও শোনা যায় না।

দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যেতে বসা পালকিতে চড়ে বিয়ে করলেন সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী চর ব্রাহ্মনগাঁতী গ্রামের যুবক সবুজ ইসলাম। বাবা শফিকুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণে চার বেহারার পালকিতে চড়েই বিয়ে করতে গেলেন তিনি। বিষয়টি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবার্টী ইউনিয়নের চর মিরাখোর গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের মেয়ে জলি খাতুনকে বিয়ে করেছেন সবুজ ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে বর পালকিতে চড়ে এসেছেন। এতে এলাকাবাসীও অবাক হয়েছে। ছেলে-বুড়োরা পালকি দেখতে ভিড় করেন। পালকিতে বরযাত্রা দেখতে এ সময় বিয়েবাড়ি ও আশপাশের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করেন উৎসুক জনতা। ডিজিটাল যুগে পালকিতে চড়ে বিয়ে দেখে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বর সবুজ ইসলাম বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই পালকিতে চড়ে বিয়ে করেছি। পালকি আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল এক সময়। যদিও সেটি এখন আর চোখে পড়ে না। প্রাইভেটকারসহ ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করেছি অনেক। কিন্তু পালকিতে চড়ে অনেক মজা পেয়েছি। বিশেষ করে চার বেহারা ছন্দে ছন্দে পালকি বয়ে চলেছেন-এটা বেশ ভালো লেগেছে।

বরের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দাদির স্বপ্ন ছিল তার নাতি অর্থাৎ আমি যেন পালকিতে চড়ে বিয়ে করি। কিন্তু আমার বিয়ের সময় বন্যা হওয়ার কারণে সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। দাদি মারা গেলেও তার কথা সব সময় মনে হতো আমার। তাই আমি সিদ্ধান্ত নেই, আমার বড় ছেলেকে পালকিতে চড়িয়ে বিয়ে করাব। অনেক খুঁজে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর এলাকা থেকে ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় পালকি এনেছি। প্রথমে আমি ও আমরা স্ত্রী নিজ এলাকায় পালকিতে চড়ে ঘুরেছি। তারপর আমার ছেলেকে বর সাজিয়ে বিয়ে করাতে গেছি।

বেহারাদের সর্দার পরেশ দাস বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর পালকির জন্য তেমন ডাক পড়ে না। তবে মাঝে মধ্যে ডাক পেলে খুব ভালো লাগে। সারা বছর কৃষিসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও পালকির জন্য ডাক পড়লেই সঙ্গীরা ছুটে আসে। প্রতিটি বরযাত্রায় দুই হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বাবার স্বপ্নপূরণে পালকিতে চড়ে বিয়ে

আপডেট সময় ১০:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

“পালকি” গ্রাম বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী বাহন। রাজ-বাদশাহর আমলে রানি কিংবা রাজকন্যাদের বাহন ছিল পালকি।

এরপর জমিদারসহ সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর নারীরা পালকিতেই যাতায়াত করতেন। পরে গ্রাম বাংলার বিয়ে, সুন্নতে খাৎনাসহ বিভিন্ন উৎসবে এ বাহন ব্যবহার করা হতো।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই পালকি। এখন শিশু-কিশোরদের ছড়া-কবিতার বই ছাড়া পালকির কথা কোথাও শোনা যায় না।

দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যেতে বসা পালকিতে চড়ে বিয়ে করলেন সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী চর ব্রাহ্মনগাঁতী গ্রামের যুবক সবুজ ইসলাম। বাবা শফিকুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণে চার বেহারার পালকিতে চড়েই বিয়ে করতে গেলেন তিনি। বিষয়টি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবার্টী ইউনিয়নের চর মিরাখোর গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের মেয়ে জলি খাতুনকে বিয়ে করেছেন সবুজ ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে বর পালকিতে চড়ে এসেছেন। এতে এলাকাবাসীও অবাক হয়েছে। ছেলে-বুড়োরা পালকি দেখতে ভিড় করেন। পালকিতে বরযাত্রা দেখতে এ সময় বিয়েবাড়ি ও আশপাশের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করেন উৎসুক জনতা। ডিজিটাল যুগে পালকিতে চড়ে বিয়ে দেখে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বর সবুজ ইসলাম বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই পালকিতে চড়ে বিয়ে করেছি। পালকি আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল এক সময়। যদিও সেটি এখন আর চোখে পড়ে না। প্রাইভেটকারসহ ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করেছি অনেক। কিন্তু পালকিতে চড়ে অনেক মজা পেয়েছি। বিশেষ করে চার বেহারা ছন্দে ছন্দে পালকি বয়ে চলেছেন-এটা বেশ ভালো লেগেছে।

বরের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দাদির স্বপ্ন ছিল তার নাতি অর্থাৎ আমি যেন পালকিতে চড়ে বিয়ে করি। কিন্তু আমার বিয়ের সময় বন্যা হওয়ার কারণে সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। দাদি মারা গেলেও তার কথা সব সময় মনে হতো আমার। তাই আমি সিদ্ধান্ত নেই, আমার বড় ছেলেকে পালকিতে চড়িয়ে বিয়ে করাব। অনেক খুঁজে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর এলাকা থেকে ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় পালকি এনেছি। প্রথমে আমি ও আমরা স্ত্রী নিজ এলাকায় পালকিতে চড়ে ঘুরেছি। তারপর আমার ছেলেকে বর সাজিয়ে বিয়ে করাতে গেছি।

বেহারাদের সর্দার পরেশ দাস বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর পালকির জন্য তেমন ডাক পড়ে না। তবে মাঝে মধ্যে ডাক পেলে খুব ভালো লাগে। সারা বছর কৃষিসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও পালকির জন্য ডাক পড়লেই সঙ্গীরা ছুটে আসে। প্রতিটি বরযাত্রায় দুই হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়।